মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন

30

জনপ্রশাসন হোক সেবামুখী
দেশের জনপ্রশাসন কতটা জনকল্যাণমুখী, তা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন রয়েছে। সবার নয়, কিছু কিছু সরকারি কর্মচারীর আচরণে গোটা জনপ্রশাসনই প্রশ্নবিদ্ধ হয়। বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার জরিপেও জনপ্রশাসনে নিযুক্ত কর্মচারীদের মান, দক্ষতা ও জনসেবার মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকার গত ১০ বছরে জনপ্রশাসনের কর্মচারীদের যেসব সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে, তার তুলনায় তাদের কাজের মান কতটা বেড়েছে, এটা যেমন বড় প্রশ্ন, তেমনি জনসাধারণকে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রেও তাদের বেশির ভাগের আন্তরিকতা প্রশ্নবিদ্ধ। আবার প্রশাসনে এমন অনেককেই পাওয়া যাবে, যাদের আন্তরিকতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। কিন্তু এটাই তো আর সার্বিক চিত্র নয়। বিশিষ্টজনদের মতে, এখনো পর্যন্ত জনপ্রশাসনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দুর্নীতি প্রতিরোধ করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা। প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, ২০১৫ সালে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়িয়ে প্রায় দ্বিগুণ করার দুই বছর পর সরকারি দপ্তরে ঘুষের পরিমাণ বাড়ে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা। ওই বেতন বৃদ্ধির আগে ও পরে টিআইবির করা খানা জরিপে এ চিত্র উঠে আসে। যদিও সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির ঘোষণাকালে দুর্নীতি কমে সেবার মান বাড়ার আশা করেছিলেন নীতিনির্ধারকরা। টিআইবির আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তুলতে শুদ্ধাচার কৌশলপত্রে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ছিল। সরকার সেগুলো পূরণ করেছে। কিন্তু এর বিপরীতে কর্মচারীদের কাছ থেকে জনগণ প্রত্যাশিত সেবা পাচ্ছে না। সেই সঙ্গে দুর্নীতির থাবাও বড় হচ্ছে। অনেক সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার পরও সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে স্ব-উদ্যোগী হয়ে মানুষকে সেবা দেওয়ার মানসিকতা কেন তৈরি হচ্ছে না, তা রীতিমতো গবেষণার বিষয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কর্মজীবনের শুরুতেই প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মাথায় ঔপনিবেশিক মনোভাব ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। সারা জীবন তাঁরা ওই চক্র থেকে বের হতে পারেন না। অনেকের মতে, জনবান্ধব প্রশাসন গড়তে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও পদলেহী আমলারাই বড় বাধা। এখানে বলা দরকার, জনপ্রশাসন নিয়ে সরকারের পক্ষে গবেষণা করা হয় না। কিন্তু বেসরকারি পর্যায়ে যেসব গবেষণা হয়, সেগুলো থেকে তাঁরা কিছু গ্রহণ করতে নারাজ। শুধু বেসরকারি গবেষণাকে উপেক্ষাই নয়, সরকারের নিজের গঠিত ২৭টি কমিটি ও কমিশন প্রণীত সুপারিশও গ্রহণ করা হয়নি। এর বিপরীত চিত্র যে নেই, তা নয়। ৯টা-৫টা অফিস করেই নিজের দায়িত্ব শেষ করেননি। কাজ করতে গিয়ে মানুষের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের পরিকল্পনা করেছেন, সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সফলও হয়েছেন। এমন উদাহরণও জনপ্রশাসনের মাঠপর্যায়ে আছে। কাজেই সেবামুখী জনপ্রশাসন গড়ে তোলা সম্ভব। এর জন্য শুধু মানসিকতার পরিবর্তনই যথেষ্ট।