মহেশপুরে সিজারের পর গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ

69

ঝিনাইদহ অফিস:
ঝিনাইদহের মহেশপুরে আবারো সিজারের পর মরিয়াম খাতুন (৩০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুে অভিযোগ উঠেছে হয়েছে। নিহত গৃহবধূ উপজেলার নেপা ইউনিয়নের জিনজিরা গ্রামের সিকদার আলীর স্ত্রী। এছাড়া তিনি একই ইউনিয়নের খোশালপুর গ্রামের মকলেস তরফদারের মেয়ে। গত রোববার দিবাগত রাতে উপজেলার নেপার মোড়ে মা ও শিশু প্রাইভেট হাসপাতালে সিজারের পর গতকাল সোমবার সকালে মারা যান। এর আগে গত ৬ আগস্ট একই বাজারের একতা ক্লিনিকে লাবনী নামের এক গৃহবধূ সিজারের পর মারা যান। মারা যাওয়া দুজনকেই সোহেল রানা নামে স্থানীয় এক ডাক্তার অপারেশন করেন। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত মরিয়াম বেগমের পরিবারের ভাষ্য, গৃহবধূ মরিয়ামের প্রসব যন্ত্রনা শুরু হলে রোববার বিকেলে উপজেলার নেপার মোড়ে মা ও শিশু প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করে। এরপর রাতে ডাক্তার মো. সোহেল রানা ও গ্রাম্য ডাক্তার শ্রী লক্ষণ অপারেশন করেন। এরপর সোমবার সকালে মারা যায়। মারা যাওয়ার পর প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে ক্লিনিক মালিক মৃত গৃহবধূকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর নিয়ে যান। পথে যশোরের চুড়ামনকাঠী থেকে মারা গেছে বলে ফেরত নিয়ে আসেন।
মা ও শিশু প্রাইভেট হাসপাতালের মালিক নাজমুল হুদা মনু সিজারের পর গৃহবধূ মরিয়াম মারা যাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে জানান, রোগীর কিডনির সমস্যা ছিল। রাতে অপারেশনের পর সকালে সুস্থ ছিলেন। পরে সামান্য অসুস্থ হয়ে পড়লে যশোর নেওয়ার পর রাস্তা ভালো না হওয়া অতিরিক্ত ঝাকুনির ফলে মারা যেতে পারে।
মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আনজুমান আরা জানান, ‘আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে সংবাদ পেয়েছি। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে যোগ করেন এই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্তা।’ তবে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম জানিয়েছেন, ‘মরিয়াম সিজারের মারা গেছে এমন কোনো সংবাদ আমি জানি না।’ এছাড়া গত ৬ আগস্ট সিজারের পর মারা যাওয়া লাবনী ঘটনায় তদন্ত চলছে। রিপোর্ট হাতে পেলেই দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা। উল্লেখ্য, জেলার বেশির ভাগ ক্লিনিকের লাইসেন্স মেয়াদোত্তীর্ণ। এসব ক্লিনিকে নেই চিকিৎসার ন্যূনতম কোনো পরিবেশ। কোনো প্রশিক্ষিত নার্সও নেই। কিছু ক্লিনিকের মালিকরায় ওয়ার্ড বয়, আয়া ও ছেলে ডাক্তার সেজে অপারেশন করে থাকেন।