মা তোমায় স্যালুট!

111

আসিফ ইকবাল কাজল:
সারা বিশ্বের মায়েদের আদর্শের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন সখিরণ নেছা ওরফে ভেজি বুড়ি। যিনি নিজের সন্তানের মঙ্গলের জন্য প্রায় ৪৪ বছর ধরে রোজা রেখেছেন। যখন এ কথাটি আপনাদের জানাচ্ছি, তখন সখিরণ নেছাকে দাফন করার প্রক্রিয়া চলছিল। ভাবতে খুব কষ্ট হচ্ছে সবার প্রিয় সেই সখিরণ নেছা আর নেই। গতকাল সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে আনুমানিক ৭৫ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন। ১৫ দিন ধরে তিনি অসুস্থ হয়ে বিছানায় ছিলেন। রক্ত তৈরি করা কোষগুলো তাঁর অকেজো হয়ে পড়েছিল। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাজার গোপালপুর গ্রামে আদর্শ মা সখিরণ নেছার দাফনকার্য সম্পন্ন হয়।
খুবই হতদরিদ্র সাধারণ ঘরের একজন অসাধারণ মা ছিলেন তিনি। কাজ করতেন মানুষের বাড়ি ও ভাজার ফ্যাক্টরিতে। কখনো ঝাল আর কলাই তুলে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ৪৪ বছর রোজা পালন করলেও খাওয়ার ব্যাপারে তিনি ছিলেন একেবারেই সাদামাটা। কোনো সময় শুধু পানি মুখে দিয়েই রোজা ভাঙতেন। দুনিয়াজুড়ে মায়েদের জন্য রোল মডেল সেই মা সখিরণ নেছা পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে। সন্তানের জন্য একটানা এত বছর রোজা পালন করা মা পৃথিবীতে আর আছেন কি না, তা অন্তত আমার জানা নেই। সন্তানের জন্য ১৯৭৫ সাল থেকে এক নাগাড়ে রোজা পালন করে বাংলাদেশের গ-ি পেরিয়ে সারা বিশ্বে তিনি ব্যতিক্রম একজন মমতামীয় মা হিসেবে পরিচিত লাভ করেছিলেন। সখিরণ নেছা ওরফে ভেজি বুড়ির স্বামী আবুল খায়ের ছিলেন একজন সম্ভ্রান্ত ঘরের সন্তান। তাঁর যখন বিয়ে হয়, সম্পদে ভরপুর ছিল স্বামী আবুল খায়েরের সংসার। তিন ছেলে ও তিন মেয়ের জননী ছিলেন সখিরণ। স্বামীর মৃত্যুর পর অভাবী পরিবারে পরিণত হয় সখিরণের সংসার। ১১ বছর বয়সী বড় সন্তান শহিদুল হারিয়ে গেলে তাঁর জন্য রোজা পালন শুরু করেন তিনি। শহিদুল বাড়ি ফিরে এলেও রোজা ভাঙেননি সখিরণ। ছেলে শহিদুলের বয়স এখন ৫৫। এমন মা পাওয়া বর্তমান জামানায় সত্যিই গর্বের বিষয়। হে মমতাময়ী মা সখিরণ নেছা, তুমি অনুকরণীয়, তুমি মৃত্যুর পরও যেন ভালোবাসার এক জীবন্ত প্রতীক। তোমাকে স্যালুট ।