রাশিয়ায় করোনার আরেকটি টিকা

23

প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, সহযোগিতা চাই
বিশ্বের সর্বপ্রথম রাষ্ট্ররূপে করোনাভাইরাসজনিত মহামারীর টিকার অনুমোদন দিয়ে আগস্টে দুনিয়াজুড়ে তোলপাড় তুলেছিল ভøাদিমির পুতিনের রাশিয়া। ‘স্পুটনিক’ নামের টিকাটির ১২০ কোটি ডোজের অর্ডার দিয়েছে এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ১০টির মতো দেশ। বার্তা সংস্থার খবরে প্রকাশ, ১৫ অক্টোবরের আগেই রুশ সরকার করোনার আরেকটি টিকার অনুমতি দিতে যাচ্ছে। এ দিকে, রাশিয়ার প্রতিবেশী দেশ চীন জানিয়েছে, আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে তাদের উদ্ভাবিত টিকা ‘জনসাধারণের নাগালে’ আসতে পারে। উল্লেখ্য, যে চীনে করোনার সূচনা, সে দেশের তৈরি করা চারটি টিকা ট্রায়ালের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পত্রপত্রিকার খবরে এ তথ্যগুলো জানা যায়। আরও জানা গেছে, করোনায় পর্যুদস্ত, সুদূর ব্রাজিলে পরিচালিত ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় চীনা কোম্পানির টিকা ‘অত্যন্ত ইতিবাচক’ ফল দিয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে ব্রাজিলে এ টিকা প্রয়োগের সূচনা হবে। করোনার টিকার প্রায় ৩০০টি প্রকল্প বিশ্বে চলমান রয়েছে। এগুলোর কমপক্ষে ৯টি রয়েছে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তৃতীয় পর্যায়ে। এ নিয়ে মোট ৪০টি টিকার পরীক্ষা চলছে মানবদেহে। চীন বলেছে, গত জুলাই মাসেই তারা টিকা প্রয়োগ করেছে সেনাবাহিনীসহ জরুরি সেবাকর্মীদের ওপর। গত বুধবার মার্কিন একটি প্রতিষ্ঠান তাদের টিকার চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু করার কথা ঘোষণা করেছে। তারা ৬০ হাজার মানুষের দেহে পরীক্ষা করবে এ টিকার কার্যকারিতা ও নিরাপত্তার বিষয়। অপর দিকে, রাশিয়া জানায়, গত মাসে তাদের অনুমোদিত ‘স্পুটনিক’ টিকা রুশ জনগণকে এখন দেয়া হচ্ছে। ভারতেও তাদের একটি টিকার ট্রায়াল শুরু হতে যাচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যে লক্ষ করেছি, বিশ্বের কয়েকটি পরাশক্তি কিংবা প্রভাবশালী দেশ করোনাঘটিত ‘কোভিড-১৯’ মহামারী নিরোধের টিকা নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছে। এর জের ধরে ‘করোনা কূটনীতি’ ও ‘ভ্যাকসিন রাজনীতি’র মতো নতুন পরিভাষার প্রচলন ঘটেছে। অথচ করোনাভাইরাস কোনো কূটনীতির বিষয় হতে পারে না এবং ভ্যাকসিন নিয়ে চলা উচিত নয় কোনো দেশের জাতীয় কিংবা আন্তর্জাতিক রাজনীতি। বরং করোনার মতো অভূতপূর্ব ভয়াবহ জীবাণুর সংক্রমণ এবং এর ফলে সৃষ্ট প্যানডেমিক বা অতিমারী সাফল্যের সাথে মোকাবেলার জন্য চাই বিশেষত শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা। এ জন্য আগে তাদের সর্ববিধ বৈরিতা পরিহার করা প্রয়োজন। মানবজাতি এখন নজিরবিহীন যে মহাসঙ্কটের শিকার, এর কবল থেকে রেহাই পেতে হলে ভিন্ন কোনো পথ নেই। বিশ্ববাসী মনে করে, করোনা টিকা জনগণের ওপর প্রয়োগের চেয়ে বেশি গুরুত্ববহ হলো, এটা তাদের নাগালে সত্যিকারভাবেই আসা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, ‘করোনা কিংবা কোভিড মহামারীর টিকা বা ভ্যাকসিন উদ্ভাবনই বড় কথা নয়; এটাকে নিরাপদ, সাশ্রয়ী, সুলভ, কার্যকর ও পরিবেশ অনুকূল হতে হবে। অন্যথায় পৃথিবীর সাধারণ মানুষ এর দ্বারা উপকৃত হতে পারবে না।’ আশার কথা, এই টিকার সুষ্ঠু বণ্টন, তথা এর গণপ্রয়োগের স্বার্থে পাশ্চাত্যের বহু দেশ এক হয়ে কাজ করার জন্য এগিয়ে এসেছে। এ জন্য বিরাট তহবিল সংগ্রহের কথা। আমাদের প্রত্যাশা, করোনার টিকা দ্বারা যাতে সর্বাধিক সংখ্যক মানুষ উপকৃত হতে পারে, তা নিশ্চিত করা হবে।