মহেশপুরে দুর্যোগ সহনীয় ঘরে মহাদুর্যোগ!

25

ঝিনাইদহ অফিস:
এক কড়াই সিমেন্টের সঙ্গে ১৬ কড়াই বালি। নিস্নমানের কাঠ ও টিনের ছাউনি। মেঝের পলেস্তারা খসে খসে উঠে যাচ্ছে। বৃষ্টির আগেই বৃষ্টির ফোটা পড়ে ঘরের মধ্যে। ঠিক এমন করেই টিআর কর্মসূচির আওতায় মহেশপুর উপজেলার হুদা-শ্রীরামপুর গ্রামে দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ প্রকল্পের ৩ লাখ টাকার বাড়িটি নির্মাণ করা হয়েছে। বাড়িটি বরাদ্দ পেতে উপকারভোগী মমিনুর রহমান স্থানীয় মান্দারবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিদুল ইসলামকে দিয়েছেন ২০ হাজার টাকার ঘুষ। তারপরও স্বপ্নের বাড়িটি এখন বসবাসের অযোগ্য। মমিনুর রহমান উপায় না পেয়ে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছেন।
মহেশপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী বেনজামিন জানান, ‘উপজেলার মান্দারবাড়িয়া ইউনিয়নের হুদা-শ্রীরামপুর গ্রামে দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ প্রকল্পের কাজটি করেন স্থানীয় চেয়ারম্যান। তিনিই প্রকল্পের সভাপতি। বাড়িটি তৈরি করতে সরকার ২ লাখ ৯৯ হাজার ৮৬০ টাকা বরাদ্দ করে। তিনি বলেন, অতিবৃষ্টি ও অবহেলার কারণে বাড়িটির এ রকম অবস্থা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তবে নির্মাণকাজে কোনো দুর্নীতি হয়নি। ঘর মালিককে ঘরের পরিচর্যা করতে বললে তারা চেয়ারম্যানকে দেখায়। তিনি জানান, উপকারভোগীর সঙ্গে চেয়ারম্যানের কিছু একটা সম্পর্ক আছে। সেটা লেনদেনেরও হতে পারে।’
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হুদা-শ্রীরামপুর গ্রামের মমিনুর রহমানের বাড়িটি একেবারইে বসবাসের অযোগ্য। ঘরের মেঝে ও দেওয়ালের পলেস্তারা খসে খসে পড়ছে। দেওয়ালে ফাটল ধরেছে। কাঠগুলো নিম্নমানের। ঘরটিতে এখনো হতদরিদ্র ওই পরিবার ওঠেনি। উপকারভোগী মমিনুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘স্থানীয় চেয়ারম্যান ও প্রকল্পের সভাপতি শফিদুল ইসলাম ঘর নির্মাণের শুরু থেকেই দুই নম্বর ইট দিয়ে কাজ করছেন। ১৬ কড়াই বালির সঙ্গে এক কড়াই সিমেন্ট দিয়েছে। আমি এভাবে কাজ করার প্রতিবাদ করলে হুমকি ও ধমকের শুরে বলেন, ঘর না নিলে কিন্তু টাকা ফেরত যাবে। ইঞ্জিনিয়ারকেও আমরা অনিয়মের কথা বলেছি। তিনিও কোনো কর্ণপাত করেননি।’ মমিনুর রহমান জানান, ‘বাসগৃহ নির্মাণসামগ্রী আনতেও ভাড়ার টাকা আমাকেই দিতে হয়েছে।’ মমিনুর দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেন, এমন ঘরের দরকার ছিল না। মাটির ভাঙা ঘরেই না হয় থাকতাম প্রতিবন্ধী ছেলে আর বউকে নিয়ে।
ঘর নির্মাণ সম্পর্কে মান্দারবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান শফিদুল ইসলাম জানান, ‘ঝড় আর বৃষ্টির কারণে এমনটি হয়েছে। তা ছাড়া ঢালাই দেওয়ার পর আমি ওদের বলেছিলাম ঢেকে রাখতে। ওরা কথা শোনেনি। বৃষ্টিতে পলেস্তারা ও মেঝে নষ্ট হয়েছে।’ তিনি দুঃখ করে বলেন, ‘আমি বয়োবৃদ্ধ মানুষ। ঘর নিয়ে অভিযোগ ওঠায় আমি লজ্জিত।’ তিনি বলেন, ‘ঘর তৈরি করতে গিয়ে আমার তিন ব্যাগ সিমেন্ট চুরি হয়েছে। নির্মাণকাজে আমি কোনো গাফলতি করিনি।’ তিনি আজ-কালের মধ্যে দ্রুত ঘরটি সংস্কার করে দিবেন বলে জানান।
মহেশপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মেহেরুন নেছা ও মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাশ^তী শীল মোবাইলে জানান, ‘ছুটিতে থাকা অবস্থায় এ ঘরটি নির্মাণ করা হয়েছে। এ কারণে বিষয়টি আমরা জানি না।’ তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাশ^তী শীল জানান, ‘আমার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ এসেছে। আমি দুই পক্ষকেই ডেকে তাঁদের কাছে এ বিষয়ে শুনব।’