মানবিক দুর্যোগে অমানবিকতা

28

বেসরকারি ক্লিনিকগুলোকে নিয়মে আনুন
করোনা বিশ্বব্যাপী এক ভয়ংকর মানবিক দুর্যোগ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সর্বাত্মক লকডাউন করেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। মানুষ আতঙ্কিত দিন কাটাচ্ছে। বাংলাদেশ তার ব্যতিক্রম নয়। এরই মধ্যে বাংলাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ৩০ হাজার ছাড়িয়েছে। মারা গেছে এক হাজার ছয় শর বেশি। এ ছাড়া বহু মানুষ করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যাচ্ছে। এমন এক পরিস্থিতিতে দেশের হাসপাতালগুলো, বিশেষ করে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো রোগীদের সঙ্গে যে অমানবিক আচরণ করে চলেছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। ৩০ মিনিট অক্সিজেন দিয়ে ৯ দিনের অক্সিজেন বিল নেওয়া, নানা রকম টেস্টের বাড়বাড়ন্ত, চিকিৎসক বা নার্স রোগীর কাছে না গেলেও তাঁদের বিলসহ লাখ লাখ টাকার বিল ধরিয়ে দেওয়ার অনেক অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে অনেক রোগী চিকিৎসা শেষ না করেই হাসপাতাল ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমন অনেক অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে। অনেকেই মনে করছেন, করোনার মতো ভয়ংকর মানবিক দুর্যোগের সময় বেসরকারি ক্লিনিকগুলো যেভাবে অমানবিক ও নিষ্ঠুর আচরণ করে চলেছে, অবিলম্বে তার অবসান হওয়া প্রয়োজন।
বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সেবার মান নিয়েও রয়েছে অনেক প্রশ্ন। আগে সরকারি হাসপাতালগুলোর চিকিৎসকরা এসব বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে খণ্ডকালীন দায়িত্ব পালন করতেন। করোনা মহামারির কারণে এখন তাঁরা বেসরকারি ক্লিনিকে সেবা দিতে যান না বললেই চলে। বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ সুবিধার মান এবং নিরাপত্তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। এরই মধ্যে কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তাই হাসপাতালগুলোর অনিয়ম দূর করা, চিকিৎসাসেবার মান নিশ্চিত করাসহ হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য স্টাফ ও রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে টাস্কফোর্স বা মোবাইল কোর্টের অভিযান পরিচালনা করা জরুরি বলে মনে করছেন চিকিৎসাসংক্রান্ত বিশেষজ্ঞরা। জানা যায়, করোনা পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে অনৈতিক ব্যবসা পরিচালনার হিড়িক শুরু হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই সরকার প্রথমে করোনা টেস্ট ও চিকিৎসায় বেসরকারি ক্লিনিকগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেনি। পরে অনেক বেসরকারি ক্লিনিক সব ধরনের চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেয়। অনেক ক্লিনিক বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে সরকার বাধ্য হয় বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর সঙ্গে সমঝোতায় আসতে এবং তাদেরও করোনা চিকিৎসার সুযোগ দিতে। আর প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়ে গেছে অনৈতিক মুনাফা লোটার প্রতিযোগিতা। আমরা আশা করি, বেসরকারি ক্লিনিকের সেবা কার্যক্রম মানসম্মত করা, অনৈতিক মুনাফা লোটা বন্ধ করা এবং হাসপাতালগুলোকে নিরাপদ করার ক্ষেত্রে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।