মেহেরপুর জেলা পরিষদের ১নং সদস্য শাহীনের বিরুদ্ধে রাষ্টদ্রোহী মামলার তদন্ত এখন মুজিবনগর থানায়

310

নিজস্ব প্রতিবেদক: মেহেরপুর জেলা পরিষদের ১নং ওয়ার্ড (বাগোয়ান ইউনিয়ন) সদস্য আনন্দবাস গ্রামের সিরাজুল ইসলাম (মিয়া) এর ছেলে শাহীন উদ্দীন শাহীনের বিরুদ্ধে আদালতে করা রাষ্টদ্রোহী ও খুন জখমের মামলার তদন্ত মুজিবনগর থানায় প্রেরণ করা হয়েছে। গত ১৫ ই মার্চ মানিকনগর গ্রামের মৃত নফর মল্লিকের ছেলে ফিতাজ মল্লিক বাদি হয়ে মেহেরপুর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আমলী আদালতে শাহীনের বিরুদ্ধে করা দন্ডবিধির ১২৪ (ক)/৫০৬ (২) ধারায় রাষ্টদ্রোহী ও খুন জখমের মামলাটি আদালত আমলে নিয়ে গত ১৯ শে মার্চ মেহেরপুর আমলী আদালতের প্রথম শ্রেণীর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হাদিউজ্জামান মামলাটির তদন্ত করার জন্য মুজিবনগর থানায় প্রেরণ করে এবং আগামী ২০ শে এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট আদালতে প্রেরণ করার জন্য বলা হয়েছে। তদন্তের বিষয়ে মুজিবনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী কামাল হোসেন সময়ের সমীকরণকে জানান মেহেরপুর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত থেকে শাহীনের বিরুদ্ধে করা রাষ্টদ্রোহী মামলাটি তদন্তের জন্য মুজিবনগর থানায় প্রেরণ করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত পূর্বক তদন্ত রিপোর্ট যথাসময়ে আদালতে প্রেরণ করা হবে। মামলার বিবরণে জানা যায়, মুজিবনগর উপজেলার মানিকনগর গ্রামের মৃত নফর মল্লিকের ছেলে ফিতাজ মল্লিক বাদি হয়ে মেহেরপুর জেলা পরিষদের ১নং ওয়ার্ড সদস্য (বাগোয়ান ইউনিয়ন) মুজিবনগর উপজেলার আনন্দবাস গ্রামের সিরাজুল ইসলাম (মিয়া) এর ছেলে শাহীন উদ্দীন (শাহীন) একজন প্রতারক, ক্ষমতার অপব্যবহারকারী, আইন অমান্যকারি ভন্ডবাজ, রাষ্টদ্রোহী ব্যক্তি। বিগত জেলা পরিষদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বাংলাদেশের আইনকে অমান্য করে গত ২২শে ফেব্রুয়ারী আনুমানিক বেলা ১টা ২০ মিনিটে নিজস্ব নোয়া মাইক্রবাসে যাহার রেজি: নং খুলনা চ-১১-০০১০ নাম্বারের গাড়িতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা মাইক্রোবাসের স্ট্যান্ডে লাগিয়ে মেহেরপুর জেলা পরিষদের দিকে চলে যায়। বাদি তার এজাহারে আরো উল্লেখ করেন যে, এহেন ভুল ও অন্যায় কাজ হতে বিরত থাকার জন্য বলিলে আসামী শাহীন বাদিকে ও সাক্ষীদেরকে নানা রকম ভয় ভীতি ও হুমকী দেয় ও বলে যে আমাকে চিনিস না, পুলিশ দিয়ে তোকে ক্রস ফায়ারে দিয়ে দিবো। আমার হাতে অনেক লোক আছে আরো বলে প্রধানমন্ত্রী পতাকা লাগাতে পারে আমি কেন পারব না। তারা কি ফেরেস্তা তাই তারা লাগাবে। তারা যদি লাগাতে পারে আমিও লাগাতে পারব। বাদি উল্লেখ করেন যে, আসামীকে কালো রঙ এর চশমা পরিহিত অবস্থায় কেদারগঞ্জ এফএম বাজারের সিসি ক্যামেরায় দেখা গেছে এবং আসামী এর আগেও ভৃয়া মেজর সেজে বিভিন্ন অপকর্ম সাধন করেছে। আসামী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও রাষ্ট্রকে দৃশ্যমান প্রতিকের সাহায্যে ঘৃনা বা মন্ত্রী মিনিষ্টারদের প্রতি বিদ্বেষ সৃষ্টি করার জন্য এই কাজ করেছে। এবিষয়ে ২৭/০২/১৭ তারিখে মুজিবনগর থানায় জিডি করা হয়। যার নং ৯৫৭ উক্ত মামলার সাক্ষী হিসাবে মুজিবনগর উপজেলার মানিকনগর গ্রামের জমির উদ্দীন মন্ডলের ছেলে রোকনুজ্জামান, মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে আক্কাস আলী এবং বল্লভপুর গ্রামের মৃত আ: রহিমের ছেলে রুহুল কুদ্দুস নাম দেওয়া হয়েছে। এবং সমস্ত প্রমান আদালতে পেশ করা হয়েছে।    উল্লেখ্য, গত ২২ শে ফেব্রুয়ারী আসামী শাহীন উদ্দীন তার নিজস্ব মাইক্রোবাসের স্ট্যান্ডে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা লাগিয়ে মেহেরপুরের দিকে চলে যায়। বিষয়টি প্রথম নজরে আসে মুজিবনগর উপজেলা ছাত্রলীগ নামের ফেসবুক আইডিতে। এবিষয়ে মুজিবনগর থানায় জিডি করা হয়েছিল। অভিযুক্ত মেহেরপুর জেলা পরিষদ সদস্য শাহীন মুজিবনগর অভিযোগ অস্বীকার করে স্থানীয় পত্রিকায় প্রতিবাদও জানায়।