মা-বাবা তুলে গালাগাল জঘন্য গুনাহ

114

ধর্ম প্রতিবেদন:
গালাগাল বা শব্দবোমা, যে নামেই ব্যাখ্যা করি, এটি মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয়। কিন্তু কিছু কিছু পরিবেশে এটিকে মন্দ ভাবা হয় না। যেমন, কর্মচারীদের কন্ট্রোলে রাখার জন্য নাকি গালি দিতেই হয়। এমন অনেক ডিমার্টমেন্ট আছে, যেখানে গালি দেয়া ছাড়া কথাই যেন পূর্ণ হয় না। সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো, তারা যে অশ্লীল গালিগুলো দেয়, তার বেশির ভাগই হয় মা-বাবা তুলে। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। কিন্তু তাদের পরিভাষায় এটা নাকি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। কাছের বন্ধুকে, বিশ্বস্ত কর্মচারীকে তারা এ ধরনের গালি দেয়া ছাড়া কথাই বলতে পারেন না। অথচ রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘কবিরা গুনাহগুলোর একটি হলো নিজের মা-বাবাকে অভিশাপ করা।’ সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন, ‘আল্লাহর রাসুল! মানুষ নিজের মা-বাবাকে কিভাবে অভিশাপ করে?’ তিনি বললেন, ‘যখন সে অন্যের বাবাকে গালাগাল করে, তখন সে নিজের বাবাকেও গালাগাল করে থাকে। আর যে অন্যের মাকে গালি দেয়, বিনিময়ে সে তার মাকেও গালি দেয়।’ (বুখারি, হাদিস: ৫৯৭৩)। অন্য বর্ণনায় আছে, কেউ কারো মা-বাবা তুলে গালি দিলে অন্যরাও প্রতিশোধ নেয়ার জন্য তার মা-বাবাকে গালি দেয়। তাই দুষ্টুমির ছলেও কাউকে গালি দিয়ে কথা বলা উচিত নয়। কাউকে কন্ট্রোল করার জন্য বাজে ব্যবহার করতে হবে, এটা আমাদের বানানো নীতি। এটি আমাদের ব্যক্তিত্বকে খাটো করে দেয়। কোনো মুমিন এ ধরনের পথ অবলম্বন করতে পারে না। কারণ রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, মুসলমানকে গালি দেয়া ফাসেকি। আর তার সঙ্গে লড়াই, ঝগড়া করা কুফুরি। (বুখারি, হাদিস: ৬০৪৫) অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, মুমিন কখনো দোষারোপকারী, অভিশাপদাতা, অশ্লীলভাষী ও গালাগালকারী হয় না। (তিরমিজি, হাদিস: ২০৪৩) ইদানীং অনেকে বিকৃত মস্তিষ্কের এক গায়কের গালি সংবলিত গান নিয়ে ভীষণ ট্রলে মজে আছেন। অনেক সময়, দুষ্টুমির ছলে বিভিন্ন জায়গায় নিজেরাই এই অশ্লীল গানগুলো গাইতে শুরু করেন। আবার সেগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে দেন। এটা জঘন্য অপরাধ। কারণ এর মাধ্যমে সমাজে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ছে। আর তাতে উসকানি দিচ্ছে ভাইরাল হওয়ার উন্মাদনা নামক একটি ভাইরাস। যারা এই ধরনের উন্মাদনায় সমাজে অশ্লীলতা ছড়াচ্ছে, তাদের জন্য অপেক্ষা করছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা পছন্দ করে যে মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতা প্রসার লাভ করুক, তাদের জন্য দুনিয়া ও পরকালে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি; আর আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না। (সুরা: নূর, আয়াত: ১৯) তাছাড়া এভাবে অশ্লীলতা ছড়ানোর কারণে যত মানুষ এর দ্বারা প্রভাবিত হবে, এ ধরনের অশ্লীল গালি শিখবে, গানে গানে তার চর্চা করবে, সবার গুনাহের সমপরিমাণ অংশ যিনি ছড়িয়েছেন, তার কাঁধে আসবে। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষকে নেক কাজের দাওয়াত দেবে, সে ওই লোকদের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে; যারা তার দাওয়াত পেয়ে নেক কাজ করবে অথচ তাদের সওয়াবের সামান্যও হ্রাস পাবে না। অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি মানুষকে গুনাহের কাজের দাওয়াত দেবে সে ওই লোকদের সমপরিমাণ গুনাহ পাবে, যারা তার দাওয়াত পেয়ে গুনাহের কাজ করবে। অথচ তাদের গুনাহ হ্রাস পাবে না।’ (মুসলিম, হাদিস: ৬৯৮০) তাই আমাদের উচিত, অশ্লীল গালাগালসহ সব অশ্লীল জিনিস ত্যাগ করা। মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ করা। এবং অশ্লীলতা ছড়ানো থেকে বিরত থাকা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে প্রকৃত মুমিন হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।