রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় বৌদ্ধ ভিক্ষুদের মদতদানের অভিযোগ

186

বিশ্ব ডেস্ক: মিয়ানমারের পুলিশ ২ বৌদ্ধ ভিক্ষু সহ ৭ জন বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদীর বিরুদ্ধে সহিংসতায় ইন্ধনদানের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। স্থানীয় মুসলিমদের সঙ্গে এক সংঘাতের পর এ পরোয়ানা জারি করা হয়। এ খবর দিয়েছে বিবিসি। খবরে বলা হয়, ইয়াঙ্গুনের মিনগালার টং নিউন্ট শহরতলীতে কয়েক ডজন বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদী ‘অবৈধ রোহিঙ্গা’দের খোঁজে হামলে পড়ে। পরবর্তীতে সংঘাতে একজন আহত হয়। এই সহিংসতা এমন সময় ঘটলো যখন বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারের কট্টরপন্থী বৌদ্ধরা ক্রমেই দেশটির মুসলিম সংখ্যালঘুদের প্রতি কঠোর হয়ে উঠছে। বর্তমানে মিয়ানমারে ১০ লাখ মুসলমান আছে যারা নিজেদের রোহিঙ্গা বলে পরিচয় দেয়। মিয়ানমার সরকার তাদেরকে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বিবেচনা করে। দেশটির বেশিরভাগ বার্মিজ নাগরিকের মধ্যেও একই দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করে। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বুধবার বৌদ্ধ ভিক্ষুদের নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদীরা ইয়াঙ্গুনের মুসলিম পাড়াগুলোতে প্রবেশ করে। তাদের দাবি, জাতিগতভাবে রোহিঙ্গা মুসলিমরা সেখানে অবৈধভাবে বসবাস করছে। পুলিশ এই সংঘাত নস্যাৎ করে দেয়। বিবাদমান লোকজনকে সরিয়ে দিতে সতর্কতামূলক ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এরপর যে সাতজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে তাদের মধ্যে দু’জন ভিক্ষু। মিয়ানমারের আইনানুযায়ী, সহিংসতার ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে ২ বছরের কারাদ- ভোগ করতে হবে দ-িতদের। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইয়াঙ্গুনে কট্টরপন্থী বৌদ্ধরা প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজন করেছে। তারা ইসলাম ধর্মীয় অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে। অতি সম্প্রতি দু’টি স্কুল তারা জোরপূর্বক বন্ধ করে দিয়েছে এই অভিযোগের ভিত্তিতে যে এই স্কুলগুলো ‘অবৈধভাবে’ মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।