রমজানে তাহাজ্জুদের অভ্যাস করুন

38

ধর্ম ডেস্ক:
মহান আল্লাহর সঙ্গে বান্দার নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যম ‘কিয়ামুল লাইল’ বা তাহাজ্জুদ। হাদিসের ভাষ্যমতে রাতের তৃতীয় ভাগে আল্লাহ তাআলা পৃথিবীর আকাশে নেমে আসেন এবং বান্দাকে তাঁর দিকে আহ্বান জানান। নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্য তাহাজ্জুদের নামাজ আবশ্যক ছিল। তিনি কখনো তা পরিহার করতেন না। উম্মতের জন্য তাহাজ্জুদ আবশ্যক না হলেও পৃথিবীর সব বুজুর্গ ব্যক্তি গুরুত্বের সঙ্গে তাহাজ্জুদ আদায় করতেন। রমজান মাসে তাহাজ্জুদের গুরুত্ব আরো বেড়ে যায়। রাসুলে আকরাম (সা.) রমজানে তাহাজ্জুদের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রমজানে রাসুল (সা.) রাত জাগরণ করতেন, পরিবারকে জাগিয়ে দিতেন এবং লুঙ্গি শক্ত করে বাঁধতেন (স্ত্রী সংস্রব পরিহার করতেন)। অর্থাৎ রমজানে তিনি তাঁর পরিবারকে তাহাজ্জুদ নামাজের তাগিদ দিতেন। তাই শুধু নিজে নয়, পরিবারের সদস্যদেরও তাহাজ্জুদ আদায়ে উৎসাহিত করতে হবে। তাদের এমন সময় জাগিয়ে দিতে হবে যেন তারা সাহরি খাওয়ার আগে বা পরে তাহাজ্জুদ আদায় করে নিতে পারে। রমজান তাহাজ্জুদ নামাজে অভ্যস্ত হওয়ার একটি সুযোগ। বছরের অন্য সময় তাহাজ্জুদ নামাজের সময় আমরা ঘুমিয়ে থাকলেও রমজানে এই সময় জেগে থাকা হয়। ইচ্ছা করলেই আমরা সাহরি খাওয়ার আগে বা পরে তাহাজ্জুদ পড়তে পারি। দীর্ঘ এক মাস নিয়মিত তাহাজ্জুদ আদায় করলে পরবর্তীকালে তা আদায় করা সহজ হবে। আর তাহাজ্জুদের এই অভ্যাস পরকালে আমাদের জন্য হতে পারে নাজাতের উসিলা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাহাজ্জুদ আদায়ের তাওফিক দান করুন। আমিন।