শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ

75

চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহসহ সারা দেশে যথাযথ মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস পালিত
সমীকরণ প্রতিবেদন:
যথাযথ মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধায় জাতি স্মরণ করল বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। দলমত-নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ এ মহান নেতার প্রতি জানান শ্রদ্ধা। বঙ্গবন্ধুর ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গতকাল ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু জাদুঘরের সামনে শোকার্ত মানুষের ঢল নেমেছিল। একই সঙ্গে ঢল নেমেছিল গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ার বঙ্গবন্ধুর মাজারে। এছাড়া সারা দেশেই কোরআন তিলাওয়াত, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, কালো ব্যাজ ধারণ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, মিলাদ মাহফিল, রক্তদান কর্মসূচি, আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও দুস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়। এদিকে, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে পৃথকভাবে জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার শোক র‌্যালি, আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল ও কাঙালি ভোজ অনুষ্ঠিত হয়।
চুয়াডাঙ্গা:
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছার ম্যুরালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি শোক র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে চুয়াডাঙ্গা জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণের মুক্তমঞ্চে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি ছেলুন জোয়ার্দ্দার বলেন, ‘বাংলার অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলার ইতিহাস অন্যভাবে রচিত হতো। তিনিই একমাত্র নেতা, যার হাত ধরে মুক্তি পাগল লাখ লাখ নিরস্ত্র জনতা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সশস্ত্র পাক হানাদারের বিরুদ্ধে। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধনে আবদ্ধ। তাই ঘাতকচক্র জাতির পিতাকে হত্যা করলেও তাঁর আদর্শ ও নীতিকে নিঃশেষ করতে পারেনি। এ দেশ ও জনগণ যত দিন থাকবে, তত দিন জাতির পিতার নাম এ দেশের লাখো-কোটি বাঙালির অন্তরে চির অমলিন ও অক্ষয় হয়ে থাকবে। ঘাতকেরা ভেবেছিল সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে এ দেশকে পুনরায় পাকিস্তান বানিয়ে ফেলবে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ত্যাগ ও তিতিক্ষার দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনাদর্শ বাঙালি জাতির অন্তরে প্রোথিত হয়ে আছে। আসুন, আমরা জাতির পিতাকে হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করে তাঁর স্বপ্ন সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগ করি। দারিদ্র্যমুক্ত, শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার এ সংগ্রামে আমাদের অবশ্যই জয়ী হতে হবে।’
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস বলেন, ‘শোষক ও শোষিতের সংগ্রামে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে বঙ্গবন্ধু পালন করেছেন ঐতিহাসিক ভূমিকা। পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শক্তির শৃঙ্খল থেকে তিনি বাঙ্গালি জনগোষ্ঠীকে মুক্ত করতে চেয়েছেন, চেয়েছেন দেশকে স্বাধীন করতে। এ মুক্তির সংগ্রামে তিনি নিজের জীবনকে তুচ্ছ ভেবে জনগণের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, কিশোর বয়স থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে উচ্চারণ করেছেন প্রতিবাদ, সর্বদা বলেছেন সত্য ও ন্যায়ের কথা এবং হয়ে উঠেছেন স্বাধীনতার মূর্ত প্রতীক। শোষিত মানুষের পক্ষে বঙ্গবন্ধুর এ নির্ভীক অবস্থানের কারণে তিনি কেবল বাংলাদেশই নয়, শোষিত-নির্যাতিত বিশ্বমানব সমাজেও অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। বঙ্গবন্ধু আজীবন স্বপ্ন দেখেছেন ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে হলে, শোষণমুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হলে, প্রকৃত দেশপ্রেম নিয়ে সচেতনতার সঙ্গে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। সেটিই হবে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনের শ্রেষ্ঠ উপায়।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান পিপিএম, সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান ও চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. কামরুজ্জামান।
চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুন্সি আবু সাঈফ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মৌসুমি হাসানের যৌথ উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) খোন্দকার ফরহাদ আহমদ, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল আরিফ, চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) কানাই লাল সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইয়াহ্ ইয়া খান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা পারভীন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শারমিন সুলতানা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. কলিমুল্লাহ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেড কোয়ার্টার) আবুল বাশার, সহকারী পুলিশ সুপার আবু রাসেল, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওয়াশীমুল বারী, চুয়াডাঙ্গা সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর এস এম ই¯্রাফিল, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নজরুল মল্লিক, সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সী আলমগীর হান্নান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নিখিল রঞ্জন চক্রবর্তী প্রমুখ। এ সময় শোক দিবস উপলক্ষে বির্ভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
