রোডসকে তাহলে এসব কারণে বাদ দিয়েছে বিসিবি

65

খেলাধুলা ডেক্স :
স্টিভ রোডসের সঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) চুক্তি ছিল ২০২০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত। কিন্তু তাঁর বিদায় চূড়ান্ত হয়েছে ২০১৯ বিশ্বকাপের পর পরই। বিসিবি বারবার জানিয়েছে, বিচ্ছেদটা সমঝোতার মাধ্যমেই হয়েছে। যতই বিসিবি বোঝাতে চাক, এই বিচ্ছেদে কোনো পক্ষ অখুশি নয়, তবুও প্রশ্ন আসবেই, নির্ধারিত মেয়াদের আগে কেন কোচ বিদায় করতে হলো? আজ ধানমন্ডির ব্যক্তিগত কার্যালয়ে নাজমুল হাসান কিছু ব্যাখ্যা দিয়েছেন রোডসের বিদায়-প্রসঙ্গে। সাউদাম্পটনে আফগানিস্তানকে হারানোর পর বার্মিংহামে ভারত-ম্যাচের আগে আট দিন বিরতি পেয়েছিল বাংলাদেশ। বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট পাঁচ দিনের ছুটি দিয়ে দিয়েছিলেন ক্রিকেটারদের। বিরতিটা কাজে লাগাতে সাকিব আল হাসান চেয়েছিলেন ফ্রান্সে যেতে। ভিসা জটিলতায় সেখানে যেতে না পারলেও তিনি লন্ডনে ছুটি কাটিয়েছেন। মাশরাফি বিন মুর্তজা ও মেহেদী হাসান মিরাজ পরিবার নিয়ে চলে গেছেন কার্ডিফের এক গ্রামে। তামিম ইকবাল, মোস্তাফিজুর রহমান, সাইফউদ্দিনের মতো কেউ কেউ গেলেন লন্ডনে। এই পাঁচটা দিন বাংলাদেশ দলকে দেখে কে বলবে, তারা বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ এক টুর্নামেন্ট খেলছে! এমনও হয়েছে, বিসিবি সভাপতি নাজমুল বার্মিংহামে টিম হোটেলে মিটিং করতে এসে দেখেন হোটেলে ক্রিকেটাররাই নেই! কোচ রোডস যেভাবে ক্রিকেটারদের ছুটি দিয়েছেন, এটি স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেননি বিসিবি সভাপতি, ‘ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের আগে পাঁচ দিনের ছুটি দেওয়া…বিশ্রাম দিতেই পারে। বিশ্রাম আর ছুটি দুই জিনিস। বিশ্বকাপে আমাদের সামনে তখন ভারত-পাকিস্তানের মতো শক্ত প্রতিপক্ষ। অথচ আপনার খেলোয়াড়েরা ইউরোপে বেড়াতে যাচ্ছে, এটা হতে পারে না। এটা সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল না। এক-দুই দিনের বিশ্রাম হতে পারত। তাদের ভাবনায় ক্রিকেটের বাইরে আর তো কিছু থাকার কথা না। এতে যে মনোযোগে ভীষণ বিঘ্ন ঘটে। আর জানিই না পুরো দল ছুটিতে! এমনটা ঘটনা আগে ঘটেনি। এটা একেবারেই অস্বাভাবিক।’ নাজমুল যে বললেন, তিনি জানেনই না বাংলাদেশ দলের ছুটির ব্যাপারে। কিন্তু দলের সঙ্গে বিসিবির দুজন পরিচালক আকরাম খান ও খালেদ মাহমুদ ছিলেন। তাঁরাও কি জানতেন না ছুটির ব্যাপারে? বিসিবি সভাপতি বললেন মাহমুদ-আকরামরাও জানতেন না, ‘আকরাম-সুজন (মাহমুদ) ওখানে ছিল। ওরাও জানে না। (ছুটি) হয়ে যাওয়ার পর জানে। তাহলে তো লাভ হলো না।’ নাজমুল জানালেন, টুর্নামেন্টের মাঝে খেলোয়াড়দের হুটহাট ছুটি দেওয়ার ঘটনা এ বিশ্বকাপেই প্রথম নয়। আগেও হয়েছে। গত এশিয়া কাপেও হয়েছে। কোচের ওপর বিসিবি সভাপতির অসন্তুষ্টির আরও একটি কারণ, পাকিস্তানের বিপক্ষে এলোমেলো একাদশ নিয়ে নামা। আগের দিন হাতে চোট পাওয়া মুশফিকুর রহিমের খেলার কথা ছিল না এ ম্যাচ। হ্যামস্ট্রিং চোট আর পারফরম্যান্স ভালো না হওয়ায় লর্ডসে পাকিস্তান ম্যাচে বিশ্রামে থাকার কথা ছিল মাশরাফি বিন মুর্তজারও। মাশরাফি এ কারণে ম্যাচের আগের দিন অনুশীলন করেননি। পাকিস্তানের বিপক্ষে টিম মিটিংয়েও অংশ নেননি। অথচ পরের দিন মুশফিক-মাশরাফি দুজনই খেললেন। এ বিষয়টিও নাজমুলের পছন্দ হয়নি, ‘পাকিস্তান ম্যাচের আগের রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত আমি টিম হোটেলে। ওখানে একাদশ নিয়ে পরিকল্পনা হয়েছে। দেখলাম মুশফিকের হাত স্লিংয়ে ঝুলছে। সে হাত নাড়াতেই পারছে না। জানলাম, মুশফিক একাদশে নেই। মাশরাফি আগ দিন থেকেই নেই। অনুশীলন করেনি। দলের মিটিংয়ে সে ছিল না। আমরা একাদশ ঠিক করলাম। কোচ সেখানে ছিল। সবাই ছিল। পরের দিন দেখলাম অন্য একাদশ নামছে। অবশ্যই এসব সমস্যা।’ তার মানে হোটেলে সভার পর কোচ একাদশ বদলেছেন, যেটি বিসিবি সভাপতির পছন্দ হয়নি। নাজমুলের পছন্দ হয়নি বিশ্বকাপের আগে লেস্টারশায়ারে দলের কার্যক্রম নিয়েও। সেখানে নাকি রোডস খেলোয়াড়দের অনুশীলন ‘ঐচ্ছিক’ করে দিয়েছিলেন। বিসিবি সভাপতি বললেন, ‘ও ধরে নিয়েছিল ক্রিকেটাররা নিজেদের ইচ্ছেয় অনুশীলন করবে। এটা তো আমাদের সঙ্গে মেলে না। অপশনাল ভেবে আমাদের ক্রিকেটাররা প্র্যাকটিসে যায় না। এতে লাভ হলো না। বিশ্বকাপের আগে এত টাকা খরচ করে ওখানে অনুশীলনের ব্যবস্থা করেছিলাম। অনুশীলন ঠিকঠাক হলো না।’ ক্রিকেটারদের কাছ থেকেও নাকি রোডস সম্পর্কে এমন কিছু পর্যবেক্ষণ পেয়েছেন নাজমুল, তাঁকে নিয়ে আর এগোতে উৎসাহ বোধ করেনি বিসিবি। কথা হলো, বিশ্বকাপে বাংলাদেশ যদি ১০ দলের মধ্যে আট নম্বর হয়ে না ফিরত, সেমিফাইনালে যেতে পারত, তবে কি রোডসকে বিদায় জানাত বিসিবি? এই কোচকে বিসিবি এনেছিল ২০১৯ বিশ্বকাপ মাথায় রেখে। তিনি ইংলিশ কোচ, ইংলিশ কন্ডিশন তাঁর হাতের তালুর মতো চেনা। অথচ ইংল্যান্ড থেকে বাংলাদেশ দেশে ফিরল শূন্য হাতে, রোডসকে বিদায় করার এটিও একটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ, সেটি কি আর বিসিবি বলবে!