মাটির নিচে রহস্যময় আলিশান নগরী!

142

বিস্ময় প্রতিবেদন:
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পৃথিবীতে যত মানুষের বাস তার অর্ধেকের বেশি মানুষ বড় শহরগুলোতে থাকে। মজার ব্যাপার হলো, এই ধরনের বড় শহরে বসবাসরত যার কাছেই আপনি প্রশ্ন করুন না কেন, সবাই বলবে- তাদের শান্ত এবং নিরিবিলি জীবনযাপন পছন্দ! এমন শান্ত, নির্জন জায়গা কিছু মানুষের এত বেশি পছন্দ যে তারা ঘনবসতি, কোলাহল থেকে এতটাই দূরে বাস করেন, সেখানে পৌঁছানো আপনার অসাধ্যও হতে পারে। তেমনই একটি অঞ্চল অস্ট্রেলিয়ার কুবার পেডি। ১৯১৫ সালে এই অঞ্চলে স্বর্ণের সন্ধানে গিয়ে মূল্যবান পাথর আবিষ্কৃত হয়। তারপর থেকেই ওই অঞ্চল অনেকের নজর কাড়ে। যদিও রহস্য, ভয়, দুর্গম পথ ইত্যাদি কারণে সেখানে কম মানুষই যায়। ২০১১ সালে করা আদমশুমারির তথ্যমতে, ওই অঞ্চলে তখন ১৬৯৫ জন মানুষ বাস করত। তবে এত কম মানুষের অবস্থানের আরেকটি কারণ এখানকার আবহাওয়া। এখানে দিনে প্রায় সাতচল্লিশ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকে। অপরদিকে শীতকালে তাপমাত্রা নেমে যায় শূন্যের কোঠায়। প্রকৃতির এই বৈরী আবহাওয়া থেকে বাঁচতে এই অঞ্চলের মানুষ বসবাসের জন্য বেছে নিয়েছে অন্যরকম একটি পন্থা! আমরা সবাই জানি, গ্রীষ্মকালে খোলা আকাশের নিচে এত গরমের মধ্যে বসবাস করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। যে কারণে কুবার পেডির মানুষ গুহার মধ্যে বাস করে। গুহা শুধু নামেই। প্রকৃতপক্ষে এটি আসলে আলিশান অবস্থা! কারণ গুহার মধ্যে দৈনন্দিন সকল প্রয়োজনীয় জিনিসসহ আরামদায়ক ব্যবস্থা থাকে। যদিও পানির ব্যবস্থা করতে তাদের যথেষ্ট ঘাম ঝরাতে হয়। প্রায় পনেরো মাইল দূর থেকে মাটির নিচ দিয়ে মোটা পাইপের মাধ্যমে পানি নিয়ে আসা হয়। তবে যাই হোক, বর্তমানে এই অঞ্চলের সবাই এভাবে গুহার মধ্যে বাস করে বলে কুবার পেডিকে অনেকে ‘ভূগর্ভস্থ নগরী’ও বলে। আগেই বলেছি, সেখানে দামী পাথর পাওয়া যায়। ‘ওপাল’ নামক ওই রত্নের কারণেই মূলত এত কষ্ট করে মানুষ সেখানে থাকে বিভিন্ন রহস্য বা ভয় উপেক্ষা করে। এটা মনে করার কোনো কারণ নেই যে, এলাকাটি অনাধুনিক। বরং শুনে চমকে ওঠার মতো তথ্য হলো, এখানে রেস্তোরাঁ, বিনোদন কেন্দ্র, ব্যাংকসহ একটি শহরে যা যা থাকা দরকার তার সবকিছু আছে। কিন্তু সবই মাটির নিচে। এটিই বর্তমানে পৃথিবীর একমাত্র ভূগর্ভস্থ নগরী। ফলে দিনদিন অঞ্চলটির প্রতি পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়ছে। বহু দূর থেকে ভ্রমণপ্রেমীরা এখন কুবের পেডিতে যাচ্ছেন। ২০০৬ সালে এই শহরকে কেন্দ্র করে একটি চলচ্চিত্র তৈরি হয়- ‘উপল ড্রিমস’। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি প্রামাণ্যচিত্রও হয়েছে যথেষ্ট। ২০১২ সালে ডিসকভারি চ্যানেলে এই শহর নিয়ে প্রচার হয় একটি প্রামাণ্যচিত্র! এই অঞ্চলের সবচেয়ে কাছের লোকালয় রক্সি টাউন দুইশ তিয়াত্তর কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। রক্সি টাউনেও মাত্র ছত্রিশশ লোকের বাস। কেননা, আপনি নির্জনতা যতই পছন্দ করুন না কেন বৈরী প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে বাস করা খুব কঠিন। তবে এই কঠিন এবং অসাধ্য সাধন করে যারা এখানে থেকে গেছেন এবং দামী পাথরের খোঁজ করছেন, তাদের কষ্টের ফল তারা বেশ উচ্চমূল্যেই উপভোগ করেন।