লৌহ যুগের গণহত্যার প্রমাণ মিলেছে স্পেনে

18

বিস্ময় প্রতিবেদন
হাজার বছর আগের গণহত্যার প্রমাণ খুঁজে পেয়েছেন যুক্তরাজ্য ও স্পেনের প্রত্নতাত্ত্বিকদের একটি দল। উত্তর স্পেনের বাঙ্ক প্রদেশের এই শহরটি প্রথম আবিষ্কৃত হয়েছিল ১৯৩৫ সালে এবং প্রথম খনন করা হয়েছিল ১৯৭৩ সালে। লা হোয়া শহরটি খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০ এবং ২০০ এর মধ্যে একটি সহিংস আক্রমণের শিকার হয়ে ধ্বংস হয়েছিল বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা। এই গণহত্যার পর শহরটি আর কখনও দখল করা হয়নি বলে জানান তারা। গণহত্যার শিকার হওয়া মৃতদেহগুলো শহরটি খনন না করা পর্যন্ত সেখানেই পড়ে ছিল। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ যুক্তরাজ্য ও স্পেনের প্রত্নতাত্ত্বিকদের একটি দল এই হামলার বিষয়ে আরও সন্ধানের প্রত্যাশায় ১৩ কঙ্কাল উদ্ধার করেন। তারা জানান, নিহতদের মধ্যে পুরুষ, মহিলা ও শিশুরাও ছিলেন। গবেষণার পর গণহত্যার পুরো ঘটনাটি উঠে আসবে বলে তারা আশাবাদী। প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার প্রধান তেরেসা ফার্নান্দেজ-ক্রেসপো বলেছেন, ‘একজন পুরুষ সামনের দিক থেকে একাধিকবার আঘাত পেয়েছিলেন তাতে বোঝা যাচ্ছে যে সামনা-সামনি যুদ্ধ হয়েছিল।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘এই ব্যক্তিটিকে কেটে ফেলা হলেও খুলিটি উদ্ধার করা যায়নি। সম্ভবত শত্রু পক্ষ তাদের মাথা স্মারক হিসেবে সংরক্ষণ করেছে।’ অ্যান্টিকুইটি জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, অপর একজনকে পেছন থেকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে, একজন পুরুষ ও একজন মহিলার হাত কাটা ছিল। কিছু কঙ্কালের বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে তারা জ্বলন্ত ভবনের মধ্যে পড়েছিল, আবার কিছু লাশ রাস্তায় ফেলে রাখা হয়েছিল। এ থেকেই গবেষকরা প্রমাণ পায় যে, লাশগুলোকে কবর দিতে বা যুদ্ধ পরবর্তীতে জিনিস সংগ্রহ করতে এই শহরে আর কেউ আসেনি। গবেষকরা এক বিবৃতিতে বলেন, হামলাকারীদের লক্ষ্য ছিল শহরটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করা। তারা আরও বলেছেন, আক্রমণটি সম্ভবত হিংসাত্মকভাবেই করা হয়েছিল। কারণ লা হোয়া শহরটি সামাজিক, বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক অবস্থান থেকে উল্লেখযোগ্য কেন্দ্র ছিল। এটির অবস্থান ছিল স্পেনের আটলান্টিক উপকূলে অঞ্চল, ভূমধ্যসাগর এবং স্পেনের অভ্যন্তর মালভূমি এলাকায়। গবেষকরা বলেছেন, লা হোয়া হলো লৌহ যুগের একমাত্র আইবেরিয়ান সাইট যা স্থানীয় সম্প্রদায়ের বিরোধিতার কারণেই ধ্বংস হয়েছে। তারা প্রমাণ পাচ্ছেন, সম্ভবত লৌহ যুগেই স্পেনে বড় আকারের যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। ফার্নান্দেজ-ক্রেসপো আরও বলেন, ‘লা হোয়া থেকে মানুষের কঙ্কালের নতুন বিশ্লেষণ আমাদের খুব দৃঢ়তার সাথে মনে করিয়ে দেয় যে প্রাগৈতিহাসিক সময়ের মানুষ সবসময় যুদ্ধবিগ্রহের মধ্যেই সময় পার করতেন।’