মেহেরপুরে সমাজসেবা অফিসের কর্মচারী খুনের রহস্যে উদঘাটনে জোর তদন্তে মাঠে পুলিশ

78

মেহের আমজাদ:
মেহেরপুরের সমাজ সেবা অফিসের কর্মচারী ফারুক হোসেন (৩৬) খুনের ঘটনায় রহস্যে উদঘাটনে পুলিশ জোর তদন্ত শুরু করেছে। এছাড়া ঘটনার পরপরই মেহেরপুর পুলিশ সুপার এসএম মুরাদ আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত অপরাধীদের সনাক্ত ও আটক করার আশ্বাস দিয়েছেন।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে মেহেরপুরের সমাজ সেবা অফিসের কর্মচারী ফারুক হোসেনকে একদল দুর্বৃত্ত এলোপাতারি কুপিয়ে হত্যা করে। মেহেরপুর সদর থানার তাঁতীপাড়ায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ফারুক হোসেন তাঁতীপাড়ার সাখাওয়াত হোসেনের ছেলে ও মেহেরপুর সমাজ সেবা অধিদপ্তরের মাঠকর্মী পদে কর্মরত ছিলেন। এদিকে খবর পেয়ে, ঘটনার পরপরই মেহেরপুর পুলিশ সুপার এসএম মুরাদ আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
জানা যায়, নিহত ফারুক হোসেন গত বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে থানা মোড়ের একটি দোকান থেকে মশার কয়েল কিনে পায়ে হেটে বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ির ঠিক ২০ গজের কাছাকাছি পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাঁকে পিছন দিক থেকে ধাড়ালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতারি কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়। ফারুক হোসেনের আত্মচিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেয়। এ সময় হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. হাবিবুর রহমান পরীক্ষা নিরিক্ষা করে ফারুক হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। দুই সন্তানে জনক ফারুক হোসেন ২০০৮ সালে মেহেরপুর সমাজসেবা অধিদপ্তরের রাঁধুনি হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। পরে বিভাগীয় পরীক্ষা দিয়ে মাঠকর্মী হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। এরআগে তিনি মেহেরপুর পৌরসভা নির্বাচনে ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচন করে, কয়েক ভোটের ব্যবধানে সে নির্বাচনে ফারুক পরাজিত হন।
নিহত ফারুক হোসেনের বড় মামা আলাউদ্দীন জানান, ‘আমার জানামতে ফারুক হোসেনের সাথে কারো কোনো শক্রতা ছিলো না। তারপরও কারা কী কারণে তাঁকে হত্যা করলো এ নিয়ে কোনো ধারণাই করতে পারছি না।’
মেহেরপুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ আবু আব্দুল্লাহ বাপ্পি জানান, ‘খবর পেয়ে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখি ফারুক মারা গেছেন। তিনি খুব ভালো মানুষ ছিলেন। তাঁর কোনো শক্র আছে বলে আমার জানা নেই। তারপরও কারা এমন নৃশংস ঘটনা ঘটালো বুঝতে পারছি না। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।’
মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক হাবিবুর রহমান জানান, ‘ফারুক হোসেনের ঘাড়ে, পিঠে ও পায়ে ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত পরিলক্ষিত হয়েছে। ক্ষতস্থান থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জন্য তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়ার পূবেই তাঁর মৃত্যু হয়।’
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ দারা খাঁন জানান, ‘ঘটনার খবর পেয়ে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে হাসপাতালে ছুটে গিয়ে দেখি ফারুক হোসেন মারা গেছেন। হত্যার ক্লু উদ্ধারে পুলিশের একাধিকদল মাঠে কাজ করছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে নেয়া হয়। শুক্রবার নিহতের ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
মেহেরপুর পুলিশ সুপার এসএম মুরাদ আলি জানান, ‘ঘটনার রহস্যে উদঘাটনে জোর তদন্তে মাঠে নেমেছে পুলিশ। খুব শীঘ্রই হত্যাকাণ্ডের রহস্যে উদঘাটন করা হবে বলে আমি আশা করছি।’