শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে মতপ্রকাশের ন্যূনতম স্বাধীনতা নেই

19

আবরার হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ
সমীকরণ প্রতিবেদন:
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। গতকাল বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে পৃথকভাবে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা:
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে চুয়াডাঙ্গায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের শিল্পকলা একাডেমির সামনের সড়কে এ কর্মসূচি পালন করেন চুয়াডাঙ্গার সাংস্কৃতিক কর্মীরা। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন অরিন্দম সাংস্কৃতিক সংগঠনের সহসভাপতি কাজল মাহমুদ, সাংস্কৃতিজন প্রফেসর নওরোজ মোহম্মদ সাঈদ ও চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরামের আহ্বায়ক হিরন উর রশিদ শান্ত। মানববন্ধন পরিচালনায় ছিলেন অরিন্দম সাংস্কৃতিক সংগঠনের নাট্য সম্পাদক সেলিমুল হাবীব সেলিম। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকা- ভাবিয়ে তুলেছে সবাইকে। আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাইকে আইনের আওতায় এনে দ্রুত এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক, যাতে নতুন করে আর কোনো মানুষকে আবরারের মতো পরিণতি ভোগ করতে না হয়। মুক্তবুদ্ধির চর্চা ও বাকস্বাধীনতার অধিকার চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেন কোনো শিক্ষার্থী র‌্যাগিংয়ের শিকার না হন, এ জন্যও সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা। এতে অংশ নেন জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্য, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ।
মেহেরপুর:


বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদ ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে লাল ও কালো পতাকা নিয়ে মৌন মিছিল করেছে মেহেরপুর জেলা ছাত্রদল। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে মৌন মিছিলটি দলীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে মেহেরপুর শহর প্রদক্ষিণ শেষে কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। মৌন মিছিলে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি মাসুদ অরুন, পৌর বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, মেহেরপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নাজমুল হুসাইন, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ বীন রফিক সিজার, সহসভাপতি আকিব জাভেদ সেনজির, সহসভাপতি তৌফিক এলাহী শাকিল, সোহানুর রহমান সোহাগ, সাজেদুর রহমান বিপ্লব, যুগ্ম সম্পাদক মোল্লা মো. নাজমুল ইসলামসহ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।
ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে নৃশংসভাবে হত্যাকা-ের প্রতিবাদে শোক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সরকারি কেসি কলেজ ছাত্রলীগের আয়োজনে কলেজ চত্বর থেকে একটি শোক র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি কলেজের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ মিনার চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এতে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রানা হামিদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়ালসহ কলেজ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
অপর দিকে, বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের নির্মম হত্যার প্রতিবাদ ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী এবং ছাত্র ফেডারেশন ঝিনাইদহ জেলা শাখার উদ্যোগে গতকাল বৃহস্পতিবার ঝিনাইদহ শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে ছাত্র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।। ছাত্র সমাবেশে বক্তব্য দেন বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ছাত্রনেতা প্রসেনজিৎ বিশ্বাস, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঝিনাইদহ জেলা শাখার সভাপতি ছাত্রনেতা শারমিন সুলতানা, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী ঝিনাইদহ জেলা শাখার সভাপতি দিপংকর বিশ্বাস, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঝিনাইদহ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ফারজানা ইয়াসমিন রিমা প্রমুখ। সংহতি জানিয়ে সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ঝিনাইদহ জেলা শাখার সমন্বয়ক অ্যাড. আসাদুল ইসলাম আসাদ, গণসংহতি আন্দোলন ঝিনাইদহ জেলা সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম, জেলা বাসদ সংগঠক আছাদুর রহমান প্রমুখ। সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় দীর্ঘদিন যাবৎ যে সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি চলছে, আবরার ফাহাদের হত্যাকা- তারই বহিঃপ্রকাশ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে মতপ্রকাশের ন্যূনতম স্বাধীনতা নেই। সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা সব সময় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের কাছে জিম্মি থাকতে বাধ্য হয়। সরকার সা¤্রাজ্যবাদী ভারতের সঙ্গে যে নতজানু চুক্তি সম্পাদন করেছে, তা অবিলম্বে জাতির সামনে প্রকাশ করতে হবে।’ বক্তারা আরও বলেন, ‘হত্যাকা-ের ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত না করে দ্রুত হত্যার সঙ্গে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।’