রমজান আত্মশুদ্ধির তাগিদ দেয়

12

ধর্ম ডেস্ক:
মানুষের পার্থিব জীবনের সাফল্য ও পরকালীন মুক্তি নির্ভর করে তার আত্মার পরিশুদ্ধির ওপর। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে পরিশুদ্ধ আত্মার অধিকারীকেই সফল বলেছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা সফল হলো, যারা তা (আত্মা) পরিশুদ্ধ করল এবং তারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হলো যারা তা কলুষিত করল।’ (সুরা আশ শামস, আয়াত : ৯-১০) আত্মার এই পরিশুদ্ধির মূল কথাই হলো তাকওয়া বা আল্লাহভীতি অর্জন করা। যার ভেতর আল্লাহর ভয় আছে সে দুনিয়ার যেখানেই থাকুক না কেন পাপে লিপ্ত হতে পারবে না। হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) হজরত উবাই বিন কাব (রা.)-কে তাকওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘আপনি কি কাঁটাযুক্ত গাছে ঘেরা পথে চলেছেন? হজরত ওমর (রা.) বলেন, হ্যাঁ। হজরত উবাই (রা.) প্রশ্ন করলেন কিভাবে চলেছেন সেখানে? হজরত ওমর (রা.) বললেন, খুব সতর্ক হয়ে। যেন পোশাক কাঁটায় বেঁধে না যায়, গায়ে যেন কাঁটাবিদ্ধ না হয় সেভাবে। হজরত উবাই (রা.) বললেন, এটাই তাকওয়ার দৃষ্টান্ত। (তারবিয়াতুল আওলাদ ফিল ইসলাম, হাদিস : ১৯৮১) আল্লাহ তাআলা সুরা বাকারার ১৮৩ নম্বর আয়াতে রোজার উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেছেন, ‘যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।’ সুতরাং রমজান হলো, বান্দার তাকওয়া অর্জনের আহ্বান। তার হৃদয় পরিশুদ্ধ করার আহ্বান। মনে রাখতে হবে, তাকওয়া প্রদর্শনের কোনো বিষয় নয়। তার সম্পর্ক আত্মার সঙ্গে। মুসলিম শরিফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বুকের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, তাকওয়ার স্থান এটা। তিনি তিনবার বলেছেন। সুতরাং তাকওয়া ও আত্মার পরিশুদ্ধি পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত একটি বিষয়। সুতরাং আমাদের দায়িত্ব হবে, ত্রুটিমুক্ত সিয়াম পালনের মাধ্যমে তাকওয়া অর্জন করা। নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে নেওয়া। তবেই আমরা দুনিয়া ও আখিরাতে উপকৃত হতে পারব।