মুমিনের যে কাজগুলো

70

ধর্ম প্রতিবেদন:
মানুষের মৃত্যু এক অবধারিত ও সুনিশ্চিত বিষয়। মৃত্যু থেকে কেউ পলায়ন করতে পারবে না। আর কার মৃত্যু কোথায় হবে কিংবা কখন হবে এ কথাও কেউ জানে না। আল্লাহ তাআলা বলেন-
‘কেউ জানে না আগামীকাল সে কী উপার্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন দেশে সে মৃত্যুবরণ করবে। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।’ (সুরা লোকমান : আয়াত ৩৪) আর এ কারণেই মুমিন মুসলমান সব সময় মৃত্যুর কথা স্মরণ করে। আবার কোনো ব্যক্তি যদি বুঝতে পারে যে, তার মৃত্যু আসন্ন তবে তাদের উচিত আল্লাহর ইবাদতে নিয়োজিত করা। পরকালের অন্ততকালের কথা স্মরণ করে নিজেকে আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করা। মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বব্যাপী পৌণে ৫ লাখ মানুষ মারা গেছে। আক্রান্ত হয়েছে প্রায় কোটির কাছাকাছি মানুষ। এসব মৃত্যু জটিল-কঠিন কোনো অসুখে নয়, বরং স্বাভাবিক মৃত্যুর পাশাপাশি মহামারি করোনার কারণে মারা গেছে। এ ব্যাধির কারণেই মুমিন মুসলমানের চিন্তার জগত আলোচিত হচ্ছে মৃত্যুর কথা।
যারাই করোনায় আক্রান্ত হয়েছে কিংবা জীবন সায়াহ্নে এসে উপস্থিত হয়েছে অথবা কোনো কারণে মৃত্যুর অপেক্ষা করছে আবার বয়স হওয়ার কারণে হলেও মৃত্যুর প্রহর গুণছে, তাদের উচিত মৃত্যুর পরিপূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করা। জীবনের বাকি সময়টুকু নিজের জন্য অমূল্য সম্পদ মনে করে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করার চেষ্টা করা, বিগত জীবনের গোনাহ মোচনে প্রাণপন চেষ্টা করা। পরকালের জীবনকে সুন্দর করার আপ্রাণ চেষ্টা করা।
মৃত্যুর স্মরণার্থে মুমিনের এ কাজগুলো বেশি করা- ক্ষমাশীল ও দয়ালু মহান আল্লাহর কাছে নিজের অতিত জীবনের সব গোনাহের কথা তুলে ধরে সকাতরে তওবাহ-ইসতেগফার করা। বিগত জীবনের অপরাধ ও গোনাহের জন্য ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলোকে যথাসাধ্য অধিক পরিমাণে নফল ইবাদত-বন্দেগি ও নেকির কাজ দ্বারা ভরপুর করে দেয়া। কুরআন অধ্যয়ন, উত্তম জিকির, দোয়া, তাসবিহ-তাহলিলের দিন-রাত অতিবাহিত করা। বিশেষ করে তাওহিদের কালেমা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর জিকিরে জবানকে সিক্ত করা। পরকালের প্রথম মনজিল কবর, হাশরের ময়দানের ভয়াবহতা, জাহান্নামের কঠিন শাস্তির ভয়ে মহান আল্লাহর কাছে বেশি কাঁদা এবং আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা কা। সব সময় পবিত্রতা অবস্থায় থাকার নিয়তে অর্থাৎ ওজু অবস্থায় থাকা। অযথা গল্প-গুজব, খেলাধূলা এবং বিনা প্রয়োজনে অ্যান্ড্রয়েড, ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে বিরত থাকা এবং এসব কাজে সময় অপচয় না করা। কারো সঙ্গে লেনদেন থাকলে তা থেকে দ্রুত মুক্ত হওয়া। ঋণ থাকলে তা থেকেও মুক্ত হওয়া। বিগত জীবনে কারো ‘হক বা অধিকার’ নষ্ট করে থাকলে, তা যদি স্মরণে থাকে তবে তার সঙ্গে বসে সমাধান করে নেয়া কিংবা তার থেকে দায়মুক্তি গ্রহণ করা জরুরি। ন্যূনতম কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে বা জুলুম-অত্যাচার করলে তার থেকে ক্ষমা চেয়ে নেয়া। কারো কোনো ন্যয্য দাবি থাকলে তা পূরণ করা জরুরি। যে কারো যৌক্তিক দাবি-দাওয়া বা অভিযোগ থাকলে গুরুত্বের সঙ্গে তাও সমাধান করে নেয়া। পরকালের নাজাতের নিয়তে বেশি বেশি দান-সদকা করা। তবে এ দান যেন কোনো ব্যক্তির মোট সম্পদের তিন ভাগের এক ভাগের বেশি না হয়। কেননা মোট সম্পদের তিনভাগের এক ভাগের বেশি দান করার ব্যাপারে হাদিসে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বিশেষ করে পরিবারের সদস্য সব উত্তরাধিকারীদের মৃত্যু পরবর্তী বিষয়ে সতর্ক করা, অসিয়ত করা এবং তাদের জীবন-যাপনের ইসলামি দিক-নির্দেশনা করে যাওয়া জরুরি। আল্লাহর কাছে মৃত্যুর আগে উল্লেখিত বিষয়গুলোর পাশাপাশি বেশি বেশি দোয়া করা, নিজেদের গোনাহ মাফের ব্যবস্থা করা। বেশি বেশি নেক কাজ করার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা।
বেশি বেশি এ দোয়া করা-
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন আজাবি জাহান্নাম, ওয়া মিন আজাবিল কবর, ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাতি ওয়া মিন ফিতনাতিল মাসিহিদ দাজ্জাল।’ অর্থ : হে আল্লাহ! আমি জাহান্নামের আজাব ও কবরের আজাব থেকে আশ্রয় চাই। জীবন ও মৃত্যুর ফেতনা থেকে আশ্রয় চাই। আর দাজ্জালের ফেতনা থেকেও আপনার কাছে আশ্রয় কামনা করি।’ আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে পরকালের কল্যাণে নিজেদের দুনিয়ার জীবন সুন্দর করার মাধ্যমে মৃত্যুর প্রস্তুতি গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। প্রত্যেকের কবর, হাশর ও জাহান্নামের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করুন। আমিন।