রমজানেও খালেদা জিয়ার প্রতি সরকারের জুলুম বন্ধ হচ্ছে না: রিজভী

15

সমীকরণ প্রতিবেদন:
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মামলা পরিচালনার জন্য কেরাণীগঞ্জের কারাগারে আদালত বসানোর যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে তার কঠোর সমালোচনা করে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ সরকারের উদ্দেশ্যে বলেছেন, আগুন নিয়ে খেলবেন না, হিংসার আগুনে আপনাদেরই সর্বনাশ হবে। সরকার খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করেনি। তারা জামিনে বাধা দিচ্ছে, চিকিৎসায় বাধা দিচ্ছে। এসব ‘ডার্টি গেম’ বন্ধ করুন। জামিনে হস্তক্ষেপ বন্ধ করুন। আদালতের ওপর প্রভাব বিস্তার বন্ধ করুন। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দীদের মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবেন না। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নিশ্চিহ্ন করার জন্য আদালতের স্বাধীনতাকে কারাগারে বন্দি করবেন না। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। রিজভী বলেন, লন্ডন থেকে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পরপরই সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় নির্দেশনা দিয়েছে খালেদা জিয়ার মামলা পরিচালনার জন্য কেরানীগঞ্জের কারাগারে আদালত বসাতে। গুরুতর অসুস্থ দেশনেত্রীকে পিজি হাসপাতাল থেকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে নেওয়ার চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র চলছে।
তিনি বলেন, গুরুতর অসুস্থ খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সম্পন্ন হয়নি, তিনি এখনও বেশ অসুস্থ। চিকিৎসা শেষ না হতেই চারবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে শিগগিরই কেরানীগঞ্জের কারাগারে নতুন নির্মিত নারী কম্পাউন্ডে স্থানান্তর করার অশুভ আয়োজন চলছে। তার নামে ১৭টি মিথ্যা মামলার বিচার কার্যক্রম ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগার থেকে কেরানীগঞ্জের কারাগারে স্থানান্তরের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়। রিজভী বলেন, দেশের প্রতিটি বিবেকবান মানুষ আশা করেছিলেন, এই পবিত্র রমজানে অন্ততঃ হিংসা-বিদ্বেষ, রাগ-ক্রোধ, লোভ-মোহ, প্রতিহিংসা থেকে আত্মশুদ্ধি লাভ করবে সরকার ও সরকার প্রধান। জনগণের নেত্রীকে মুক্তি দিয়ে জনগণের মাঝে ফিরে আসতে দেওয়া হবে। একজন নিরপরাধ ৭৪ বছর বয়সী নেত্রীকে মিথ্যা মামলায় অন্যায়ভাবে সাজা দিয়ে কারাবন্দি করে মধ্যরাতের সরকার যে অপরাধ করেছে তা থেকে নিজেদের শুধরে নেবে তারা। খালেদা জিয়ার প্রতি জুলুম বন্ধ করবেন। কিন্তু বাস্তবে তারা প্রতিহিংসাপরায়ণ মানসিকতা ত্যাগ করতে পারেননি। আদালতকে কুগিত করে রেখে বেগম জিয়ার জামিনে পদে পদে বাধা দেওয়া হচ্ছে। রিজভী বলেন, খালেদা জিয়াকে নিয়ে আপনাদের বর্বর মতলব জনগণের কাছে ফাঁস হয়ে গেছে। জনগণ আর আপনাদেরকে রেহাই দেবে না। সরকার যদি বারবার দেশনেত্রীর জামিনে বাধা দেয় তবে রাজপথেই হবে ফয়সালা।
অন্যায়কারী-জুলুমবাজরা কখনও বিজয়ী হতে পারেনি। এই মধ্যরাতের সরকারও পারবে না। এখন বাংলাদেশের সব জনগণ একদিকে আর বর্তমান শাসকগোষ্ঠী আরেক দিকে। দিনের শেষে জনগণের বিজয় অবশ্যম্ভাবী। ‘ধান ক্ষেতে আগুন দেওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন’ সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, দেশের কৃষকরা ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। এ দেশের প্রাণ কৃষকদের এখন নাভিশ্বাস উঠছে। ধান চাষ করে লোকসান দিয়ে তাদের পথে বসার অবস্থা হয়েছে। কৃষকের ঘরে ঘরে এখন হাহাকার। এই মিডনাইট ইলেকশনের সরকারের হঠকারী সিদ্ধান্ত, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সারের মূল্যবৃদ্ধিসহ কৃষকদের প্রতি উদাসীনতার কারণে উৎপাদন খরচ উঠছে না কৃষকের।কৃষকরা প্রতি মণ ইরি-বোরো ধানে ২০০ টাকা করে লোকসান দিচ্ছে। বর্গাচাষীরা সর্বস্বান্ত হয়ে যাচ্ছে। তারা বিঘা প্রতি জমিতে লোকসান দিচ্ছে পাঁচ হাজার করে টাকা। লোকসানের পর ব্যাংক ঋণ, এনজিওর কিস্তি, মহাজন ও সার-কীটনাশক সব মিলিয়ে ব্যবসায়ীদের দেনা শোধ করা দায় হয়ে পড়েছে। নানা ঋণে জর্জরিত কৃষক ক্ষোভে, দুঃখে, কষ্টে ধানের দাম না পেয়ে পাকা ধােেনত আগুন দিচ্ছে, বিক্ষোভ করছে। সড়কে ধান ছিটিয়ে প্রতিবাদ করছে। বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহদপ্তর সম্পাদক মো. মুনির হোসেন প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।