রমজানে শূন্য থেকে পুণ্যে

60

ধর্ম ডেস্ক:
পুণ্যবৈভবের মাস রমজান। এ মাস সৌভাগ্য ও কল্যাণের বার্তা নিয়ে আসে। এ মাস মূলত ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার মাস। প্রীতি ও ভালোবাসার পরাগ ছড়ানোর মাস। বদান্যতার দীপ্তি ও ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর হওয়ার মাস। সহমর্মিতা ও হৃদ্যতার আলো বিলানোর মাস। অমূল্য রতন ‘তাকওয়া’ অর্জনের মাস। আল্লাহ প্রেমের সরোবরে অবগাহন করার মাস। ক্ষমা ও অনুকম্পায় ঋদ্ধ হওয়ার মাস মাহে রমজান। রমজানের রোজা হিজরি দ্বিতীয় সনে ফরজ হলেও রোজার ইতিহাস বেশ প্রাচীন। মুসলমানদের আগেও অন্যান্য ধর্মে রোজার বিধান প্রচলিত ছিল। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘হে ঈমানদাররা, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে। যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল। নিঃসন্দেহে তোমরা মুত্তাকি হতে পারবে। (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৮৩)
এ আয়াত দ্বারা বোঝা যায়, যুগে যুগে রোজার উদ্দেশ্য হলো বান্দাকে তাকওয়া ও খোদাভীরুতার প্রশিক্ষণ দেওয়া। যাতে যাবতীয় সব পাপাচার-অনাচার, অনৈতিক ও অমানবিক কার্যকলাপ এবং গুনাহ-নাফরমানি ইত্যাদি থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব হয়। রোজার গুরুত্ব আল্লাহর কাছে এত বেশি যে অন্যান্য আমলের সওয়াব আল্লাহ তাআলা নির্দিষ্ট পরিমাণে দেবেন। কিন্তু রোজার সওয়াব দেবেন অগণিত-অসংখ্য। এ মর্মে হাদিসও বর্ণিত হয়েছে।
হাদিসে এসেছে, এ মাস রহমত, বরকত ও গুনাহ মাফ হওয়া, দোয়া কবুল হওয়ার মাস। এই পবিত্র মাসে ফেরেশতারা মানুষের উদ্দেশে প্রতিদিন বলেন, ‘হে কল্যাণপ্রত্যাশী, আল্লাহ তাআলার কথা স্মরণ করো, তাঁর ইবাদত-বন্দেগিতে রত হও এবং একনিষ্ঠ মনে তাওবা করো। তোমরা এই মাসে যা কামনা করবে ও প্রার্থনা করবে আল্লাহ তাআলা তা কবুল করবেন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৬৮২ ও ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৬৪২)
রোজাদার আল্লাহ তাআলার অত্যন্ত নৈকট্যপ্রাপ্ত হয়। রোজাদারের বিভিন্ন বিষয় তিনি অত্যধিক পছন্দ করেন। এ ব্যাপারে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘রোজাদারের মুখের ঘ্রাণ আল্লাহর কাছে মেশকে আম্বরের সুঘ্রাণ অপেক্ষা অধিকতর পছন্দনীয়।’ (নাসাঈ, হাদিস : ২২১৪)
অন্য হাদিসে মহানবী (সা.) বলেন, ‘রোজাদারের জন্য দুটি খুশি। একটি ইফতারের সময়। অন্যটি আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের সময়। (বুখারি, হাদিস : ১৮০৫; তিরমিজি, হাদিস : ৭৬৬)
রমজানে রোজাব্রত পালন এবং বিভিন্ন ইবাদত-বন্দেগি ও সৎকর্মের চর্চার দরুন মানুষের মনমানস, কুপ্রবৃত্তির প্রভাব দূরে থাকে। হৃদয়ে সার্বক্ষণিক পবিত্র ও সিনষ্ঠ চেতনাবোধ কাজ করে। ধর্মীয় আগ্রহ ও দায়িত্ব এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য জাগরূক থাকে। সর্বোপরি রোজাদাররা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য ও সন্তুষ্টি অর্জনের প্রতি সর্বাত্মক সচেষ্ট থাকে।
মহান আল্লাহ আমাদের মাহে রমজানের সামগ্রিক কল্যাণ-পুণ্য, বরকত-অনুকম্পা ও সৌভাগ্য অর্জনের তাওফিক দান করুন। তাঁর অফুরান ক্ষমা ও করুণার বারিধারায় সিক্ত করুন।
লেখক : ব্যুরো চিফ, আন্তর্জাতিক ইসলামী সাহিত্য সংস্থা, বাংলাদেশ ও মহাপরিচালক, জামেয়া দারুল মাআরিফ আল ইসলামিয়া, চট্টগ্রাম।