এদিকে, বাংলাদেশ শিশু একাডেমী চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার আয়োজনে শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃস্পতিবার দুপুর ১২টায় শিশু একাডেমী প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) খোন্দকার ফরহাদ আহমদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইয়াহ্ ইয়া খান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা পারভীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সী আলমগীর হান্নান, জেলা শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা আফসানা ফেরদৌসি প্রমুখ। এ সময় শোক দিবস উপলক্ষে বির্ভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
অপর দিকে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজে আলোচনা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় শোক দিবস পালন কমিটির সভাপতি ও দর্শন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক আতিয়ার রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. কামরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর এ কে এম সাইফুর রশিদ, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সফিকুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. মকসুদুল হক খান চৌধুরী, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আব্দুল জব্বার, দর্শন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. আতিয়ার রহমান, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আবুল কালাম আজাদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান জাহাঙ্গীর আলম, ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান খন্দকার রোকনুজ্জামান, বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. আব্দুল আজিজ, অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. এনাম হোসেন, রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. মাহবুবুর রহমান, উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. ফারুক হোসেন, গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হেমায়েত আলি, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. মুমিনুল ইসলাম, বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জাহিদুল হাসান, ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মতিউর রহমানসহ সরকারী কলেজের শিক্ষকেরা। এ সময় শোক দিবস উপলক্ষে বির্ভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
অন্যদিকে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ৪৩তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আজিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপাধ্যক্ষ রেজাউল করিম, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক মামুন অর রশীদ। এ সময় শোক দিবস উপলক্ষে বির্ভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
এদিকে, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, চুয়াডাঙ্গা জেলা ইউনিট কমান্ড দিনব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি পালন করে। সব কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, চুয়াডাঙ্গা জেলা ইউনিটের সাবেক জেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবু হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম, গোপাল সরওয়ার বাবলু, হাফিজ উদ্দিন বাবু, ফজলুর রহমানসহ চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন স্থানের ও ইউনিটের বীর মুক্তিযোদ্ধারা।
অপর দিকে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা জজশিপ, জুডিশিয়াল মাজিস্ট্রেসি ও জেলা আইনজীবী সমিতি শোক র‌্যালি, আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিল করেছে। গতকাল সকাল নয়টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা ও দায়রা জজ মোহা. রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে একটি শোক র‌্যালি বের হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে চুয়াডাঙ্গা জেলা জজ আদালত ভবনে এসে আলোচনা সভায় মিলিত হন। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ও দায়রা জজ মোহা. রবিউল ইসলাম। আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. মোল্লা আব্দুর রশিদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ট্রাইব্যুনালের জেলা ও দায়রা জজ মো. জিয়া হায়দার, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক এস এম নুরুল ইসলাম, পাবলিক প্রসিকিউটর মুহা. শামসুজ্জোহা, আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল বাশার।
চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের শোক দিবসের কর্মসূচি পালন:
নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাতটায় গুড়িগুড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে কবরী রোডস্থ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে অর্ধনমিত রাখা হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি এবং দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন। এরপর সকাল সাড়ে সাতটায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগ, মহিলা লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন আয়োজিত শোক র‌্যালি ও জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আলোচনা সভায় অংশ নেন সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপিসহ নেতারা।
চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল:
যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পৃথক আয়োজনে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগ। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির শ্রীমন্ত টাউন হলে এ আয়োজন করা হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুল হক বিশ্বাসের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ। তিনি বলেন, যারা স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় চায়নি, এদেশ স্বাধীনতা পাক, তা চায়নি, সেই বিদেশি চক্র এবং যারা স্বাধীনতার পরও পাকিস্থানের সঙ্গে কনফেডারেশন করার চক্রান্তে লিপ্ত ছিলেন, তারাই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। ষড়যন্ত্রকারীরা বঙ্গবন্ধুকে ইতিহাস থেকে মুছে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা তা পারেনি। বঙ্গবন্ধু ইতিহাসে অমর হয়ে রয়েছেন। সেই ষড়যন্ত্রকারীরাই মুছে গেছে।
বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার আমলে দেশের প্রচলিত বিচার পদ্ধতিতেই ন্যায়ের প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে। তবে বিচার এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। কারণ পলাতক খুনি ও বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যের কুশীলবদের বিচার এখনো হয়নি। এ জন্য অতি দ্রুত তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার সম্পন্ন করা উচিত। যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও বিচার প্রতিষ্ঠার উদাহরণ হয়ে থাকবে।
বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, তাঁর পরিবারের সদস্য এবং একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. আব্দুল মালেক, অন্যতম সদস্য শাখাওয়াত হোসেন টাইগার, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক জোয়ার্দ্দার, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান কবির, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক ও পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপু, যুগ্ম আহ্বায়ক মতিয়ার রহমান মতি, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জানিফ ও যুগ্ম সম্পাদক জাকির হুসাইন জ্যাকি। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের কৃষিবিষয়ক সম্পাদক মুন্সী জাহাঙ্গীর আলম খোকন, ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ওমর আলী, জেলা কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নেফাউর রহমান ডেভিড, সদর থানা কৃষক লীগের আহ্বায়ক আব্দুল মতিন দুদু, পৌর কৃষক লীগের আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম রাকু, কৃষক লীগের নেতা দয়াল, রাব্বি, রানা, জেলা যুবলীগের অন্যতম সদস্য অ্যাড. তসলিম উদ্দীন ফিরোজ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য মাহবুল ইসলাম সেলিম, আবুল হোসেন মিলন, হাফিজুর রহমান হাফিজ, ইমরান আহমেদ বিপ্লব, মাফিজুর রহমান মাফি, আব্দুল আলিম, পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি ওয়াশিম, সাধারণ সম্পাদক মামুন, ২ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি ফারুক মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মিলন শেখ, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম টোকন, ৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি সেলিম উদ্দীন পিন্টু, ৫ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি তাওরাত, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য গাজী ইমদাদুল হক মিলন, সদর থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুমন রেজা, পৌরসভার সহসভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, সাবেক দপ্তর সম্পাদক শেখ সামী তাপু, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান, জনিসহ আওয়ামী লীগ, কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা। অনুষ্ঠানের সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. শফিকুল ইসলাম শফি।
শোক দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নানা আয়োজন:
যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে চুয়াডাঙ্গা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)। এ উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল নয়টায় চুয়াডাঙ্গা ভিমরুল্লাস্থ টিটিসি থেকে শোক র‌্যালি বের হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে টিটিসির অধ্যক্ষ কে এম মিজানুর রহমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তাঁদের ম্যুরালে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এ সময় টিটিসির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও টিটিসির অন্য কর্মসূচিতে ছিল সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে একাডেমিক ভবনের সম্মুখে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করে উত্তোলন। সকাল নয়টায় অধ্যক্ষের নেতৃত্বে শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ কালো ব্যাজ ধারণ করেন। এরপর শোক র‌্যালি ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে টিটিসির সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা এবং জাতির জনক ও তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
শোক দিবসে চুয়াডাঙ্গা খাদ্য বিভাগের আয়োজন:
বিন¤্র শ্রদ্ধায় বঙ্গবন্ধুর ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী ও শোক দিবস পালন করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা খাদ্য বিভাগ। দিবস উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল নয়টায় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে শোক র‌্যালি বের হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তাঁদের ম্যুরালে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রেজাউল ইসলাম, সদর উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিকীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দুপুরে সদর উপজেলা খাদ্য গুদামে শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবলীগের শোক দিবসের কর্মসূচি:
