যে কারণে মুসলিমদের ওপর হামলা ঠেকায়নি দিল্লি পুলিশ

30

বিশ্ব প্রতিবেদন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফরের সময় দিল্লিতে শুরু হওয়া সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় খুন হয়েছেন ৪৬ জন। আহত হয়েছেন আরো ২৫০ জন। পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে চারটি মসজিদ। তিন দিন তিন রাত ধরে চলা ওই সহিংসতা মূলত দিল্লির উত্তরাংশে বাস করা মুসলিমদের ওপরই চালানো হয়েছে। এটা অপ্রত্যাশিত ছিল না। গত ছয় বছর ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, তার ক্ষমতাসীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) তার সহযোগীরা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের বিশাল ‘ট্রোলবাহিনী’ ও ভারতের টেলিভিশন নেটওয়ার্কের একটি বিশাল অংশ প্রতিনিয়ত সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ, সন্দেহ ও সহিংসতার মনোভাব গড়ে তুলেছে। দিল্লির সহিংসতা শুরু হয়েছে মোদি সরকারের বৈষম্যমূলক নাগরিকত্ব আইন নিয়ে। গত ডিসেম্বরে পাস হওয়া ওই আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছে ভারতীয়রা, বিশেষ করে মুসলিমরা। দিল্লি হত্যাযজ্ঞের আগে পার্শ্ববর্তী বিজেপিশাসিত উত্তরপ্রদেশে ১৯ বিক্ষোভকারীকে হত্যা করা হয়েছে। দিল্লির সাম্প্রতিক নির্বাচনে মোদির দল বিপজ্জনক সাম্প্রদায়িক প্রচারণা চালিয়েছে। দলনেতারা নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ এনেছে। তাদের হত্যাকারী বলে বর্ণনা করেছে। নির্বাচনে হেরে যায় বিজেপি। কিন্তু বিক্ষোভ চলতে থাকে। ২৩শে ফেব্রুয়ারি বিজেপি নেতা কপিল মিশরা দিল্লির উত্তরাংশে রাস্তা আটকে বিক্ষোভরত একদল মুসলিম নারীকে সরাতে জনতাকে উস্কানি দেন। এর পরপরই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এক সপ্তাহ পর ওই সহিংসতার বিস্তৃত বর্ণনা প্রকাশ হলে তাতে দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। বাহিনীটির বিরুদ্ধে হিন্দু হামলাকারীদের সহায়তা ও মুসলিমদের টার্গেট করার অভিযোগ ওঠে। মিশরার উস্কানিমূলক বক্তব্য থেকে এ সহিংসতার সূত্রপাত। তিনি যখন ওই হুমকি দিচ্ছিলেন, তখন তার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন উত্তর দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার ভেদ প্রকাশ। তিনি মিশরাকে কোনো বাধা দেননি। পরদিন দাঙ্গাকারীরা যখন সহিংসতায় নামে, প্রকাশ ও তার পুলিশকর্মীদের এক হিন্দু হামলাকারীর সঙ্গে হাত মেলাতে দেখা যায়। ওই হামলাকারী দিল্লি পুলিশ ও তাদের সহায়তা উদ্যাপন করছিল। পুলিশ বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা খুব স্বাভাবিকভাবে হিন্দু দাঙ্গাকারীদের পক্ষে তাদের সমর্থন ও মুসলিমভীতি প্রকাশ করেন। দাঙ্গায় গত তিন দশক ধরে হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা যুদ্ধের স্লোগান হিসেবে ‘জয় শ্রীরাম’ ব্যবহার করে আসছে। দিল্লি সহিংসতাকারীরাও হামলার সময় এই স্লোগান দিয়েছে। এমন খবরও প্রকাশ পেয়েছে যে, দিল্লি পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা ‘জয় শ্রীরাম’ বলে মুসলিমদের ওপর হামলা চালিয়েছে।