শ্রমবাজারে সংকট

17

কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়াতে হবে
মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের শ্রমবাজার তছনছ হয়ে যাচ্ছে করোনার অশুভ প্রভাবে। সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবে করোনাকালে নতুনভাবে কোনো বিদেশি শ্রমিককে কাজে নেওয়া হবে না। তেলের বাজারে মন্দার কারণে গত কয়েক বছর ধরে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগে রক্ষণশীল নীতি গ্রহণ করেছে সৌদি সরকার। এ বছর করোনাজনিত মন্দার প্রভাবে সে দেশে ১২ লাখ বিদেশি শ্রমিক চাকরি হারাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবে গত তিন মাসে অন্তত ১ লাখের বেশি মানুষের যাওয়া আটকে গেছে। এর প্রায় অর্ধেক ছুটি কাটাতে দেশে এসে ফিরতে পারেননি। এর বাইরে তিন মাসে সৌদি আরবে যাওয়ার কথা ছিল এমন শ্রমিকের সংখ্যাও ৫০ হাজারের বেশি। অন্যতম শ্রমবাজার কুয়েতে দুর্নীতির বরপুত্র এক বাংলাদেশি এমপির অসততা ও ঘুষকা- ধরা পড়ায় বাংলাদেশ থেকে লোক নিয়োগে দেশটি নিরুৎসাহিত হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একদিকে জ্বালানি তেলের দামে ধস, অন্যদিকে করোনার কারণে আরব আমিরাত ও কাতারে সংকুচিত হয়ে পড়েছে শ্রমবাজার। মধ্যপ্রাচ্যে যেসব বাংলাদেশি কর্মরত আছেন তারাও নেই শান্তিতে। ইংরেজি দৈনিক সৌদি গেজেটে এক গবেষণা সংস্থার বরাত দিয়ে বলা হয়- নির্মাণ খাত, পর্যটন (হজ), রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন খাতে বিপুলসংখ্যক কর্মচ্যুতি ঘটতে পারে। সৌদি আরবের মতো পুরো মধ্যপ্রাচ্যে জীবন-জীবিকা নিয়ে সংকটে পড়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। একদিকে করোনাভাইরাসে প্রাণ হারাতে হচ্ছে বিপুলসংখ্যক প্রবাসীকে, অন্যদিকে মহামারীর কারণে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে বেশির ভাগ দেশ ব্যয় সংকোচন নীতি গ্রহণ করায় চাকরি হারাতে হচ্ছে। কেউ কেউ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন করে আর কাজে যোগ দিতে পারছেন না। ফলে মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে অনেককে। আবার কেউ কেউ অবৈধভাবে থাকায় তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। ফলে একদিকে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী শ্রমিককে যেমন দেশে ফিরতে হচ্ছে প্রায় খালি হাতে, তেমনি করোনা পরিস্থিতির কারণে দেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমিক পাঠানো একেবারেই বন্ধ। বৈধ চ্যানেলে প্রবাসীরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর ফলে দৃশ্যত রেমিট্যান্স আয় কমার বদলে বাড়ছে। তবে বাস্তবে পরিস্থিতি বিপরীত। এ অবস্থার মোকাবিলায় সরকারকে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়াতে হবে। সেটিই প্রকৃষ্ট উপায়।