মনোনয়ন পরিবর্তন : নৌকা পেলেন খোকন

265

নিজস্ব প্রতিবেদক:
দিনভর নাটকীয়তার পর নৌকার মাঝি বদলে বৈঠা হাতে পেলেন চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গির আলম মালিক খোকন। তিনি চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পাঁচবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর। চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে পৌর আওয়ামী লীগ থেকে তাঁর নামও প্রস্তাব করা হয়েছিল বলেও জানা গেছে। গতকাল সোমবার সকাল ১০টার দিকে পত্রিকা অফিসে প্রথম একটি ফোন আসে। জানতে চাওয়া হয়, আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পরিবর্তন করা হয়েছে কি না। এরপর একে একে বেশ কয়েকটি ফোন, ফোনে একই সংবাদ জানতে চাওয়া হয়। ঠিক তারপরই জাহাঙ্গির আলম মালিক খোকনকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে এমন খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় ধোঁয়াসার। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গসহযোগী সংগঠনের দুটি গ্রুপের নেতৃবৃন্দের মধ্যে চলতে থাকে পোস্টের মাধ্যমে জল্পনা-কল্পনার এক নাটকীয়তা। লক্ষ্য করা যায়, একে একে পাল্টাপাল্টি পোস্টের সংখ্যা বাড়তে থাকছে। সাধারণ মানুষের মাঝে সৃষ্টি হয় আগ্রহ আর উদ্দীপনার। গত ২৮ তারিখ সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটনকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। ২৯ তারিখ তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলায় ফিরে আসলে দলীয় নেতা-কর্মীরা তাঁকে সংবর্ধনা ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে থাকেন। কিন্তু হঠাৎ করেই কীভাবে দলীয় মনোনয়ন পরিবর্তন করা হলো, সেই প্রশ্ন জাগতে থাকে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
এই ধোঁয়াসার সমাপ্তি ঘটার আগেই শহরে খোঁজ হতে থাকে ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গির আলম মালিক খোকনকে। কিছুক্ষণের জন্য গুজব ছড়িয়ে পড়ে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে বিকেলের দিকে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে তিনি অবস্থান করছেন বলে জানা যায়। সত্যিই কি তিনি মনোনয়ন পেয়েছেন, নাকি আওয়ামী লীগ মনোনয়ন পরিবর্তন করেনি, এমন অনেক প্রশ্ন জন্মাতে থাকে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
সকল প্রশ্নের উত্তর জানা যায় সন্ধ্যার দিকে। সন্ধ্যায় হঠাৎ দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে উপস্থিত হতে দেখা যায় জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক নঈম হাসান জোয়ার্দ্দারকে। সমস্ত জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গির আলম মালিক খোকনকে সাথে নিয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে নৌকার স্লোগানে বের হন নঈম হাসান জোয়ার্দ্দার ও নেতা-কর্মীরা। তখন পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায় চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পরিবর্তন করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম জানান, ‘কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও সংসদ সদস্য বাহাউদ্দীন নাসিম আমাকে ফোন করেছিলেন। তিনি ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গির আলম মালিক খোকনের সাথে যোগাযোগ করতে না পারায় তাঁকে খুঁজে কথা বলিয়ে দেওয়ার জন্য আমাকে বলেন। আমি ২০ মিনিটের মধ্যে ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গির আলম মালিক খোকনকে আমার অফিসে নিয়ে আসি এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও সংসদ সদস্য বাহাউদ্দীন নাসিমের সাথে কথা বলিয়ে দিই। আমিও তখন জানতে পারি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও সংসদ সদস্য বাহাউদ্দীন নাসিম, কাউন্সিলর জাহাঙ্গির আলম মালিক খোকনকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।’
৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গির আলম মালিক খোকনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ‘দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে কথা সঠিক। আজই দলের সভানেত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে নৌকা মনোনয়ন দিয়েছেন বলে আমি মুঠোফোনে জানতে পেরেছি। আমাকে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করার জন্য বলা হয়েছে। তবে ঢাকায় যেতে না পারলেও আমার পক্ষে দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করা হচ্ছে।’ জাহাঙ্গির আলম মালিক খোকন আরও বলেন, ‘দল আমাকে মনোনিত করেছেন। আমি দলের প্রতি কৃতজ্ঞ। এখন দলের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি মেয়র নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হয়ে অংশগ্রহণ করব।’
কাউন্সিলর হিসেবে এবারে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গির আলম মালিক খোকন বলেন, ‘পৌর আওয়ামী লীগের কাছে আমি দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলাম। তা সত্ত্বেও আমি ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পাঁচবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর। সে ওয়ার্ডে আমার জনপ্রিয়তা আছে। তাই আমি ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে জেলা নির্বাচন অফিস থেকে মনোনয়ন উঠিয়েছিলাম। তবে তা এখনো জমা দিইনি।’