বিন¤্র শ্রদ্ধায় বঙ্গবন্ধুর ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী ও শোক দিবস পালন করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবলীগ। দিবসটি উদ্যাপন উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ছয়টায় শহীদ আবুল কাশেম সড়কস্থ জেলা যুবলীগের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর সেখানে বঙ্গবন্ধু ও শেখ মনির প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক নঈম হাসান জোয়ার্দ্দার, যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান, সদস্য আজাদ আলী, সাজেদুল ইসলাম লাভলু, শাহী, পিরু, আল ইমরান শুভ, কামরুজ্জামান সুমন, জেলা কৃষক লীগের প্রচার সম্পাদক মহসিন রেজা প্রমুখ। দলীয় কার্যালয়ে প্রভাতের কর্মসূচি শেষে সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতার ম্যুরালে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন নেতারা।
এ দিকে বেলা ১১টায় আলমডাঙ্গার হারদী ইউনিয়নের পরাগপুর ওসমানপুর মাদ্রাসায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার সভাপতি ও জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক নঈম হাসান জোয়ার্দ্দার প্রধান অতিথি থেকে শোক দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য দেন এবং বিশেষ দোয়া শেষে উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে খিচুড়ি বিতরণ করেন। এ ছাড়াও আলমডাঙ্গা উপজেলার কুমারী, ভাংবাড়িয়া, বাড়াদি, চিৎলা, গাংনী, খাদিমপুর, জেহালা, বেলগাছি, ডাউকি, জামজামি, কালিদাসপুর, খাসকররা, নাগদহ, আইলহাঁস ও সদরের মোমিনপুর, পদ্মবিলা, গড়াইটুপি (নবগঠিত), নেহালপুর (নবগঠিত), তিতুদহ, কুতুবপুর, আলুকদিয়া এবং শংকরচন্দ্র ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে শোক দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নেন জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক নঈম হাসান জোয়ার্দ্দার। এ ছাড়াও চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গা পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে জেলা যুবলীগের আয়োজনে শোক দিবসের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।
অপর দিকে, চুয়াডাঙ্গা ভিকুইন্স পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে চুয়াডাঙ্গা পৌর কলেজ পাড়ায় অবস্থিত ইনস্টিটিউটের পাঁচতলা ক্যাম্পাসে এ জাতীয় শোক দিবস ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ইনস্টিটিউটের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, চুয়াডাঙ্গা পৌর ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উদ্যোগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল আটটায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন, দলীয় পতাকা ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিকেল চারটায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আতিয়ার রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় শ্রমিক লীগের চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি আফজালুল হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অফিস পরিচালনা কমিটির সভাপতি জয়নাল আবেদিন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক নেতা রমজান আলী, আইনবিষয়ক সম্পাদক মুলুক চাঁদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় শোক দিবস পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক সুমন ইকবাল, দপ্তর সম্পাদক তরিকুল জনি, মন্টু, বিল্লাল, জুলমত, তাহের, নজরুল, রশিদ, মোহাম্মদ আলীসহ স্থানীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতারা। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা নকিবুল্লাহ।
এদিকে, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেছে বাংলাদেশ জাসদ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল নয়টায় বাংলাদেশ জাসদ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ারুল ইসলাম বাবু ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলমের নেতৃত্বে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় চত্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আব্দুর রশিদ, মহাবুল হক, আশরাফুল আলম, নিয়াজ হোসেন, মফিদুল ইসলাম ডাবলু প্রমুখ। শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ শেষে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
আলমডাঙ্গা:
আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন, আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠন এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে যথাযথ মর্যাদায় বঙ্গবন্ধুর ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী পালিত হয়েছে। দিনটি উপলক্ষে আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ব্যাপক কর্মসূচি পালিত হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সরকারি-আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করা হয়। সকাল সাড়ে আটটায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চের নিকট হতে একটি শোক র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি চারতলা মোড় ঘুরে উপজেলা পরিষদে গিয়ে শেষ হয়।
সকাল নয়টায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্যার্পণ শেষে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটন আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. সালমুন আহমেদ ডন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মারজাহান নিতু, আলমডাঙ্গা থানার ভারাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান মুন্সী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি মজিবর রহমান, সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শফিউর রহমান জোয়ার্দ্দার সুলতান, সাবেক পৌর কমান্ডার শেখ নুর মোহাম্মদ জকু, অগ্নি সেনা ময়নদ্দিন, প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহ আলম মন্টু ও সম্পাদক হামিদুল ইসলাম আজম। স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। সমাজসেবা কর্মকর্তা আফাজ উদ্দিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কর্মকর্তা এম এজি মোস্তফা ফেরদৌস, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহিল কাফি, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান খান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সামসুজ্জোহা, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল বারী, আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কৃষিবিদ গোলাম সরোয়ার মিঠু, সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম খানসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অনুষ্ঠান শেষে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।
