শিশুটি কার পরিচয়ে বড় হবে?

78

গাংনী অফিস:
পুত্রসন্তানের পিতৃপরিচয় নিয়ে দিশেহারা প্রতিবন্ধী যুবতী ও তাঁর পরিবার। মধ্যবয়সী হাসান আলীর লোলুপ দৃষ্টির ফসল এই ফুটফুটে শিশু। এক দিকে দারিদ্র্যতা, অন্যদিকে পিতৃপরিচয়হীন শিশু। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে দ্বৈবিক সহযোগিতা কামনা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই অসহায় এ পরিবারের হাতে।
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মিনাপাড়া গ্রামের পিতৃহীন প্রতিবন্ধী যুবতী নানার ভিটায় বসবাস করেন। তার বয়স এখন ২৫। অসহায় এ যুবতীর দিকে লোলুপ দৃষ্টি পড়ে একই গ্রামের চার সন্তানের জনক হাসান আলীর। শুরু হয় নানাভাবে বিরক্ত। পরিশেষে ধর্ষণের শিকার হন ওই প্রতিবন্ধী। গর্ভবতী যুবতীকে নিয়ে শুরু হয় হাসান আলীর টালবাহানা। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তাঁর চেষ্টার কমতি ছিল না। পেশিশক্তির বলে প্রতিবন্ধীর পরিবারকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা চলে। সময় গড়ানোর সঙ্গে যুবতীর শারীরিক অবস্থা বদলাতে থাকে। শেষ পর্যন্ত মামলার আশ্রয় নেয় তাঁর পরিবার। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাসান আলী গ্রেপ্তার হলেও জামিনে মুক্তি পান। তবে মুক্তি পাননি প্রতিবন্ধী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। গত বুধবার বিকেলে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফুটফুটে শিশুপুত্রের জন্ম দেন ওই প্রতিবন্ধী যুবতী। তবে খোঁজখবর নেওয়ার কেউ নেই।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রসূতি ও গাইনী ওয়ার্ডের ইনচার্জ সীমা ম-ল বলেন, নরমাল ডেলিভারি হয়েছে। বর্তমানে মা ও শিশুটি সুস্থ আছে।
প্রতিবন্ধী যুবতীর মা জানান, সাত বছর আগে তাঁকে রেখে তাঁর বাবা মারা যান। মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তিনি গ্রামের এক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে করেন। তিনি সংসার থেকেই মেয়ের দেখাশোনা করতেন। ধর্ষণের পর নানাভাবে চেষ্টা করেও হাসান আলীর সঙ্গে মীমাংসা হয়নি। তাই আইনের আশ্রয় নেওয়া। কিন্তু জামিনে মুক্তি পেয়ে হাসান আলী হুমকি অব্যহত রেখেছেন। তাই নবজাতককে নিয়ে এখন কী করবেন, তা তিনি ভেবে পাচ্ছেন না।
এদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুটিকে দেখতে আসেন গাংনীর সুধি সমাজের অনেকেই। অসহায় এ পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সবার সহযোগিতা চাইলেন তাঁরা। সুধি সমাজের প্রতিনিধি জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এ কে এম শফিকুল আলম বলেন, আগে শিশুটির পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করা হবে। তাহলে সব সমস্যার সমাধান হবে।