মাথাভাঙ্গা সেতুর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত না নিলে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

22

চুয়াডাঙ্গা জেলা সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের জরুরি সভা
বিশেষ প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী একমাত্র সেতু ‘মাথাভাঙ্গা সেতু’ ভেঙে পড়ায় বিগত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার বাস-মিনিবাস, ট্রাক-ট্যাংক, লরি ও কাভার্ডভ্যানের মালিক-শ্রমিকেরা। এ অবস্থায় একাধিকবার জেলার শীর্ষ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেও কোন সুফল মেলেনি। তাই এবার সেতুটি দ্রুত মেরামত, বেইলি সেতু অথবা নতুন সেতু নির্মাণ করে সব প্রকার যানবাহন চলাচল ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে আল্টিমেটাম দিয়েছে চুয়াডাঙ্গা জেলা সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। আগামী চার দিনের মধ্যে সেতুটি মেরামত এবং নতুন সেতু নির্মাণের ব্যাপারে কার্যকরী সিদ্ধান্ত না নেওয়া হলে ১৭ জুলাই সকাল থেকে চুয়াডাঙ্গা হতে সারা দেশের সঙ্গে সব প্রকার যানবাহন চলাচল ও যোগাযোগ বন্ধ রেখে আন্দোলনে নামবেন জেলার সব পর্যায়ের মালিক-শ্রমিকেরা।
গতকাল শুক্রবার রাত আটটায় চুয়াডাঙ্গা আলী হোসেন সুপার মার্কেটস্থ জেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের কার্যালয়ে এক জরুরি সভা শেষে এ সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেন জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রিপন ম-ল। তিনি আরও বলেন, ‘গত ১১ জুন মাথাভাঙ্গা সেতুটির মাঝখানের কিছু অংশ ভেঙে পড়ার পর থেকে আজ এক মাস ধরে সব প্রকার বাস-মিনিবাস, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান, ট্যাংক-লরি চলাচল বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ফলে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুরসহ সারা দেশ থেকে ছেড়ে আসা যানবাহনগুলোকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এমতাবস্থায় বিকল্প সড়ক (বাইপাস) ব্যবহার করে চলাচল করতে হচ্ছে আমাদেরকে। কিন্তু সে সড়কগুলোর অবস্থাও নাজুক। একটি গাড়িকে মাত্র আধা কিলোমিটার নিয়ে যাওয়ার জন্য ৩০ কিলোমিটার ঘুরে আসতে হচ্ছে। আমাদের সমস্যা নিয়ে একাধিকবার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের স্মরণাপন্ন হয়েছি এবং আশ্বাস পেয়েছি। সড়ক ও সেতু-সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জেলা সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জিয়াউল হায়দারের সঙ্গে একাধিকবার সরাসরি যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি দেখা করেননি। এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য তাঁর মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে আমাদের নম্বর ব্লকলিস্টে রেখে দেন। তিনি নিজেকে সারা দেশের নির্বাহী প্রকৌশলী (এক্সএন) মনে করেন। এ দিকে সেতু মেরামত বা নতুন সেতু নির্মাণ নিয়ে কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত না হওয়ায় এবং এ সেতুটি বন্ধ রাখায় আমরা পরিবহন মালিক ও শ্রমিকেরা চরম দুর্ভোগে রয়েছি।’
এর আগে জেলা সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি হাবিবুর রহমান লাভলুর সভাপতিত্বে সভার কার্যক্রম শুরু করা হয়। আলোচ্য বিষয়ের ওপর সভা পরিচালনা করেন ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মইনুদ্দিন মুক্তা। বক্তব্য উপস্থাপন করেন জেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সভাপতি সালাহ উদ্দীন, সিনিয়র সহসভাপতি আবুল কালাম, সহসভাপতি আবু বক্কর ছিদ্দীক, যুগ্ম সম্পাদক বদর উদ্দীন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আমীর খসরু, নির্বাহী সদস্য আরিফুল ইসলাম, আলম আলী, কোষাধ্যক্ষ নাজমুল হক ও জেলা বাস-ট্রাক সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এম জেনারেল ইসলাম।