মুমিনের কাজই দীনদারী

142

ধর্ম ডেস্ক: সাধারণ মুসলমানরা ইসলামকে শুধু একটা ধর্ম হিসেবেই জানেন। যারা নিয়মিত নামাজ-রোজা করেন তাদের মধ্যেও অনেকে বাস্তব জীবনে ইসলামের কোনো প্রভাব থাকতে পারে এমন ধারণা রাখেন না। মানুষের জীবনের বহু দিক রয়েছে। যেমন ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতির ইত্যাদি। কিন্তু সাধারণভাবে এসব দিক থেকে ধর্মীয় দিককে আলাদা মনে করা হয়। কিন্তু ইসলামে ধর্মীয় দিকটি অন্যান্য দিক থেকে আলাদা নয় বরং সব দিকের উপরই ধর্মীয় দিকের এমন ব্যাপক প্রভাব রয়েছে যে, মনে হয় সব দিকই ধর্মীয় দিকের অধীন রয়েছে। ইসলামের দৃষ্টিতে এই ধর্মীয় দিকটিই গোটা মানবজীবনের চালিকাশক্তি। আল্লাহতায়ালার দাসত্ব, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আনুগত্য ও আখেরাতের জবাবদিহিতাÑ এ তিনটি ধর্মীয় নীতি হলেও মুসলমানদের গোটা জীবনের সঙ্গেই এগুলোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। মুমিনের জীবনে দীনদারী ও দুনিয়াদারীতে কোনো পার্থক্য নেই। ওই তিনটি ধর্মীয় নীতি অনুযায়ী কাজ করলে দুনিয়াদারী বলে গণ্য সব কাজও দীনদারীতে পরিণত হয়। মানুষকে দুনিয়ায় বেঁচে থাকার জন্য যা কিছু করতে হয়, সে সম্পর্কে তাদের অবহিত করার জন্য আল্লাহ তায়ালা নবী-রাসুলদের মাধ্যমে যাবতীয় আইন-কানুন পাঠিয়েছেন। কিন্তু এসব বিধি-বিধান মেনে চলতে তিনি মানুষকে বাধ্য করেননি। আল্লাহতায়ালা জানিয়ে দিয়েছেন, যারা তার দেয়া আইন-বিধান মেনে চলবে তারা দুনিয়ায়ও শান্তি ভোগ করবে এবং আখেরাতেও পুরস্কার পাবে। আর যারা তা মানবে না এবং মানুষের মনগড়া নিয়ম মেনে চলবে তারা দুনিয়ায়ও অশান্তি ভোগ করবে আখেরাতেও শাস্তি পাবে। আল্লাহতায়ালার নবীগণ মানুষকে দুনিয়া ত্যাগ করে বৈরাগী বানাতে আসেননি। বরং তারা মানুষকে দুনিয়ার সব দায়-দায়িত্ব আল্লাহর তৈরি নিয়মে পালন করার শিক্ষা দিতে এসেছেন। দুনিয়ার সব কাজ নবীদের শেখানো নিয়মে করলে দুনিয়াদারীর কাজও দীনদারী হিসেবে গণ্য হয় এবং সবই ইবাদতে পরিণত হয়।