এদিকে, আলমডাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সকাল সাড়ে সাতটায় দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় সংগীতের তালে তালে জাতীয় পতাকা, দলীয় ও শোক পতাকা উত্তোলন শেষে বঙ্গবন্ধুর প্রকৃতিতে পুস্পমাল্য অর্পণ করা হয়। বেলা সাড়ে ১১টায় দলীয় কার্যালয় থেকে একটি শোক র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আওয়ামী লীগের অফিসে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু মুসার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি ছেলুন জোয়ার্দ্দার বলেন, ১৫ আগস্ট কিছু পথভ্রষ্ট সেনা কর্মকর্তা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুসহ সপরিবারে হত্যা করে। এ হত্যাকা-ের মধ্য দিয়ে ঘাতকের দল মনে করেছিল এ দেশকে তাঁরা পুনরায় পাকিস্তান বানাবে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার করে ফাঁসিতে ঝুঁলিয়ে হত্যা নিশ্চিত করেন। দীর্ঘ বছর পর খুনিদের বিচারের মাধ্যমে জাতি কলঙ্কমুক্ত হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খুস্তার জামিল, প্রশান্ত অধিকারী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান মুন্সী, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম খান, উপজেলা চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শাহ আলম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মজিবর রহমান, আনিসুজ্জামান মল্লিক, শাহ আলম মন্টু, হামিদুল ইসলাম আজম, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ইয়াকুব আলী মাস্টার, যুগ্ম সম্পাদক কাজী রবিউল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী খালেদুর রহমান অরুন, আতিয়ার রহমান, আলম হোসেন, ক্রীড়া সম্পাদক মহিদুল ইসলাম মুহিদ, পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক রেজাউল ইসলাম তবা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম অপু মোল্লা। পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা সোনা মিয়া, একরামুদ্দৌলা ঝিন্টু, জাহাঙ্গীর হোসেন, খন্দকার মজিবুল হক, দ্বীনেশ কুমার, জহুরুল হক স্বপন, সরোয়ার হোসেন, পলিমল কুমার ঘোষ কালু, শহিদুল ইসলাম, আব্দুর রশিদ, পিয়ার মোহাম্মদ কচি, টিটু, মহাসিন কামাল, জেলা যুবলীগের সদস্য পৌর কাউন্সিলর মতিয়ার রহমান ফারুক, যুবলীগের নেতা সাইফুর রহমান পিন্টু, সৈকত খান, শিলকন জোয়ার্দ্দার, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. সালমুন আহমেদ ডন, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি নয়ন সরকার, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি আশরাফুল, ছাত্রলীগের নেতা হাসানুজ্জামান, আব্দুল্লাহ আল হোসাঈদ বাদশা, কাজী চন্দন, ইছানুর কবীর, সাকিব, সৈকত, সুরুজ, রকি, হাসান, সজিব, পিয়াস, রোমান প্রমুখ।
এদিকে, আলমডাঙ্গা উপজেলা ও পৌর যুবলীগের উদ্যোগে যথাযথ মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। বিকেল পাঁচটায় মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চ থেকে একটি শোক র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি শহর প্রদক্ষিণ শেষে একইস্থানে এসে শেষ হয়। পরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পৌর যুবলীগের সভাপতি আনেয়ার হোসেন সোনাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক নঈম হাসান জোয়ার্দ্দার। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান, সাবেক আয়ুর্বেদিক ভিকটোরিয়া কলেজের ভিপি সুমন রেজা, জেলা যুবলীগের সদস্য তপন কুমার বিশ্বাস, জেলা কৃষকলীগের সহসভাপতি হুমায়ুন কবীর আসাদুল, দীপক বিশ্বাস, জেলা যুবলীগের সাবেক সদস্য সাদেকুর রহমান পলাশ, পৌর কাউন্সিলর জাহিদুল ইসলাম ও মামুন অর রশিদ হাসান। উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদুল ইসলাম স্বপন খান ও শাহিন রেজা শাহিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠান উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষক লীগের সম্পাদক খন্দকার বজলুর রহমান, যুবলীগের নেতা আসাদুল হক ডিটু, রাজু আহমেদ, মঞ্জু মেম্বার, আরিফুল ইসলাম, বাইতুল, টাইগার, আনিস, রায়হান, সেলিম রেজা, বাপ্পি, ফারুক, রাজু, সুমন, হারুন অর রশিদ, সজিব, নিশান, সাইফুল, রফিকুল, কলেজ ছাত্রলীগের সম্পাদক সেলিম রেজা তপন, ছাত্রলীগের নেতা তামিম, চন্দন, রনি, সজিব, সনি প্রমুখ। পরে তবারক বিতরণ করা হয়। এ ছাড়াও আলমডাঙ্গা সরকারি ডিগ্রি কলেজ ও মহিলা ডিগ্রি কলেজে মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অপর দিকে, আলমডাঙ্গার খাদিমপুর, ভাংবাড়িয়া ও গাংনী ইউনিয়নে যথাযথ মর্যাদায় ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। খাদিমপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম ম-ল নিজ উদ্যোগে ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে ও মহল্লায় নিজের অর্থায়নে দোয়া মাহফিল করেছেন। পাঁচ কমলাপুর আলিয়াটনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক ইউপি সদস্য আশরাফ আলী। প্রধান অতিথি ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম ম-ল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাবুল আক্তার, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান, সাইদুর রহমান পটু, রাকিবুল ইসলাম, রাজিবুল ইসলাম, ফকির চাঁদ, দবির উদ্দীন, আবু তাহের, সিদ্দীক আলী, মনিরুজ্জামান, রফিকুল ইসলাম, রাহায়ান, আজিজুল হক জুলু, ছাবুর আলী, বাবুল হোসেন, আনার আলী, সেলিম রেজা, আবু ম-ল মজনু মিয়া প্রমুখ।
