রহস্যজনক চীনা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রায় ২ হাজার

108

বিশ্ব প্রতিবেদন
চীনে এক রহস্যজনক সারস (এসএআরএস)-ধরনের ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দুই হাজার হতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। প্রাথমিকভাবে আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ জনেরও কম বলে ধারণা করা হয়েছিল। ইতিমধ্যে এর সংক্রমণে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার চীনা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা রহস্যময় ভাইরাসটিতে আরো চার জন নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তরা সকলের স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন বলে জানিয়েছে উহান মিউনিসিপ্যাল হেলথ কমিশন। এর আগে চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ভাইরাসটিতে আক্রান্তের সংখ্যা অন্তত ৪১। মূলত হুবেই প্রদেশের উহান শহরেই মহামারী আকার ধারণ করেছে এর বিস্তার। গত সপ্তাহে জাপান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারাও চীনা ভাইরাসটির সংক্রমণ ধরতে পেরেছে। ভাইরাসটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পারতে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে, শুক্রবার লন্ডনের এমআরসি সেন্টার ফর গ্লোবাল ইনফেকসিয়াস ডিজিজ এনালাইসিস অ্যাট ইমপেরিয়াল কলেজের গবেষকরা ভাইরাসটিতে আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে নতুন তথ্য দেন। বলেন, উহানে আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজারের বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রটি জানায়, ১২ই জানুয়ারি পর্যন্ত উহানে রহস্যজনক ভাইরাসটিতে আক্রান্তের আনুমানিক সংখ্যা ১ হাজার ৭২৩ জন।
গবেষকরা চীনের বাইরে ভাইরাসটির বিস্তারের খোঁজও জারি রেখেছেন। এখন পর্যন্ত জাপানে একজন ও থাইল্যান্ডে দুই জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। নতুন তথ্য নিয়ে কাজ করা গবেষকদের একজন অধ্যাপক নিল ফারগুসন। তিনি বলেন, উহান থেকে ফ্লাইটে করে বিদেশে তিনটি ভাইরাস বাইরে যাওয়ার মানে হচ্ছে, আদতে যতটা জানা গেছে ভাইরাসটির বিস্তার তার চেয়ে আরো বেশি। আমি এক সপ্তাহ আগে এটা নিয়ে যতটা না উদ্বিগ্ন ছিলাম, এখন নিশ্চিতভাবেই তার চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন।
প্রসঙ্গত, ২০০২-২০০৩ সালের দিকে চীন থেকে সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপাইরটি সিনড্রোম (সারস) নামের প্রাণঘাতী এক ভাইরাস বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রাণ হারায় ৭০০’র বেশি মানুষ। তাই নতুন এই নিউমোনিয়া নিয়েও বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ে চীন থেকে যাওয়া ভ্রমণকারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, শুক্রবার থেকে তারাও চীনের মূল ভূখণ্ড থেকে যাওয়া ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবে। তবে চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এইবারের নিউমোনিয়াটি সারস বা বার্ড ফ্লু নয়।