রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে সংশয়

18

কালক্ষেপণ নয় আর
আগামী ২২ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে তা নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে প্রত্যাবাসনের সুনির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ করা হলেও বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের চলমান আলোচনায় বিষয়টি ঠিক এভাবে ছিল না। কাজেই প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়া নিয়ে আবারো সংশয় তৈরি হয়েছে। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে ২২ আগস্ট রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হবে বলে উল্লেখ করেছে। এরপর থেকেই এ নিয়ে নানামুখী আলোচনাও শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ তারিখের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য দেয়া হয়নি। গত রবিবার রাজধানীতে রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক এক সেমিনারে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক প্রত্যাবাসনের সুনির্দিষ্ট তারিখের বিষয় সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে স্পষ্ট করেই বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আলোচনা চলমান এবং যে কোনো সময় প্রত্যাবাসন শুরু হতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনই বলা যাচ্ছে না। এর আগে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোয় রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি চুক্তি সই করে মিয়ানমার। ‘অ্যারেঞ্জমেন্ট অন রিটার্ন অব ডিসপ্লেসড পারসন্স ফ্রম রাখাইন স্টেট’ শীর্ষক চুক্তি অনুযায়ী ২০১৮ সালের ২৩ জানুয়ারির মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা ছিল। নানা অজুহাতে মিয়ানমার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া থেকে সরে দাঁড়ায়। গত এক মাস ধরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন দ্রুত শুরুর ব্যাপারে চীন মিয়ানমারের ওপর চাপ দিতে শুরু করেছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার নানা পদক্ষেপ ও চাপ আগের চেয়ে বেড়েছে। এ অবস্থায় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের আসন্ন অধিবেশনে এ নিয়ে আরো কঠোর সমালোচনার আগেই মিয়ানমার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর একটি বার্তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দিতে চাচ্ছে। ফলে খুব ছোট আকারে হলেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে মিয়ানমার খুবই আগ্রহী হয়ে ওঠে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু নিয়ে বাংলাদেশের প্রস্তুতি রয়েছে। মিয়ানমার চাইলে যে কোনো সময় প্রত্যাবাসন শুরু সম্ভব। তবে সবার আগে রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক প্রত্যাবাসন এবং রাখাইনে বসবাসের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে মিয়ানমারকে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে দৃশ্যত মিয়ানমারের আগ্রহ আগের চেয়ে যথেষ্ট বাড়লেও রাখাইনে নিরাপদ পরিবেশ কতটা সৃষ্টি হয়েছে সে বিষয়টি মিয়ানমার এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে স্পষ্ট করতে পারেনি। আমরা জানি, খুব সহজে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান হবে না। এ জন্য আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে, অপেক্ষা করতে হবে এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। এ ক্ষেত্রে রাশিয়া, চীন, ভারতের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ মানবিক সংকটে আন্তর্জাতিক পরিম-লের একটা সহানুভূতি রয়েছে। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে তা যেন অব্যাহত থাকে, সে জন্য আমাদের কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যেতে হবে। মিয়ানমার চাইবে কালক্ষেপণ করতে, এ ব্যাপারে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। বহুমুখী চাপে মিয়ানমার সমস্যার সমাধানে বাধ্য হবে, এটাই আমরা আশা করি।