মাথাভাঙ্গাকে বর্জ্যদূষন থেকে রক্ষা এখন সময়ের দাবি

130

আজ বিশ্ব পানি দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও এই দিবসটি নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে। বিশ্ব পানি দিবসে এবারের প্রতিপাদ্য ‘নদ-নদী খাল-বিলে দূষন চলে যদি, জনগণের দুঃখ তাতে বাড়বে নিরবধি’ -এই সেøাগানটি নিঃসন্দেহে সময়োপযোগি। কারণ, জলাভূমির দেশ বাংলাদেশ। অসংখ্য নদী এদের শাখা-প্রশাখা, খাল-বিল, হাওড়-বাওড়, পুকুরের দেশ এই বাংলাদেশে হাতের কাছে শত শত পানির উৎস থাকা সত্বেও, মানুষ্য সৃষ্ট দূষনে বিশুদ্ধ পানির অভাব আজ সর্বত্র। যা বিস্ময়করও বটে। তাই হয়তো, পানিসম্পদ মন্ত্রনালয় দেরীতে হলেও পানির অপরিহার্যতা বিবেচনায় এবারের প্রতিপাদ্য নির্দিষ্ট করেছে। প্রশ্ন হলো, এই সেøাগানের বাস্তবায়ন যদি না হয়, শুধুমাত্র দিবস পালনের মধ্যে যদি সীমাবদ্ধ থাকে? তাই যদি হয়, তবে পানির জন্য জনদুর্ভোগ দিনে দিনে আরও বাড়বে। গভীর থেকে গভীরতর হবে সুপেয় পানির সঙ্কট। খুব বেশি দিনের কথা নয়, যখন এই অঞ্চলের মানুষ তাদের দৈনন্দিন কাজে নদী, খাল, বিলের পানি ব্যবহার করতেন। অথচ এই সময়ে মানুষ্য সৃষ্ট দূষনে এর কোন উৎসই এখন ব্যবহারযোগ্য নয়।
মাথাভাঙ্গা নদীর কথায় ধরা যাক, এই নদীর পানি চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ নিত্যদিন ব্যবহার করেছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও তাদের পরিবার গোসল থেকে শুরু করে সাংসারিক কাজে ব্যবহার করেছে এই মাথাভাঙ্গার পানি। এখন সেই মাথাভাঙ্গা নদীতে গোটা চুয়াডাঙ্গা শহরের বর্জ্য মিশ্রিত পানি এসে পড়ায় নদীটি এখন শুধু দূষিতই নয়, মৃতপ্রায়ও। অথচ অনায়াসেই এই নদীর দূষন রোধসহ এর নাব্যতা রক্ষা অসম্ভব ছিলো না বা এখনও সম্ভব। পৌর এলাকার মূল ড্রেনগুলো দিয়ে বর্জ্য মিশ্রিত দূষিত পানি নদীতে পড়ার আগেই যদি শোধন ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে বর্জ্য মিশ্রিত পানিকে শোধন করে নদীতে ফেলা যায়, তাহলে অনায়াসেই নদী দূষন রোধ সম্ভব। একইসাথে ড্রেজিং করে এর নাব্যতা ফিরিয়ে এনে এবং পানি শোধনাগার নির্মাণপূর্বক এই সারফেস ওয়াটার সাধারণের ব্যবহারযোগ্য করে তোলাও সম্ভব। এবারের পানি দিবসে পানি উন্নয়ন বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি থাকবে মাথাভাঙ্গা নদীকে বাঁচাতে অবিল¤ে॥^ একটি বর্জ্য মিশ্রিত পানি শোধনাগার নির্মাণসহ এর নাব্যতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হোক। নইলে ড্রেজিংয়ের অভাবে বর্জ্যমিশ্রিত পানির কারনে হয়তো মৃত্যু ঘটবে নদীটির। তখন চুয়াডাঙ্গা জেলাবাসির মুখেমুখে শোভা পেতে পারে ‘এই খানে একটা নদী ছিলো জানলো নাতো কেউ’। সুতরাং এখন মাথাভাঙ্গাকে দূষণ থেকে রক্ষা চুয়াডাঙ্গাবাসীর সময়ের দাবি।