অন্যদিকে, ভাংবাড়িয়ায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক। প্রধান অতিথি ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য আশাবুল হক ঠান্ডু। শ্রমিক লীগের সভাপতি সাহাবুল ইসলামের আয়োজনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যযান ফেরেজুল ইসলাম, জিনারুল ইসলাম বিশ্বাস, আশরাফুজ্জামান বিশ্বাস নান্নু, বীর মুক্তিযোদ্ধা খোসদেল আলম, আলেফ উদ্দীন, পান্না মিয়া, আমিরুল ইসলাম, মিনারুল আসলাম প্রমুখ।
অপর দিকে, গাংনী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের আবু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের সদস্য রকিবুল হাসান, মজিবুল হক মুন্সী, আবু সাইদ আব্দুল্লাহ মিটন মিয়া, আরিফ হোসেন, নায়ক, শরিফুল ইসলাম, মুক্তার হোসেন, দোলোয়ার হোসেন প্রমুখ।
দর্শনা:
দর্শনায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন, পুষ্পমাল্য অর্পন, শোক র‌্যালি ও দোয়ার অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল আটটায় দর্শনা পৌর আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে একটি শোক র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি দর্শনার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় একইস্থানে এসে শেষ হয়। পরে দলীয় কার্যালয়ে দোয়া ও কাঙালি ভোজের আয়োজন করা হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী মুনসুর বাবু। শোক দিবসের কালো পতাকা উত্তোলন করেন দর্শনা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী শহিদুল ইসলাম। দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন দর্শনা পৌর নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব গোলাম ফারুক আরিফ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রুস্তম আলী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হাজী জয়নাল আবেদীন ও দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম। এরপর বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে নিহত ব্যক্তিদের স্বরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয় এবং পরে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান মনজু, দর্শনা পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান। অনুষ্ঠানে সার্বিক পরিচালনা করেন দামুড়হুদা উপজেলা যুবলীগের সহসম্পাদক আব্দুল মান্নান খান ও দর্শনা পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আসলাম আলী তোতা। এদিকে, কেরুর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদ আল আনসারীর নেতৃত্বে সব বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে এক শোক র‌্যালি বের হয়। এ র‌্যালির সঙ্গে যোগ দেন কেরুজ শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি সূর্যসেনা শ্রমজীবি সংগঠনের নেতা তৈয়ব আলী ও সাধারণ সম্পাদক মাছুদুর রহমান। র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে স্ব স্ব সংগঠনের কার্যালয়ে গিয়ে সমাপ্ত হয়।
জীবননগর:
জীবননগরে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জীবননগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি শোক র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে। পরে এক আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে রচনা, চিত্রাঙ্কন ও উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান হাজি হাফিজুর রহমান। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ গনি মিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম ঈশা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আয়েসা সুলতানা লাকী, শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, সমবায় কর্মকর্তা মতেহার হোসেন, খাদ্য কর্মকর্তা আব্দুল খালেক, সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান, সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী রাজিব হোসেন রাজু প্রমুখ। একই দিনে জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের মেদিনীপুর গ্রামে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা জাকির হোসেন বিশ্বাস, যুবলীগের নেতা মফিজুল ইসলাম প্রমুখ।
উথলী:
যথাযোগ্য মর্যাদা এবং ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে জীবননগরের উথলীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে উথলী ডিগ্রি কলেজের হলরুমে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। কলেজের অধ্যক্ষ আকরাম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উথলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হান্নান। আরও উপস্থিত ছিলেন সমাজ সেবক মিজানুর রহমান মিল্টু, সাংবাদিক আহম্মদ সগীর, কলেজের প্রভাষক সাজ্জাদ হোসেন, রায়হান আলী, রেজাউল করিম, নাইমা ইসলাম, রাশেদুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম, সাইদুর রহমান, সায়েমুল হক, লিলুফা খাতুন, ইমদাদুল হক, একরামুল হক, কামরুন নাহার, আসাদুজ্জামান, সাকিল আহম্মদ, রেনুকা খাতুন, জিল্লুর রহমান, কম্পিউটার অপারেটর লিমন ফেরদৌস লিয়ন প্রমুখ। সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন অত্র কলেজের প্রভাষক মাজেদুল ইসলাম। আলোচনা শেষে দোয়া পরিচালনা করেন মহিউদ্দিন। এ ছাড়াও উথলী ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের আয়োজনে বিশেষ দোয়া ও কাঙালি ভোজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আন্দুলবাড়ীয়া:
জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী পালিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ইউনিয়ন পরিষদের মিলণায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ শফিকুল ইসলাম মোক্তার। এছাড়াও আন্দুলবাড়ীয়া কলেজ, বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বহুমুখী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, আশরাফিয়া আলিম মাদরাসা, শাহাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়,পাঁকা মধ্যমিক বিদ্যালয়, কাশিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আন্দুলবাড়ীয়া বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হারদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কর্চাডাঙ্গা, শাহাপুর, বিদ্যাধরপুর, পাঁকা, বাজদিয়া, নিশ্চিন্তপুর, ডুমুরিয়া, কাশিপুর, দেহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ সরকারি-বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচি পালন করে।

মেহেরপুর:
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মেহেরপুরে শোক র‌্যালি, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, কাঙালি ভোজ, আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল নয়টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি শোক র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ সামসুজ্জোহা পার্কে গিয়ে শেষ হয়। র‌্যালিতে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গনি। পুলিশ সুপার এস এম মুরাদ আলী, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুস সাামাদ বাবলু বিশ^াস, আব্দুল হালিম, অ্যাড. মিয়াজান আলী, সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজি গোলাম রসুল, সিভিল সার্জন ডা. শামীম আরা নাজনিন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাড. ইয়ারুল ইসলাম, পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন, জেলা জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান শামীম আরা হীরাসহ রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শোক র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করেন।
র‌্যালি শেষে শহীদ সামসুজ্জোহা পার্কে অবস্থিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে পৌর টাউন হলে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গনির সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার এস এম মুরাদ আলী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রসুল, সাবেক প্রশাসক অ্যাড. মিয়াজান আলী, পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাড. ইয়ারুল ইসলাম, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক, সহসভাপতি আব্দুস সামাদ বাবলু বিশ্বাস, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষে কে এম আতাউল হাকিম লাল মিয়া, জেলা জাতীয় মহিলা সংস্থার সভানেত্রী শামীম আরা হীরা, জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক সরফরাজ হোসেন মৃদুল, জেলা যুব মহিলালীগের সভানেত্রী সামিউন বাশিরা পলি, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুস সালাম বাঁধন, আওয়ামীলীগ নেতা শ্বাশত নিপ্পন প্রমুখ। পরে বঙ্গবন্ধুসহ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নিহত সব শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। আলোচনা সভার শুরুর আগে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধুর জীবন ও রাজনৈতিক কর্মকা- নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ সময় আলোচনা সভার বক্তারা নতুন প্রজন্মদের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও নেতৃত্বের গুণাবলি ছড়িয়ে দিতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।
এদিকে, মেহেরপুর প্রেসক্লাবের আয়োজনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত আটটায় মেহেরপুর প্রেসক্লাবে শোকাবহ ১৫ আগস্টের ওপর আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসক্লাবের সভাপতি ফজলুল হক মন্টুর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক আলামিন হোসেন। সাংগাঠনিক সম্পাদক বেন-ইয়ামিন মুক্তর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক আতাউল গনি। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. এস এম ইব্রাহীম শাহীন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সাবেক সভাপতি রুহুল কুদ্দুস টিটো, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম প্রমুখ। পরে সেখানে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকেরা এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলন।
অপর দিকে, মেহেরপুর পৌরসভার উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে পৌর এলাকার দুস্থ ও গরীবদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন এ খাবার বিতরণ করেন। এ সময় প্যানেল মেয়র শাহিনুর রহমান রিটন, কাউন্সিলর আল মামুন, জাফর ইকবাল, জাহাঙ্গীর হোসেন, পৌর সচিব্ তফিকুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বারাদী:
মেহেরপুর সদর উপজেলার বারাদী সাংগঠনিক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। দিনের শুরুতে সকাল সাড়ে ছয়টায় দলীয় কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত, দলীয় পতাকা উত্তোলন ও শোক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয়ার্ধে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও কাঙালি ভোজ বিতরণ করা হয়। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শামিম ফেরদৌসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পিরোজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ বাবলু বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক অ্যাড. শাহিন, শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল ইসলাম মোমিন প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আরিফুল ইসলাম লিটন। এ ছাড়া মেহেরপুর বীজ উৎপাদন খামার, মোমিনপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, মোমিনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মোমিনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বর্শিবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও রাজনগর দাখিল মাদ্রাসায় পৃথকভাবে জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়।

