মহাসড়কে ডাকাতি রোধে কার্যকরি উদ্যোগ জরুরী

195

দেশের মহাসড়কগুলোতে চলছে ডাকাতির মহোৎসব। যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক-কাভার্ডভ্যানে সংঘবদ্ধ ডাকাতদলের বেশকয়েকটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। এসব চক্রে জড়িত রয়েছে কিছু অসাধু পরিবহন মালিক-শ্রমিক, পেশাদার চালক, অসাধু কিছু পুলিশ সদস্য-কর্মকর্তা। ফলে জড়িতদের তালিকা তৈরি করেও কোনো লাভ হচ্ছে না। ডাকাত কবলিত চিহ্নিত এলাকায় ডিউটি চলাকালীন সময়, ওই পুলিশ কর্মকর্তার অন্যত্র সময় কাটানো অত্যন্ত দুঃখজনক। এছাড়া বাসা-বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা তো রয়েছেই। সম্প্রতি চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুরের সড়ক-মহাসড়কে প্রায়ই ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। গত ১৯ মার্চ চুয়াডাঙ্গার ঘোড়ামারা ব্রীজের অদূরে সড়কে গাছ ফেলে গণডাকাতির ঘটনা ঘটে। এসময় ডাকাতরা ২৫টি যানবাহনে তা-ব চালায় বলে বেশকয়েকটি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ১০/১২টি গাড়ি থামালেও, মাত্র তিনটি গাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ওই দিনই মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দী ইউনিয়নের ব্রজপুর এলাকায় সড়কে গাছ ফেলে দুইটি যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী নৈশ কোচ, পণ্যবাহী ট্রাক, স্যালোইঞ্জিনচালিত আলগামন ও মাছ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও প্রায় ১৫টি মুঠোফোন লুট করে নেয়। এঘটনার মাত্র ১২ দিন আগে গত ৬ মার্চ শিক্ষাসফরের পাঁচটি বাসে একই কায়দায় ডাকাতি হয়। মেহেরপুর পৌর কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সফর শেষে ফেরার পথে মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কের গাংনী উপজেলার শুকুরকান্দিতে ডাকাতের কবলে পড়ে। এসময় তাদের জিম্মি করে ডাকাতদল নগদ টাকা, স্বর্নালংকার, মোবাইল ফোন সহ ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নেয়। পুলিশের কঠোর অভিযানের মধ্যদিয়েও গতপরশু ২০ মার্চ দামুড়হুদার দুধপাতিলা গ্রামের সড়কে গরুব্যবসায়ীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় দুই লাখ টাকা লুট করে ডাকাতদল। এ ঘটনার বেশ আগে চুয়াডাঙ্গা সদর ইউএনও, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের বাসভবনসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে তা-ব চালিয়েছে ডাকাতদল। ডাকাতের ছোড়া বোমায় গৃহকর্তার মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। মহাসড়কে ডাকাতি-ছিনতাই-চাঁদাবাজি নতুন কিছু নয়। এ নিয়ে অতীতেও বহু লেখালেখি হয়েছে। এখন দেখা যাচ্ছে, পরিস্থিতির উন্নতি না হয়ে অবনতি হয়েছে। পরিবহনে ডাকাতির সাথে একদল তথাকথিত পেশাদার চালকদের জড়িত থাকার অভিযোগও নতুন কিছু নয়। কেবলমাত্র পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত চালকরাই ডাকাতির সাথে যুক্ত, ব্যাপারটি তেমনও নয়; বরং গণপরিবহনের একশ্রেণীর চালকের বিরুদ্ধেও এ অভিযোগ রয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল থেকে যা-ই বলা হোক, দেশে সার্বিক বিনিয়োগ পরিস্থিতি ভাল নয়। ব্যবসায়ীরা বারবার আস্থার সঙ্কটের কথা বলে আসছেন। কেন ব্যবসায়ীরা আস্থা পাচ্ছেন না  বোধকরি তার একটা বড় কারণ মহাসড়কে দস্যুতা। যেসব পয়েন্টে ডাকাতি হয় তার সবগুলোই হচ্ছে শিল্পাঞ্চল ও বন্দরকেন্দ্রিক। অন্যদিকে, মহাসড়কে বেশি ডাকাতি হয় পোশাকবাহী ট্রাক ও কভার্ড ভ্যানে। ফলে এটা সহজেই বোধগম্য যে, ডাকাতরা তা ভালোভাবে অবগত। এমতাবস্থায় পরিস্থিতির উন্নতি হবে কিভাবে? অবসান জরুরি এবং এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টরা যতœবান ও দায়িত্বশীল হবে, এটাই প্রত্যাশিত।