মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও ভাতা তোলার অভিযোগ!

82

রিয়াজ মোল্লা, কালীগঞ্জ:
স্বাধীনতা পরবর্তী ভারত সরকারের দেওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় নাম নেই। স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্তিবার্তায় প্রকাশিত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায়ও তাঁর নাম নেই। ১৯৮৭ সালের জাতীয় তালিকায় তাঁর নাম ছিল না। ২০০৯ সালে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি কর্তৃক প্রকাশিত তালিকায় তাঁর নাম ছিল না। তারপর ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে ২০১১ সালের ডিসেম্বরে সংশোধিত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় নাম উঠিয়ে মাসিক ভাতাসহ যাবতীয় সুবিধা ভোগ করছেন। গত পাঁচ বছর হলো এভাবে তিনি সরকারের কোষাগার থেকে লাখ লাখ টাকা উত্তোলন করছেন। কথিত ওই মুক্তিযোদ্ধার নাম মো. হাফিজুর রহমান। তিনি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ১০ নম্বর কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের মো. মল্লিক শেখের ছেলে। খুলনা বিভাগীয় মুক্তিযোদ্ধা নম্বর ১৯৮ এবং গ্যাজেট নম্বর ২১০৬। অভিযুক্ত এই মুক্তিযোদ্ধার এক ছেলে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় পুলিশে চাকরি করছেন।
এ নিয়ে সম্প্রতি তাঁর প্রতিবেশী তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের মৃত গোলাম কুদ্দুস শেখের ছেলে আশরাফ আলী একটি লিখিত অভিযোগ দেন। লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, মুক্তিযোদ্ধা চলাকালীন সময়ে হাফিজুর রহমানের বয়স ছিল ১১ থেকে ১২ বছর। ওই বয়সে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি। এমনকি ভারতে গিয়ে কোনো প্রশিক্ষণেও অংশ নেননি। স্বাধীনতার এত বছর পর ২০০৮ সালে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধার ভাতা বৃদ্ধি কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ঘোষণা দেন। এরপর নড়েচড়ে বসে এই চতুর হাফিজুর রহমান। এরপর আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম উঠিয়ে নেন। এরপর থেকে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকার ঘোষিত সমস্ত সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে আসছেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মো. হাফিজুর রহমানের সঙ্গে কথা বলার জন্য তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হেলাল উদ্দীন সরদার জানান, ‘তাঁর মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার বিষয়ে আমার জানা নেই। আমাদের সঙ্গে এই নামে উপজেলায় কোনো মুক্তিযোদ্ধা ছিল না।’ কীভাবে মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্ত হলো এবং ভাতা উত্তোলন করেন এমন প্রশ্নে এই কমান্ডার বলেন, আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে তিনি হয়ত তালিকাভুক্ত হয়ে থাকতে পারে। আর তালিকাভুক্ত হলে ভাতা তুলবে এটা স্বাভাবিক।