শিক্ষাক্ষেত্রে হতাশাজনক চিত্র

136

মান উন্নয়নে নিতে হবে সমম্বিত উদ্যোগ
কোনো শিক্ষার্থী প্রাথমিক স্তরে কাক্সিক্ষত মান অর্জনে ব্যর্থ হলে তার পক্ষে পরবর্তী স্তরে সেই মান অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়ে। এজন্যই শিক্ষাবিদরা শিক্ষার্থীর ভিত মজবুত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে থাকেন। আমাদের দেশে প্রাথমিক স্তরে শিক্ষা প্রদানে দুর্বলতার কারণে শিক্ষার্থীরা কাক্সিক্ষত মান অর্জন করতে পারছে না। ‘জাতীয় শিক্ষার্থী মূল্যায়ন’ (এনএসএ) শীর্ষক প্রতিবেদনের তথ্য উদ্ধৃত করে সোমবার একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাথমিক স্কুলগুলোয় শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার মাত্র ৪০ শতাংশ পূরণ করা হয়। বাকি ৬০ শতাংশ কতজন শিক্ষার্থী যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে পারে, এটি এক বড় প্রশ্ন। অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ নিজেদের পাঠ যথাযথভাবে সম্পন্ন না করেই একশ্রেণী থেকে অন্য শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়। উন্নত বিশ্বে শিক্ষার্থীদের শিখন অর্জনে স্কুলের ভূমিকা যেখানে ৭০ শতাংশ, সেখানে আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের এতটা পিছিয়ে থাকার বিষয়টি উদ্বেগজনক। এ অবস্থা চলতে থাকলে সার্বিকভাবে দেশের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়বে।
গত বছরের শেষদিকে প্রকাশিত এনএসএ প্রতিবেদনে লক্ষ করা যায়, পঞ্চম শ্রেণীতে গণিতে ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থীর মান নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। শিক্ষার মানের এ ভয়াবহ অবনতির কারণ উদঘাটন করা দরকার। শিক্ষকরা তাদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করলে এমন হতাশাজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। এ থেকে উত্তরণে শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি তারা যাতে তাদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করেন এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের শিশুদের শিখন মানের ওপর এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানেও প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলাদেশের শিক্ষার মানের যে চিত্র উঠে এসেছে তা হতাশাজনক। ২০১৫ সালে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পঞ্চম শ্রেণীর মাত্র ২৫ শতাংশ শিশু বাংলায় প্রত্যাশিত দক্ষতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
শিশু শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষায় দুর্বলতা থেকেই অনুমান করা যায়, অন্যান্য বিষয়েও তারা কাক্সিক্ষত দক্ষতা অর্জন করতে সক্ষম হয়নি। এ বাস্তবতায় প্রাথমিক শিক্ষার মান বাড়াতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় যেসব পদক্ষেপ নেয়ার পরিকল্পনা করেছে, তা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান বাড়বে আশা করা যায়। লেখাপড়ার মান বাড়াতে শিক্ষক ও কর্মকর্তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে উঠান বৈঠক করবেন বলে যে পরিকল্পনা করা হয়েছে তা ইতিবাচক। হতদরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি থেকে কতটা উপকৃত হতে পারবে সে প্রশ্ন থেকেই যায়। অভিভাবকদের সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়া অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষার মানে অগ্রগতিতে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে। এ অবস্থায় হতদরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের কাক্সিক্ষত মান নিশ্চিত করতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। দুর্নীতি ও কোচিং বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ করা না গেলে শিক্ষা খাতের বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কঠিন হতে পারে।