মাধ্যমিকে বার্ষিক পরীক্ষা বাতিল

49

নভেম্বরেও খুলছে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান; সংক্ষিপ্ত সিলেবাসেই মূল্যায়ন; কারিগরিতে পরীক্ষা হবে
সমীকরণ প্রতিবেদন:
করোনার কারণে চলতি বছরে মাধ্যমিক পর্যায়ে সব ক্লাসের বার্ষিক পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত কোনো ক্লাসেই এবার বার্ষিক পরীক্ষা হচ্ছে না। তবে এসব ক্লাসের শিক্ষার্থীদের সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে মূল্যায়নের মাধ্যমে উপরের ক্লাসে উন্নীত করা হবে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রণীত সিলেবাসে এক মাসে চারটি অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করে তাদের মেধাতালিকা তৈরি করা হবে। নভেম্বর মাস থেকেই শুরু হবে অ্যাসাইনমেন্ট। অর্থাৎ আগামী নভেম্বর মাসেও খুলছে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অন্য দিকে সাধারণ শিক্ষায় পরীক্ষা বাতিল হলেও কারিগরি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বাতিল হচ্ছে না; বরং স্বাস্থ্যবিধি মেনে সেখানে বার্ষিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা হবে। করোনার এই সময়ে যেসব শিক্ষার্থী স্থানান্তরিত হয়েছে তারা অনলাইনে যুক্ত হয়ে অথবা নিজ নিজ জায়গা থেকে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে পারবে। এর মাধ্যমেই তাদের পরবর্তী ক্লাসে প্রমোশন দেয়া হবে।
শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি গতকাল বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরীক্ষা বাতিল এবং শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের বিকল্প এসব পদ্ধতির কথা জানান। ভার্চুয়াল এই সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেনÑ শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব মো: আমিনুল ইসলাম খান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক গোলাম ফারুক চৌধুরী এবং বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এনসিটিবির প্রণয়ন করা সিলেবাস থেকে চারটি অ্যাসাইনমেন্ট এক মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে। এ সিলেবাসটি এনসিটিবির মাধ্যমে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছে পাঠানো হবে। পরে তা শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে। শিক্ষার্থীরা অনলাইনে বা খাতায় লিখে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে পারবে।’ তিনি আরো বলেন, অ্যাসাইনমেন্টের বাইরে শিক্ষার্থীদের কোনো ধরনের বাসার কাজ দেয়া যাবে না। চার সপ্তাহে শুধু চারটি অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করে শিক্ষকদের কাছে শিক্ষার্থীরা পৌঁছে দেবে।
আগামী ১ নভেম্বর থেকে শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট দেয়ার কাজ শুরু হবে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রতি সপ্তাহে একটি করে অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করে শিক্ষার্থী বা তার অভিভাবক সশরীরে বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষকদের হাতে পৌঁছে দিতে পারবেন। কেউ চাইলে অনলাইনের মাধ্যমেও শিক্ষকদের কাছে তা পেঁৗঁছে দিতে পারবেন। যদি তা সম্ভব না হয় তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে একটি ই-মেইল ঠিকানা দেয়া থাকবে, সেখানে সাপ্তাহিক অ্যাসাইনমেন্ট পাঠাতে পারবেন। সব অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেয়ার পর ধারাবাহিকভাবে শিক্ষকরা মূল্যায়ন করবেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একজন শিক্ষার্থী তার ক্লাস থেকে পরবর্তী ক্লাসে যেতে যতটুকু শিখনজ্ঞান প্রয়োজন তা বিশ্লেষণ করে ৩০ দিনের এ সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি মূল্যায়ন করে সবাইকে পরবর্তী ক্লাসে উন্নীত করা হবে। যেসব শিক্ষার্থী ভার্চুয়াল বা টেলিভিশন ক্লাস থেকে একেবারে বঞ্চিত রয়েছে, তাদের এগিয়ে নেয়ার জন্য শিক্ষকদের মাধ্যমে ছোট ছোট দল করে সেই শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নেয়া হবে। তিনি বলেন, এরপরও যদি কেউ বঞ্চিত থাকে, তার কারণ ও তাদের কিভাবে এগিয়ে নেয়া যায় তা বিবেচনা করা হবে। আগামী বছরের জানুয়ারিতে সবাইকে নতুন ক্লাসে উন্নীত করা হবে। তাদের মধ্যে কেউ পিছিয়ে থাকলে তাদের চিহ্নিত করে বাড়তি পরিচর্যা নেয়া হবে।
অনার্সের শিক্ষার্থীদের কোনো প্রকার পরীক্ষা ছাড়া ডিগ্রি দেয়া ঠিক হবে না জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উচ্চশিক্ষার এই ডিগ্রি নিয়ে শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে হয়ে। পরীক্ষা ছাড়াই তাদের ডিগ্রি দেয়া হলে তাদের কর্মক্ষেত্রেও অন্যভাবে দেখা হতে পারে। তাই এই পরীক্ষা কিভাবে নেয়া যায় তা ভেবে দেখা হবে।
প্রসঙ্গত, করোনার কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। কিছু ক্ষেত্রে অবশ্য অনলাইন ও টেলিভিশনে ক্লাস নেয়া হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে এ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী, ইবতেদায়ি সমাপনী, জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি), জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) এবং উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষাও এর আগেই বাতিল করা হয়েছে।
এ দিকে দীর্ঘ টানা সাত মাস ধরে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় স্কুলগুলোতে বার্ষিক পরীক্ষা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। অবশেষে করোনা পরিস্থিতিতে মাধ্যমিকে বার্ষিক পরীক্ষা হচ্ছে না বলে ঘোষণা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি। এ দিকে প্রাথমিকে সরাসরি অটো প্রমোশন দেয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আরো জানান, মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা বাতিল করা হলেও কারিগরির পরীক্ষা বাতিল হবে না। এই পরীক্ষা নেয়া হবে। এ শিক্ষা হাতে-কলমে শিখতে হয় বলে তাদের পরীক্ষা দিয়ে পরবর্তী ক্লাসে উন্নীত করা হবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সাধারণ বিষয়ে পরীক্ষা ছাড়া ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হলেও কারিগরি শিক্ষায় তা সম্ভব নয়। কারিগরি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে লেখার চেয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। সেটি না শিখলে তাকে পরবর্তী ক্লাসে প্রমোশন দেয়া সম্ভব হবে না। এ কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বার্ষিক পরীক্ষা ও ব্যবহারিক পরীক্ষার মাধ্যমেই এ স্তরের শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ক্লাসে প্রমোশন দেয়া হবে।