মাহতাব উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ ও শহীদ নুর আলী কলেজে চাকরী করা : চার প্রভাষকের তদন্তে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন

1186

ঝিনাইদহ অফিস: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ মাহতাব উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ ও শহীদ নুর আলী কলেজে এক সাথে চাকরী করা চার শিক্ষকের অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তে মাঠে নেমেছে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসন। লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মোঃ জাকির হোসেন কমিটি গঠন করেছেন। ইতিমধ্যে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সোহেল সুলতান জুলকার নায়ন কবীর মঙ্গলবার কলেজ দুইটি পরিদর্শনও করেছেন। তিনি দুই কলেজের এমপিও সীটসহ তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন। আগামী রোববার এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যলয়ে শুনানী হতে পারে। ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের জুডিশিয়াল মুন্সিখানা শাখা সুত্রে এ সব তথ্য জানা গেছে। ওই শাখার প্রধান সহকারী মাহবুব হোসেন খবরের সত্যতা নিশ্চত করে জানান, ডিসি স্যার অনিয়মের বিষয়টি সত্য কিনা তা দেখতে তদন্ত করতে বলেছেন। শীঘ্রই এ বিষয়ে শুনানী হবে বলে তিনি জানান। এদিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে তথ্য গোপন করে তথ্য গোপন করে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহীদ নুর আলী কলেজের তিন শিক্ষক ফাতেমা আক্তার, অমিত কুমার সেন ও সুব্রত কুমার নন্দি সরকারী করণের অপেক্ষায় থাকা একই উপজেলা মাহতাব উদ্দীন ডিগ্রী কলেজে যোগদান করেছেন। সেখানে তারা নিয়মিত ক্লাসও নিচ্ছেন। তবে তারা বেতন ভাতা গ্রহন করনে শহীদ নুর আলী কলেজ থেকে। অন্যদিকে কালীগঞ্জ পৌরসভাধীন আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক মিতা বিশ্বাস তথ্য গোপন করে মাহতাব উদ্দীন ডিগ্রি কলেজে যোগদান করেছেন। অভিযোগ রয়েছে মাহতাব উদ্দীন ডিগ্রি কলেজটি সরকারিকরণ ঘোষনার হুইসিল বাজলে রাতারাতি ১৮ জন শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। কালীগঞ্জের ভুষন পাইলট স্কুলেও ৬ শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে একই অনিয়ম করা হয়েছে। রাতারাতি নিয়োগ দেওয়ার কারণে কোন বিধি মানা হয়নি। তদন্ত করলে থলের বিড়াল বের হয়ে আসবে। এ বিষয়ে শহীদ নুর আলী কলেজের অধ্যক্ষ রাশেদ সাত্তার তরু সাংবাদিকদের জানান, তার কলেজের বেতন ভুক্ত তিন শিক্ষক সুব্রত কুমার নন্দি, অমিত কুমার সেন ও ফাতেমা আক্তার মাহাতাব উদ্দীন ডিগ্রী কলেজে যোগাদন করেছেন বলে শুনেছেন। এর বেশি কিছু তিনি বরতে নারাজ। অন্যদিকে মাহতাব উদ্দীন ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ মন্ডল এক সাথে দুই প্রতিষ্ঠানে চাকরী করার বিষয়ে বলেন, উল্লেখিত চার শিক্ষক তার কলেজে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে চাকরী করেন। তাদের চাকরী স্থায়ী নয়। তারা কোন আর্থিক সুবিধা নেন না তিনি দাবী করেন। তবে কলেজের ওয়েবসাইটে চার প্রভাষককে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে দেখানো হয়নি। সেখানে স্থায়ী নিয়োগের তালিকায় তাদের নাম রয়েছে।