আমঝুপি:
মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি ইউনিয়নে বঙ্গবন্ধুর ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে আমঝুপি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা, দলীয় পতাকা ও কালো পতাকা উত্তোলনের মধ্যে দিয়ে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আমঝুপি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন আহমেদ, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বীর মক্তিযুদ্ধ মতিয়ার রহমান, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত, ইউপি সদস্য আলফাজ হোসেন, ইউপি সদস্য মশিউর রহমান, সাইদুর রহমান, আজাহার, মাহাবুব রহমান, ফারুকুল ইসলাম, পেশ ইমাম বেলাল হোসেন, মন্টু মিয়া প্রমুখ। এ ছাড়া আমঝুপি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আমঝুপি বালিকা বিদ্যালয়, আমঝুপি পাবলিক ক্লাব, আমঝুপি আলিম মাদ্রাসা, আমঝুপি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আমঝুপি সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়, এআরবি কলেজ, গন্ধরাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খোকসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইসলামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চাঁদবীল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়।
মুজিবনগর:
মুজিবনগরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে শোক র‌্যালি, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল আটটায় মুজিবনগর উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি শোক র‌্যালি বের হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওসমান গনির নেতৃত্বে র‌্যালিটি মুজিবনগরের বিভিন্ন সড়ক ও কমপ্লেক্স চত্বর প্রদক্ষিণ শেষে মানচিত্রের কাছে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওসমান গনি ও মুজিবনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাসেম। এ ছাড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়নে মুজিবনগর উপজেলা চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়াউদ্দীন বিশ্বাস ও জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম পেরেশান কাঙালি ভোজ ও দোয়া মাহাফিলের আয়োজন করেন।
ঝিনাইদহ:
যথাযোগ্য মর্যাদা ও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ঝিনাইদহের ছয় উপজেলায় জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। শহর-গ্রাম, হাট-বাজার ও পাড়া-মহল্লায় দিবসটি পালনে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ইউনিট কাঙালি ভোজের আয়োজন করে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বুকে ধারণ করা হয় কালো ব্যাজ। পাড়া-মহল্লায় বাজানো হয় বঙ্গবন্ধুর জ্বালাময়ী ভাষণ। ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে গতকাল সকালে শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট চত্বর থেকে একটি শোক র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে পুরাতন ডিসি কোর্টের মুক্তমঞ্চে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও শৈলকুপা-১ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হাই। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য খালেদা খানম, সাবেক এমপি শফিকুল ইসলাম অপু, পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান, জেলা পরিষদের সচিব রেজাই রাফিন সরকার, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব সাইদুল করিম মিন্টু, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মকবুল হোসেন ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী ইসলাম। এ সময় বক্তারা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করার দাবি জানান। এদিকে, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের আয়োজনে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। সকালে প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এ সময় ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ, পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব সাইদুল করিম মিন্টু, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী ইসলাম, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি এম রায়হান, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান টিপুসহ অন্যরা বক্তব্য দেন। আলোচনা সভা শেষে মুক্তিযুদ্ধ কর্ণারের উদ্বোধন করা হয়।
ডাকবাংলা:
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাগান্না ইউনিয়ন পরিষদে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ওহাব আলী মেম্বারের সভাপতিত্বে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একাংশ ও অঙ্গ সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এ আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী তথ্যপ্রযুক্তি লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও বাদপুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক কমিটির সভাপতি সালাহ উদ্দিন খান সেলিম, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুন্সী শাহিন রেজা সাইদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদ মেম্বার, ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা শেখ রুহুল আমিন, মহিলা মেম্বার মরিয়ম বেগম প্রমুখ।
এদিকে, ঝিনাইদহে বাংলাদেশ আওয়ামী তথ্যপ্রযুক্তি লীগের উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টায় ঝিনাইদহে বাংলাদেশ আওয়ামী তথ্যপ্রযুক্তি লীগের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের জেলা সভাপতি নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কনক কান্তি দাস, বাংলাদেশ আওয়ামী তথ্যপ্রযুক্তি লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহধর্মবিষয়ক সম্পাদক সালাহ উদ্দিন খান সেলিম প্রমুখ।