‘ভালোবাসি’ বলার দিন আজ

103

চুয়াডাঙ্গায় ফুলের দোকানগুলোতে তরুণ-তরুণীদের ভিড়
নিজস্ব প্রতিবেদক:
আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি, ভালোবাসার দিন। বিশ্ব ভ্যালেন্টাইনস ডে বা ভালোবাসা দিবস। আজ ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিনেই ভালোবাসা দিবস। বাঙালি মনের ভালোবাসাও আজ পবিত্র, ফুলে রাঙা আর বাসন্তী মোহে মুগ্ধ। ভালোবাসা দিবসে যুগলদের মনের উচ্ছ্বাস বাড়িয়ে দেবে কয়েকগুণ। শুধু তরুণ-তরুণী নয়, নানা বয়সের মানুষই ভালোবাসার এই দিনে একসঙ্গে সময় কাটাবেন। দিনটি পশ্চিমা সংস্কৃতির অনুষঙ্গ হলেও ভ্যালেন্টাইনস ডে বা ভালোবাসা দিবসে বাঙালি মনের ভালোবাসাও যেন পায় নতুন রূপ। আজকের এ ভালোবাসা শুধুই প্রেমিক আর প্রেমিকার জন্য নয়। মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী, ভাইবোন, প্রিয় সন্তান, এমনকি বন্ধুর জন্যও ভালোবাসার জয়গানে আপ্লুত হতে পারে সবাই। চলবে উপহার দেওয়া-নেওয়া। ভালোবাসা দিবস পালনে চুয়াডাঙ্গা শহরের ফুলের দোকানগুলো এখন জমজমাট। প্রিয়জনকে ফুল দিয়ে ভালোবাসার প্রকাশ ঘটাতে ফুলের দোকানগুলোতে তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যারাতে শহরের পোস্ট অফিসের সামনে ভ্রাম্যমাণ ফুলের দোকানগুলোতে ঘুরে এ দৃশ্য লক্ষ করা যায়। ফুল কিনতে আসা এক যুবকের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, ভালোবাসা দিবসে প্রিয়জনকে ফুল দিয়ে ভালোবাসা প্রকাশের জন্য তিনি ফুল কিনতে এসেছেন। ভালোবাসা শুধু তরুণ-তরুণীদের মাঝে নয়, সব বয়সের সব সম্পর্কের মানুষের জন্যই ভালোবাসা দিবস। যুবকটি তাঁর মাকে ফুল দিয়ে ভালোবাসার প্রকাশ ঘটাবেন বলে জানান। এক ফুল বিক্রেতার সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, ভালোবাসার দিবস উপলক্ষে দুই-তিন দিন আগ থেকেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তাদের কাছে যথেষ্ট পরিমাণ ফুল মজুত আছে। তরুণ-তরুণীরা বেশি ফুল কিনতে আসছে বলে জানান তিনি।
বিভিন্ন আয়োজন ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে সারা দিন ঘোরাঘুরি করে কাটাবে ভালোবাসার মানুষগুলো। তাদের পরনে লাল, নীল, সাদা, বেগুনি, গোলাপি বিভিন্ন রঙের পোশাক আর সাজসজ্জায় ভালোবাসার দিনটি যেন বর্ণিল রঙে রঙিন হয়ে উঠবে। অনেকের মতে, ফেব্রুয়ারির এ সময়ে পাখিরা তাদের জুটি খুঁজে বাসা বাঁধে। নিরাভরণ বৃক্ষে কচি কিশলয় জেগে ওঠে। তীব্র সৌরভ ছড়িয়ে ফুল সৌন্দর্যবিভায় পরিপূর্ণভাবে বিকশিত হয়। এ দিনে চকোলেট, পারফিউম, গ্রেটিংস কার্ড, ই-মেইল, মুঠোফোনের এসএমএস-এমএমএসে প্রেমবার্তা, হীরার আংটি, প্রিয় পোশাক, জড়াজড়ি করা খেলনা মার্জার অথবা বই ইত্যাদি শৌখিন উপঢৌকন প্রিয়জনকে উপহার দেওয়া হয়। নীল খামে হালকা লিপস্টিকের দাগ, একটা গোলাপ ফুল, চকোলেট, ক্যান্ডি, ছোট্ট চিরকুট আর তাতে দুছত্র গদ্য অথবা পদ্য হয়ে উঠতে পারে উপহারের অনুষঙ্গ।
ইতিহাসবিদদের মতে, দুটি প্রাচীন রোমান প্রথা থেকে এ উৎসবের সূত্রপাত। জানা যায়, এক খ্রিস্টান পাদ্রি ও চিকিৎসক ফাদার সেন্ট ভ্যালেনটাইনের নামানুসারে দিনটির নাম ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’ করা হয়। ২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি খ্রিস্টানবিরোধী রোমান সস্রাট গথিকাস আহত সেনাদের চিকিৎসার অপরাধে সেইন্ট ভ্যালেনটাইনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। মৃত্যুর আগে ফাদার ভ্যালেনটাইন তাঁর আদরের একমাত্র মেয়েকে একটি ছোট্ট চিঠি লেখেন, যেখানে তিনি নাম সই করেছিলেন ‘ফ্রম ইউর ভ্যালেনটাইন’। সেন্ট ভ্যালেনটাইনের মেয়ে এবং তার প্রেমিক মিলে পরের বছর থেকে বাবার মৃত্যুর দিনটিকে ভ্যালেনটাইনস ডে হিসেবে পালন করা শুরু করেন। ভ্যালেনটাইনস ডে সর্বজনীন হয়ে ওঠে আরও পরে, প্রায় ৪০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে।