মুমিনের ইবাদতের শ্রেষ্ঠ মাস রমজান

311

ধর্ম ডেস্ক: আল্লাহ তাআলা মানুষকে তাঁর ইবাদত-বন্দেগির জন্যই সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘আমি মানুষ এবং জিন শুধুমাত্র আমার ইবাদত ব্যতিত অন্য কোনো কাজে সৃষ্টি করিনি।’ তাই মুমিন মুসলমানের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি উত্তম কাজই ইবাদত। আর ইবাদতের শ্রেষ্ঠ মাস বা বসন্তকাল হলো রমজান মাস। আল্লাহ তাআলা রমজান মাসের রোজা ফরজ করার কারণ উল্লেখ করে বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর সিয়াম বা রোজা ফরজ করা হয়েছে; যেভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল; যাতে তোমরা তাকওয়া (আত্মশুদ্ধি) অর্জনে করতে পার। (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৩) কুরআনের আয়াতে কারিমা থেকে বুঝা যায় যে, আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নেকট্য অর্জনের মাস রমজান। মানুষের গোনাহ ও পাপ-পংকিলতাকে রোজা নামক আগুনে ভষ্ম করে দিয়ে পরিশুদ্ধ হওয়ার মাস রমজান। আর তাইতো মুমিনের শ্রেষ্ঠ মাস হলো রমজান। শারীরিক ইবাদত-বন্দেগির মধ্যে সাওম পালন করা অত্যন্ত কষ্টকর। এটা ইসলামের চতুর্থ স্তম্ভ। রোজা অধিক কষ্টের ইবাদত হওয়ার কারণেই এ মাসে মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে বসন্তের আবহ বিরাজ করে। আল্লাহর বান্দারা পবিত্র রমজান মাস জুড়ে দিনের বেলা সাওম বা রোজা পালন করে আর রাতে তারাবিহ, তাহাজ্জুদ ও কুরআন তেলাওয়াতসহ নফল ইবাদত-বন্দেগিতে অতিবাহিত করে। মুসলিম উম্মাহ যাতে নির্বিঘেœ জান্নাতি আবহে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে মুক্ত হয়ে এ মাসের ইবাদত পালন করতে পারে সে জন্য আল্লাহ তাআলা এ মাসে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেন, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেন আর শয়তানকে কুমন্ত্রণাদানে বিরত রাখতে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রাখেন। এটা রোজাদারের জন্য এক মহাপুরষ্কার। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ মাসের ব্যাপারে কসম করে বলেছেন যে, রমজান মাস ইবাদত-বন্দেগির জন্য সর্বোত্তম মাস। হাদিসে এসেছে- হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহর কসম! মুসলমানদের জন্য রমজানের চেয়ে উত্তম কোনো মাস আসেনি এবং মুনাফিকদের জন্য রমজান মাসের চেয়ে অধিক ক্ষতির মাসও আর আসেনি।