রোগের পূর্বাভাস ও নির্ণয়ে নতুন প্রযুক্তি

20

প্রযুক্তি প্রতিবেদন:
সবার জন্য চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা বিশ্বেই কঠিন হয়ে পড়েছে। বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাবে সাধারণ স্বাস্থ্যসেবার পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থাকে ফেলে দিয়েছে চ্যালেঞ্জের মুখে। নাজুক এ পরিস্থিতিতে চিকিৎসা ব্যবস্থায় আইহেলথ স্ক্রিন ইনকরপোরেশন ইউএসের মাইহেলথ উদ্ভাবিত কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন ও অনলাইনভিত্তিক বহুমুখী উদ্ভাবন বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য সেবা কোটি মানুষের নাগালে চলে আসা এখন সময়ের ব্যাপার। এরই মধ্যে কিছু সুবিধা বাংলাদেশের মানুষ পেতে শুরু করেছে। বিশেষ করে মাইহেলথের ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি নির্ণয়ে উদ্ভাবিত আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সফটওয়্যার বিপুল সংখ্যক মানুষকে অন্ধত্ব থেকে রক্ষা করবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। মাইহেলথের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন হলো- আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিভিত্তিক সফটওয়্যার। যার সাহায্যে নিখুঁতভাবে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি (ডিআর), এইজ রিলেটেড ম্যাসকিউলার ডিজেনারেশন ডিজিজ (এ.এম.ডি) এবং গ্লুকোমা নির্ণয় করা যাবে। দেশ-বিদেশে কয়েক কোটি মানুষ অন্ধত্ব থেকে রক্ষা পেতে পারে এ প্রক্রিয়ায়। আক্রান্ত হওয়ার আগে বা শুরুতেই প্রতিরোধক ব্যবস্থা গ্রহণ করে ডিআর আক্রান্ত রোগীদের ৯০ ভাগকে অন্ধত্ব থেকে রক্ষা করা যায়। অ্যাসোসিয়েশন অব রিসার্চ অ্যান্ড ভিশন (এআরভিও)-এর মাধ্যমে বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষিত ও অনুমোদিত এই সফটওয়্যার। নিরীক্ষণ নির্ভুলতার হার ৯৮ শতাংশ। খ্যাতিমান চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন হলো, মাইহেলথের সফটওয়্যার দিয়ে চোখের ফানডোস্কোপিক ছবি থেকেই বলে দেওয়া যাবে এটি ডিআর কিনা? এটা এতোটাই নির্ভুলভাবে করা যাবে যে, কোনো দ্বিমত প্রকাশের সুযোগ নেই। ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য এটা বিরাট সুখবর। বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সাথে এ নিয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে, সমিতির পক্ষ থেকে যার অর্থায়নও করা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির নিবন্ধিত ৫০ লাখ রোগীর ডিআর পরীক্ষা করবে আইহেলথস্ক্রিন। শুধু তাই না, এর সাথে থাকছে আরও রোগ নির্ণয়ের সুবিধা; যেমন- এ.এম.ডি, যা প্রাথমিক পর্যায় নির্ণয় করা সম্ভব, আর ধরা পড়বে গ্লুকোমা সমস্যা। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে এক কোটি ১০ লাখ মানুষ ডায়াবেটিস আক্রান্ত, যাদের একটি বড় অংশ অন্ধত্বের হুমকির মুখে রয়েছেন। আইডিএফ-এর প্রতিবেদনে ২৯ লাখ ৭০ হাজার মানুষের রেটিনোপ্যাথি সমস্যা আছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাস্তবে এই সংখ্যা আরও বেশি হবে বলে মনে করা হয়। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সফটওয়্যার ব্যবহার করে অন্যান্য রোগেরও পূর্বানুমান সম্ভব। স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কতটুকু তা আগেই জেনে নিতে পারবেন রোগী। চিকিৎসক সে অনুযায়ী পরামর্শ দিয়ে রোগীর জীবন শঙ্কামুক্ত করতে পারবেন। আইহেলথস্ক্রিন ইনকরপোরেশন ইউএস এর প্রতিষ্ঠাতা, প্রধান বিজ্ঞানী ও সিইও হলেন বাংলাদেশের ড. মো. আলাউদ্দীন ভূঁইয়া। তিনি নিউইয়র্কের আইকান স্কুল অব মেডিসিন মাউন্ট সিনাইয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও বিশেষজ্ঞ। হার্ভাড স্কলার এবং নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিশ্বের খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করা এই বাংলাদেশি বর্তমানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সসহ বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা করছেন। ড. ভূঁইয়া বলেন, দেশ বিদেশের অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সহজ প্রাপ্তি নিশ্চিত করবে মাইহলথ।