শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থান

1859

এ কথা সবারই জানা যে, বাংলাদেশ পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম একটি জনসংখ্যাবহুল দেশ। এত কম আয়তনের দেশে এত বেশি সংখ্যক লোক পৃথিবীর আর কোনো দেশে যে নেই সে কথায় নির্দ্বিধায়ই বলা যায়। সুতরাং এই বিপুলসংখ্যক জনসংখ্যাকে সঠিকভাবে ব্যবহার না করার কোনো উপায়ও নেই। আর এ কারণেই দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের ধারাকে আরও বেশি গতিশীলভাবে এগিয়ে নিতে হলে জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করা জরুরি। কিন্তু সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় যেভাবে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তাতে আমাদের হতাশই হতে হয়। প্রকাশিত খবরে উল্লেখ করা হয়েছে যে দেশে সীমিত আয়তনের কর্মসংস্থানের বিষয়টি উঠে এসেছে। যেখানে বলা হচ্ছে, শিক্ষিত বেকারদের জন্য কোনো সুখবর নেই। আমলে নেয়ার প্রয়োজন যে দেশে শিক্ষার হার বাড়ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়, একটি দেশ ও জাতির অগ্রগতির জন্য শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর কোনো বিকল্প নেই। তাই কিন্তু শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগাতে হবে বা বেকারত্ব দূর করতেও সংশ্লিষ্টদের যথাযথ পদেক্ষপ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
তথ্যমতে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণি পেয়েও ২০১২ সাল থেকে এক ব্যক্তি সরকারি চাকরি খুঁজছেন। দীর্ঘদিনেও তার প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। এ ছাড়া অন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও স্নাতকোত্তর করে কেউ আবার সরকারি চাকরির জন্য গত তিন বছর ধরে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েও সফল হতে পারেননি। এ রকমভাবে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চ শিক্ষা শেষ করে লাখ লাখ শিক্ষার্থী বেকারত্বের বোঝা মাথায় নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অথচ এরপরও শিক্ষিত বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার সরকারি কোনো উদ্যোগ নেই, এমন বিষয়ই সামনে এসেছে। ফলে দিন দিন শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। লক্ষণীয়, সমাজবিজ্ঞানীরাও বলছেন, কাজের সুযোগ না পেয়ে অসংখ্য শিক্ষিত বেকার যুবক হতাশা থেকে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। আর বলার অপেক্ষা রাখে না যে, শিক্ষিত বেকাররা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়লে এর প্রভাব অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হতে পারে। সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাওয়া ছাড়াও তা সামগ্রিক দিক থেকেই নেতিবাচক। এমনকি সংশ্লিষ্টদের আমলে নেয়া প্রয়োজন যে, অনেকে হতাশা থেকে আত্মহননের পথও নিচ্ছেন! যখন তরুণরা বেকার থাকার ফলে সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধিসহ নেশায় জড়িয়ে পড়া বা অপরাধমূলক কর্মকা- বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আশঙ্কাজনক বাস্তবতা সামনে আসছে তখন এর পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ জরুরি। এমনটিও জানা গেছে যে, কর্মসংস্থানের খরা কাটাতে অর্থমন্ত্রী গত পাঁচ বছরে বিভিন্ন পরিকল্পনাও নিয়েছেন। কিন্তু এর জন্য কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এমনকি নতুন অর্থবছরে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য কী ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তাও পরিষ্কার নয়। এমতাবস্থায় শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে এমনটি কাম্য। সবশেষে আমরা এ কথাই বলতে চাই যে, লাখ লাখ প্রার্থী সরকারি চাকরি নামক ‘সোনার হরিণের’ সন্ধানে রয়েছে আর দিন দিন সেই সংখ্যা বাড়ছে। যা বিভিন্ন চাকরির আবেদনকারীর সংখ্যার পর্যালোচনা করলেও স্পষ্ট হয়। ফলে শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানের সামগ্রিক বিষয়টি আমলে নেয়া জরুরি। যখন উন্নয়নের ধারায় দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এমতাবস্থায় শিক্ষিত বেকার বাড়লে তা ইতিবাচক নয়। পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে দ্রুত শিক্ষিত বেকারদের নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিশ্চিত হোক, এমনটিই আমাদের প্রত্যাশা।