মিতব্যয় ইসলামের প্রেরণা

121

ধর্ম প্রতিবেদন
মানুষের চাহিদার কোনো শেষ নেই। তবে সেই চাহিদা পূরণ করতে হবে জোগান অনুযায়ী। যেখানে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই ব্যয় করতে হবে। ব্যয়ের ক্ষেত্রে মধ্যম বা মাঝামাঝি পন্থা অবলম্বন করাই হলো মিতব্যয়িতা। কোনো কাজ ও কথায় সীমা অতিক্রম, বাড়াবাড়ি ও মাত্রাতিরিক্ত কিছু না করা হলো মিতাচার। আমাদের জীনবযাত্রায় এই গুণটি খুবই জরুরি। কারো মধ্যে মিতব্যয় ও মিতাচার থাকলে সে কখনো জীবনচলার পথে সমস্যায় পড়বে না। মিতব্যয়ের বিপরীত হচ্ছে অপব্যয়। বৈধ কাজে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যয় করাই অপচয় ও অপব্যয়। এটা মানুষের মন্দ স্বভাবের অন্তর্ভুক্ত। ইসলাম অপব্যয় করতে নিষেধ করেছে আর মিতব্যয়িতার প্রতি উৎসাহ দিয়েছে। মুমিনের গুণ বর্ণনা করতে গিয়ে কোরানে বলা হয়েছে, ‘আর যখন তারা ব্যয় করে তখন অপব্যয় করে না, কৃপণতাও করে না এবং তারা আছে এ দুয়ের মধ্যমপন্থায়।’ আল্লাহ সুস্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন, ‘আর তোমরা খাবে ও পান করবে, কিন্তু অপচয় করবে না; নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না।’ ইসলামে প্রয়োজনের বেশি খরচ করাকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। মুমিনদের নিজের ক্ষমতার মধ্যে ব্যয় সীমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে। কারণ অপাত্রে বিনা প্রয়োজনে অপরিমিত ব্যয় ক্ষতি ছাড়া কোনো কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। তবে ইসলামে অভাবগ্রস্ত ও নিঃস্ব-গরিবদের দানের ব্যাপারে মুক্তহস্ত হতে বলা হয়েছে। হাদিসে বলা হয়েছে, ‘হে আদম সন্তান, তুমি যদি তোমার প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থ আল্লাহর অভাবী বান্দাদের দারিদ্র্য বিমোচনে ও দীন ইসলামের কাজে খরচ কর, তাহলে এটি তোমাদের জন্য উত্তম।’ মিতব্যয়িতা মুমিনের সাফল্যের চাবিকাঠি। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মিতব্যয়িতা অবলম্বন করে, আল্লাহ তাকে ধনী বানিয়ে দেবেন, আর যে ব্যক্তি বাহুল্য খরচ করবে, আল্লাহ তাকে গরিব বানিয়ে দেবেন।’ মিতব্যয়িতা এমন একটি সৌন্দর্য, যা মুমিনের জীবনের প্রতিটি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এর মধ্যেই নিহিত রয়েছে আল্লাহর সন্তুষ্টি। আমাদের সমাজে অভাব ও সংকটের একটি বড় কারণ মিতব্যয়ী না হওয়া। ইসলাম ও রাসুল (সা.)-এর আদর্শ হচ্ছে সবকিছুতে ব্যয়সঙ্কোচন। এই নীতি অবলন্বন করলে পরিবার থেকে রাষ্ট্র পর্যন্ত কোথাও দারিদ্র্য থাকবে না। এ জন্য প্রত্যেক মুমিনের উচিত মিতব্যয়ে অভ্যস্থ হওয়া এবং অপচয় থেকে বেঁচে থাকা।