শিক্ষক সংকট : নিয়োগ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করুন

119

প্রায় দু’বছর ধরে দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় অন্তত ৩৯ হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য থাকার বিষয়টি দুর্ভাগ্যজনক। শিক্ষক স্বল্পতার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানে যে জোড়াতালি দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য। উল্লেখ্য, আগে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হতো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে। এক্ষেত্রে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠায় দু’বছর আগে কেন্দ্রীয়ভাবে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হলেও বিভিন্ন সময়ে নিবন্ধিত প্রার্থীদের আড়াই শতাধিক মামলা দায়েরের কারণে এ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। বস্তুত মামলার জালে আটকে পড়ায় দু’বছর ধরে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া যাচ্ছিল না। আশার কথা, মামলার ঝামেলা শিগগিরই শেষ হবে বলে এনটিআরসিএ সূত্রে জানা গেছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে আগামী মাসে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে এবং এতে প্রথম থেকে ১৩তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা আবেদন করার সুযোগ পাবেন। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। আমরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। তবে পাবলিক পরীক্ষাসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির ধারাবাহিকতায় এ নিয়োগ প্রক্রিয়াও যাতে প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবার যতœবান হওয়া উচিত। বলার অপেক্ষা রাখে না, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নানা সমস্যা ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। শতভাগ জনগোষ্ঠীকে শিক্ষিত করার লক্ষ্যে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। তবে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও পর্যাপ্ত শিক্ষা উপকরণ সরবরাহের পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দেয়াও জরুরি। অবশ্য সরকার সে পথেই অগ্রসর হচ্ছে। অন্যদিকে নিয়োগ লাভের পর শিক্ষকদেরও অনেক কিছু করণীয় রয়েছে। পাঠদানের ক্ষেত্রে তাদের অবশ্যই দায়িত্বশীল, ন্যায়নিষ্ঠ ও উন্নত মানসিকতার পরিচয় দিতে হবে। বস্তুত দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আমাদের স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটাতে হলে সরকার ও শিক্ষক উভয়কেই স্ব-স্ব ক্ষেত্রে আন্তরিকতার পরিচয় দিতে হবে। দেশে শিক্ষার হার ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। তবে শিক্ষার্থী বৃদ্ধির অনুপাতে শিক্ষার মানোন্নয়ন করা না গেলে এর কোনো সুফল পাওয়া যাবে না। দেশের অধিকাংশ বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় না আছে প্রয়োজনীয়সংখ্যক শিক্ষক, পাঠাগার ও গবেষণাগারসহ সমন্বিত পাঠদানের ব্যবস্থা, না আছে অবকাঠামোসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা। এছাড়াও বিষয়ভিত্তিক প্রয়োজনীয় শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং জ্ঞানচর্চার মুক্ত পরিবেশ ও সুযোগ না থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরতদের জ্ঞানের ভিত দুর্বল থাকাটাই স্বাভাবিক। বাস্তবে এমনটিই যে ঘটছে, শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যে বিভিন্ন সময়ে তা স্পষ্ট হয়েছে। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জনবলের ঘাটতি যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানের অভাব। এ অবস্থায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হলে এটি শিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। শিক্ষাব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেয়ার বিভিন্ন উদাহরণ টেনে সরকারি কর্তাব্যক্তিরা নিজেদের শিক্ষাবান্ধব হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। সরকার শিক্ষাবান্ধব- এ কথা প্রমাণ করতে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্যপদে যোগ্য ও মেধাবীদের নিয়োগ দেয়ার ক্ষেত্রে সরকার শতভাগ আন্তরিকতার পরিচয় দেবে, এটাই প্রত্যাশা।