লড়াকু মাশরাফির টি-টোয়েন্টিকে ‘বিদায়’

206

শেষ ব্যাটসম্যানটি আউট হওয়ার পর আকাশের দিকে তাকিয়ে সৃষ্টিকর্তাকেই ধন্যবাদ দিলেন হয়তো আর আমরা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটিয় ফরমেট থেকে হারালাম বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে লড়াকু চরিত্র মাশরাফিকে । ২০০৬ সালের নভেম্বরে নিজের অভিষেক শ্রীলঙ্কার টি-টোয়েন্টির নায়ক ছিলেন তিনি। সেটা ছিল বাংলাদেশেরও প্রথম টি-টোয়েন্টি। আজ নিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে ম্যাচের নায়ক হতে পারেননি ঠিকই। তবে এই ম্যাচের পুরো আলোটা মাশরাফি বিন মুর্তজার ওপরই ছিল। সতীর্থরা বলেছিলেন, বিদায়ী টি-টোয়েন্টিতে ‘মাশরাফি ভাই’কে জয় উপহার দিতে চান। তাঁরা কথা রেখেছেন। আজ কলম্বোর প্রেমাদাসায় শ্রীলঙ্কাকে ৪৫ রানে হারিয়ে সিরিজে সমতা এনেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ১৭৬ রানের জবাবে শ্রীলঙ্কা অলআউট ১৩১ রানে। ব্যাটে-বলে সামনে থেকে ‘নেতৃত্ব’ দিলেন টি-টোয়েন্টির সম্ভাব্য নতুন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ব্যাট হাতে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৮ রান করার পাশাপাশি ২৪ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট।গুঞ্জন একটা ছিলই। তবে তা এখনই বাস্তব হয়ে উঠবে কি না, সেটাই ছিল প্রশ্ন। উত্তরটা দিয়ে দিয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা নিজেই। আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, চলতি শ্রীলঙ্কা সিরিজের পর আর খেলবেন না আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট।কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচের টসের পরই ঘোষণাটা দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ধারাভাষ্যকার ডিন জোন্সকে মাশরাফি জানিয়ে দেন, ‘বাংলাদেশের হয়ে এটাই আমার শেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজ। আমি ধন্যবাদ দিতে চাই বিসিবি, আমার পরিবার ও বন্ধুদের, সতীর্থ এবং কোচিং স্টাফদের। ১৫-১৬ বছর ধরে আমাকে সমর্থন জানিয়ে আসা ভক্তদেরও ধন্যবাদ।’নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজেও টি-টোয়েন্টিকে বিদায়ের জানিয়ে লিখেছেন, ‘এই সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে উত্থান এবং পতন ছিল। আমি সব সময় চেষ্টা করেছি আমার ফ্যানদের খুশি করার। আমি আমার প্রত্যেক ফ্যানের কাছে তাদের প্রতি ম্যাচে খুশি করতে না পারার জন্য ক্ষমা চাইছি।’ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে বিদায় জানাতে এটাকেই উপযুক্ত সময় মনে করেছেন বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। দল এবং টি-টোয়েন্টির নতুন অধিনায়ককে আগাম শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ দলের হয়ে ৫৩ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন মাশরাফি। অধিনায়ক হিসেবে শেষ ম্যাচটি ছিল তাঁর ২৭তম ম্যাচ। বাংলাদেশের বিজয় দিয়েই এদেশের ক্রিকেটিয় নক্ষত্র মাশরাফির টি-টোয়েন্টি থেকে বিদয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম স্মরণীয় দিন হিসেবে জাতি মনে রাখবে । তোমাকে সালাম ম্যাশ । তুমি আমাদের মনের মনিকোঠায় থাকবে সবসময়। তোমার লড়াকু চরিত্র আমাদের আগামী দিনের তরুন প্রজন্মকে উৎসহ যোগাবে।