মুজিবনগরে গৃহবধুকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার অভিযোগ

206

মুজিবনগর প্রতিনিধি: মুজিবনগর উপজেলার রশিকপুর গ্রামে তহমিনা খাতুন (৪৫) নামে এক গৃহবধুকে স্বামী শহিদুল ইসলাম ও দ্বিতীয় স্ত্রী আনোয়ারার বিরুদ্ধে নির্যাতন শেষে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে মুজিবগর থানা পুলিশ শহিদুলের বাড়ী থেকে লাশ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়। স্থানীয়া জানান, মেহেরপুর সদর উপজেলার সাহেবপুর গ্রামের মৃত হয়রত জোয়ার্দ্দার ছোট মেয়ে তহমিনার সাথে প্রায় ২৫/২৬ বছর পূর্বে মুজিবনগর উপজেলার রশিকপুর গ্রামের দরুদ শেখের ছেলে শহিদুলের সাথে বিয়ে হয়। বিবাহিত জীবনে তহমিনা তিন কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। বিয়ের পর থেকে প্রায়ই যৌতুকের দাবিতে তহমিনাকে নির্যাতন করতো স্বামীসহ শ্বশুর বাড়ীর লোকজন। এছাড়াও গত এক বছর আগে মেহেরপুর সদর উপজেলার আশরাফপুর গ্রামে আনোয়ারা খাতুন নামে এক জনের বউকে বের করে নিয়ে এসে বিয়ে করে। এরপর থেকে তহমিনার উপর নির্যাতনের মাত্রা আরো বাড়তে থাকে। মোনাখালী ইউপি’র সদস্য জহির খান জানান, ঘটনার দিন নির্যাতন সইতে না পেরে প্রথম স্ত্রী তহমিনা খাতুন রশিকপুর গ্রামের মোকছেদ হাজি সাহবের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পরে আশ্রয়ের খবর পেয়ে স্বামী শহিদুল ইসলাম ও দ্বিতীয় স্ত্রী আনোয়ারা খাতুনসহ আরো ৭ থেকে ৮ জন তাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনতে যায়। তাকে হত্যা করা হতে পারে ভয়ে তহমিনা খাতুন ফিরতে চায় না। রাতটুকু হাজি সাহেবের বাড়ী থাকার জন্য মিনতিও করে। বলে রাতটুকু থেকে সকালে বাবার বাড়ি সাহেবপুর গ্রামে ফিরে যাবো। কিন্তু স্বামী শহিদুল ইসলাম ও দ্বিতীয় স্ত্রী আনোয়ারা খাতুনের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে তাকে স্বামী শহিদুল ইসলাম ও দ্বিতীয় স্ত্রী আনোয়ারা খাতুনের সাথে বাড়ি পাঠানো হয়। বাড়ি ফিরে তহমিনা খাতুন রাতেই লাশ হয়ে যায়। মৃত তহমিনার স্বজনরা জানান, তহমিনাকে শ্বাসরুদ্ধ হত্যা করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে মুজিবনগর থানায় হত্যা মামলা করা হবে। মুজিবনগর থানার সেকেন্ড অফিসার সুব্রত কুমার পাল বলেন, এটা হত্যা না আত্মহত্যা সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত নয়, যেহেতু অভিযোগ উঠেছে তাই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে। লাশের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে আমরা নিশ্চিত হবে পারবো হত্যা না আত্মহত্যা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, বাদ মাগরিব সাহেবপুর কবরস্থানে দাফনকার্য সম্পন্ন হয়েছে। মামলার প্রস্তুুতি চলছে।