মেহেরপুরে শহরে কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা সুইসাইড নোট দেখে অভিযুক্ত আটক

196

02

মেহেরপুর প্রতিনিধি: মেহেরপুর শহরের মন্ডলপাড়ায় ফাতেমা জান্নাত ঝিলিক (১৯) নামের এক কলেজ ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। আত্মহত্যার প্ররোচণার অভিযোগে ঝিলিকের প্রেমিকের ফুফু হিরা খাতুনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঝিলিকের লিখে যাওয়া সুইসাইড নোটে হিরা খাতুনকে দায়ী করা হয়েছে। পুলিশ লাশের ময়না তদন্তের জন্য মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠছে। নিহত ফাতেমা জান্নাত ঝিলিক মেহেরপুর শহরের মন্ডলপাড়ার সোহেল রানা ওরফে ঝন্টুর মেয়ে। তিনি এবার মেহেরপুর সরকারী মহিলা কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পাশ করেছেন। রোববার রাতে ঝিলিক নিজ বাড়ির পাশর্^বর্তী নানার বসতবাড়ির ঘরে গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরিবারের লোকজন ঝিলিকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশের একটি দল লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। সেখান থেকে উদ্ধার করা ঝিলিকের লিখে যাওয়া সুইসাইড নোটের সূত্র ধরে ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত হিরা খাতুনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে হিরাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন সদর থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী ও ওসি (তদন্ত) মেহেদি হাসানসহ পুলিশের একটি দল। রাতেই নিহতের পিতা বাদি হয়ে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। নিহতের মা পারুল খাতুনের অভিযোগ- মন্ডলপাড়ার মাসুদ হোসনের ছেলে মেহেরপুর সরকারী কলেজের ছাত্র নিলয় হোসেনের সঙ্গে ঝিলিকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি তারা জানতেন না। তাদের সম্পর্কের বিষয়টি ভালভাবে নেয়নি নিলয়ের পরিবার। এর জেরে শনিবার দুপুরে নিলয়ের ফুফু হিরা খাতুন আসে ঝিলিকের কাছে এবং নানাভাবে ঝিলিক ও তার পরিবারের সদস্যদের শ্বাসাতে থাকে। এক পর্যায়ে ঝিলিককে চড়-থাপ্পড় মারে হিরা খাতুন। নিলয়ের সঙ্গে সম্পর্ক রাখলে এর চেয়ে আরও বড় পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুমকি দেয় হিরা। তবে হিরার পরিবার তাদের চেয়ে প্রভাবশালী হওয়ায় প্রতিবাদ করতে সাহস পাননি ঝিলিকের পরিবার। প্রেমের কারণে মারধরে পরিবারের মান-সম্মান ক্ষুন্ন হয়েছে বলে আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই বলে সুইসাইড নোটে উল্লেখ করে গেছেন ঝিলিক। ঝিলিক তার মৃত্যুর জন্য হিরা খাতুন ও তার পরিবারের সদস্যদের দায়ী করেছেন। মেহেরপুর সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান- সুইসাইড নোট ও পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হয়। বিভিন্নস্থানে অভিযানের এক পর্যায়ে হিরা খাতুনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। মামলার অপর আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। লাশের ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর ও হিরাকে আলাদতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলছে।