রমজানের রোজা এলো যেভাবে

76

ধর্ম ডেস্ক:
রমজান শব্দটি আরবি (رمضان‎‎)। আরবি ধ্বনিতত্ত্ব অনুযায়ী অঞ্চলভেদে রমজান, রামাদান, রমজান উচ্চারিত হয়ে থাকে। রমজান হলো হিজরি বর্ষপঞ্জিকা অনুসারে নবম মাস। হিজরি বর্ষকে ইসলামি বর্ষ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়ে থাকে। তবে মাস হিসেবে রমজান শব্দের প্রচলন ইসলামপূর্ব জাহেলি যুগেও ছিলো। যেমন হজের মৌসুমকে যুল-হাজ্জাহ (জিলহজ) বলা হতো। সে-সময় বিভিন্ন বড় বড় ঘটনাকে স্মারক করে বর্ষ গণনার প্রচলন ছিলো। আরবি রমজান (رمضان‎‎) শব্দটি এসেছে আরবি মূল رمض (‘রমিদা’ বা ‘রমাদা’) থেকে। এর অর্থ প্রচ- উত্তাপ কিংবা শুষ্কতা। যেহেতু তখন রমজান উষ্ণ মৌসুমে আবর্তিত হতো, তাই এই নামকরণ হয়। পরবর্তী সময়ে যখন মাসটি হিজরি বর্ষের অন্তর্ভুক্ত হয়, তখন রোজায় মানব স্বভাবের দিকে বিবেচনা করে এই নাম রেখে দেয়া হয়। অর্থাৎ যেহেতু রমজানে রোজা রাখা হয়, আর রোজায় খাবার ও পানীয় থেকে বিরত থাকার ফলে মানুষের উদর শূন্য থাকে, আর শূন্য উদর বা খালিপেটের অবস্থাকে ‘রমদ’ বা আগুন-গরমের সঙ্গে তুলনা করা হয়ে থাকে যেমন বলা হয় ‘ক্ষুধায় পেটে আগুন জ্বলছে’—তাই রোজার মাসকে এই নাম দেয়া হয়েছে। রমজানের সঙ্গে রোজার সম্পর্ক: রমজানের সঙ্গে রোজার ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। হাসান বসরি রহ. বলেন, পূর্ববর্তী উম্মতদের ওপরও পূর্ণ একমাস রোজা ফরজ ছিলো। একটি মারফু’ হাদিসে রয়েছে, রাসুল সা. বলেছেন, তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের ওপর রমজানের রোজা ফরজ ছিল। (তাফসিরে ইবনে কাসির, ২/৫০১) আল্লামা আলুসি রহ. বলেন কিতাবিদের ওপরও রমজানের রোজা ফরজ ছিল। তারা তা বর্জন করে বছরে একদিন উপবাস পালন করে, যেদিন ফেরাউন লোহিত সাগরে নিমজ্জিত হয়। পরবর্তী সময়ে ইহুদিদের দেখাদেখি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ও একই দিনে রোজা পালন করে। অবশ্য তারা এর সঙ্গে আগে-পিছে আরও দুইদিন সংযোজন করে নেয়। এভাবে নানা সময়ে বাড়াতে বাড়াতে তাদের রোজার সংখ্যা পঞ্চাশের কোটায় পৌঁছে। আবার গ্রীষ্মকালে রোজা রাখা কষ্টসাধ্য হলে তারা তা পরিবর্তন করে শীতের মৌসুমে নিয়ে আসে। মুগাফ্ফাল ইবনে হানযালা রা. থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুল সা. বলেন : খ্রিষ্টানদের ওপর রমজানের একমাস রোজা ফরজ হয়েছিল। পরবর্তীকালে তাদের জনৈক সম্রাট অসুস্থ হয়ে পড়লে তারা এ মর্মে মানত করে যে, আল্লাহ তাকে রোগমুক্ত করলে রোজার মেয়াদ আরো দশ দিন বাড়িয়ে দেব। এরপর পরবর্তী সম্রাটের আমলে গোশত খেতে গিয়ে তার মুখে রোগব্যধি দেখা দিলে তারা অতিরিক্ত সাতদিন রোজা মানত করে। পরে অন্য সম্রাট বলেন, তিন দিন আর ছাড়বো কেন? এবং তিনি এ-ও বলেন যে, এ রোজাগুলো আমরা বসন্তকালে পালন করবো। এভাবে রোজা ত্রিশের সংখ্যা অতিক্রম করে পঞ্চাশের কোটায় পৌঁছে যায়। (রুহুল মাআনি ও তাফসিরে রাযি, সুরা বাকারা ১৮৩ নং আয়াতের তাফসির) ৭৪৭ সালের একজন আরব লেখক আবু যানাদ জানান যে, উত্তর ইরাকের আল জাজিরা অঞ্চলে অন্তত একটি মান্দাইন সমাজ ইসলাম গ্রহণের আগেও রমজানে রোজা রাখত। যদিও আরবের বাহিরে রমজান মাস হিসাব করা হতো না, কিন্তু এই হিসাবটা ভিন্নজাতিক পঞ্জিকার সঙ্গে মিলিয়ে স্থির করা হয়েছে বলে বলা হয়।