শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা

37

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জরুরি ব্যবস্থা নিক
বেশ কিছুদিন ধরেই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একের পর এক উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এই মূহুর্তে দুটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নেই। গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে অক্টোবরের গোড়ার দিকে উপাচার্য পদত্যাগ করলেও এখন পর্যন্ত সেখানে কাউকে পদায়ন করা হয়নি। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য পদ শূন্য আছে ছয় মাস ধরে। সম্প্রতি সেখানে রেজিস্ট্রার ও কোষাধ্যক্ষের পদও শূন্য হয়েছে। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন, একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের পক্ষের ও বিপক্ষের শিক্ষকরা মুখোমুখি অবস্থানে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে আন্দোলন চলছে। গতকাল রবিবারও সেখানে আন্দোলন হয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একাংশ রবিবার থেকে ফের প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করেন। সর্বাত্মক ধর্মঘট কর্মসূচি পালনের কথাও জানিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। সেখানে ধর্মঘট চলাকালে সহকারী প্রক্টরের ওপর হামলার অভিযোগ এনে অজ্ঞাতনামা ৫০-৬০ জন আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। চলমান সংকট নিরসনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ কামনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আন্ত হল ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের জেরে গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে কর্তৃপক্ষ কুয়েট বন্ধ ঘোষণা করে। অবশ্য কুয়েট ক্যাম্পাসে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাবনা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা মাঠে নেমেছেন। অস্থিরতা হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও। আবরার ফাহাদ নিহত হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিরতা চলছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আবাসনসংকট থেকে মুক্তি পেতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে যে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন, তাতে ডাকসুর একজন নির্বাচিত প্রতিনিধিও ছিলেন। দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অস্থিরতা কোনো শুভ লক্ষণ নয়। এভাবে দেশের কোনো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আগে সেশনজট ছিল। সে অবস্থা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে শুধু শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে। এখন অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েই সেশনজট নেই। উপরন্তু এ সময়টি হচ্ছে নতুন শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির। এ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এ ধরনের পরিস্থিতি একেবারেই কাম্য নয়। শিক্ষার পরিবেশ ও মান অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থেই বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে দেখা দরকার। কেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তথা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট আইন আছে। সেই আইনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিলে অচলাবস্থা কেটে যাবে বলে আমরা মনে করি। দেশের উচ্চশিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিলে অচলাবস্থা ও অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে না।