রোহিঙ্গা ইস্যু, রাজনৈতিক সমাধান অপরিহার্য

29

কক্সবাজারের উখিয়ায় কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছে মিয়ানমার সরকারের একটি প্রতিনিধিদল। দেশটির পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের প্রতিনিধিদলটি গত শনিবার ক্যাম্পটি পরিদর্শনের পর রোহিঙ্গা নেতাদের সঙ্গে বৈঠকও করেছে। প্রতিনিধিদল রাখাইনে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে রোহিঙ্গাদের বোঝাতে এই বৈঠক করেন। মিয়ানমারের বক্তব্য পরিষ্কার না হওয়ায় বৈঠক ফলপ্রসূ হয়নি বলে খবরে প্রকাশ। অবশ্য গত বছরও মিয়ানমারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল কক্সবাজারের শিবিরে গিয়ে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেছিল। তবে তাতে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় কোনো গতি আসেনি। অবস্থা এমন দাঁড়াচ্ছে যে, রোহিঙ্গা ইস্যু মানবিক সংকট হিসেবে শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে ভূরাজনৈতিক সংকটে রূপ নিচ্ছে। এ সংকট সমাধানের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মূল ভূমিকা পালন করতে হবে। জাতিগতভাবে নিধনের উদ্দেশে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছে গত কয়েক দশক ধরে। কিন্তু গত ২০১৬ সালের অক্টোবর এবং সর্বশেষ ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে অভিযানের নামে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে বসবাসকারী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর অত্যাচার-নির্যাতন শুরু করে নির্মমভাবে। সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা, ধর্ষণের শিকার হয়েছে অসংখ্য রোহিঙ্গা নারী। সহিংসতার ঘটনায় প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এর আগে থেকেই আরো অন্তত চার লাখ রোহিঙ্গা বিভিন্ন সময়ে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। বর্তমানে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ এলাকায় ৩৪টি শরণার্থী শিবির রয়েছে। রোহিঙ্গাদের প্রতি সমবেদনা এবং মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় বাংলাদেশের প্রতি সংহতি এবং রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসনের তাগিদ জানিয়ে আসছে বিশ্ব সম্প্রদায়। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে ইতোপূর্বে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি হয়। কিন্তু ওই চুক্তি বাস্তবায়নে মিয়ানমারের আগ্রহ ও আন্তরিকতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে রয়েছে এখনো। আশার কথা হলো, এখনো আন্তর্জাতিক মহল রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে তৎপর রয়েছে। তবে চীন, জাপান, ভারতের ভূমিকা জোরালো হলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় গতি পেত। বর্তমান প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গাদের নাগরিক পরিচয়ের স্বীকৃতি, তাদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ করা ও নিরাপদ বসবাসের নিশ্চয়তা দেয়ার জন্য মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগে বিশ্ব সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। মানবিক কারণেই প্রতিবেশী মিয়ানমারের নাগরিকদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। এই বিপুলসংখ্যক মানুষের বাড়তি দায়িত্ব বাংলাদেশের জন্য অবশ্যই বড় বোঝা। রাখাইনে ফিরে যেতে চায় রোহিঙ্গারা। কিন্তু সেই ফিরে যাওয়াটা স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপত্তার সঙ্গে হতে হবে। এর পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের অধিকারের বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। এ অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি, স্থিতি এবং নিরাপত্তার জন্য রোহিঙ্গা ইস্যুর রাজনৈতিক সমাধান অপরিহার্য।