ভারতে অপহরণ, রাতভর নির্যাতন শেষে ২ লাখে মুক্তি

161

দর্শনায় বকেয়া টাকা আদায়ে মাদক ব্যবসায়ীসহ সহযোগীকে অস্ত্রের মুখে
দর্শনা অফিস:
দামুড়হুদার পারকৃষ্ণপুরে গত মঙ্গলবার মাদক ব্যবসার জের ধরে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে দিনে দুপুরে অপহরণ করার ঘটনা ঘটেছে। অপহরণ হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন বেগমপুর ইউনিয়নের দোস্ত গ্রামের আমতলাপাড়ার শাহবুদ্দিনের ছেলে আক্তার (২৫) ও তাঁর সহযোগী কাশেম। এ ঘটনায় দুজনের কাছ থেকে মুক্তিপণের টাকা আদায় ও মারধরের পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের দোস্ত গ্রামের আমতলাপাড়ার শাহাবুদ্দিনের ছেলে আক্তার (২৫) দর্শনা পুরাতন সিনেমা হলের সামনে সাইকেল ও ভ্যান-রিকশা মেরামতের আড়ালে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। আক্তারের রয়েছে মাদক ব্যবসার বেশ কয়েকজন সহযোগী। দীর্ঘদিন মাদকের কারবার করতে করতে ভারতের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগর থানাধীন বিজয়পুর গ্রামের ফেনসিডিলের মহাজন সুজিত দাসের নিকট মাদকের টাকা বকেয়া হয় তাঁর। এরপর সুজিতের সঙ্গে লেনদেন বন্ধ করে অন্য মহাজনের সঙ্গে রমরমা মাদক ব্যবসা চালিয়ে যান তিনি। এতে আগের মহাজন সুজিত মাদকের টাকা না পেয়ে পাওনা টাকা আদায় করতে দামুড়হুদা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার বেশ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে হাত করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে দর্শনা বাসস্ট্যান্ড যাত্রী ছাউনীর সামনে থেকে আক্তার ও কাশেমকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়। ভারতের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগর থানাধীন বিজয়পুর গ্রামের ফেনসিডিলের মহাজন সুজিত দাস, দামুড়হুদার পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের ঝাঝাডাঙ্গা গ্রামের কাতব আলীর ছেলে স্বপন, মোংলার ছেলে ইজিবাইক চালক ও মাদক ব্যবসায়ী জুুয়েল এবং তাঁর ভাই সোহেল, ফটিকের ছেলে তরিকুল ওরফে তরি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে জানা যায়।
এরপর আক্তার ও কাশেমকে নাস্তিপুর নদীর ওপারে বাংলাদেশ সীমান্তে পার করে সীমান্তের ভারত অংশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে টাকা আদায়ের জন্য তাঁদেরকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পিস্তল দিয়ে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় এবং রাতভর নির্যাতন করা হয়। পরদিন বুধবার দুপুরে মুক্তিপণ হিসেবে নগদ ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ও একটি ব্যাটারিচালিত পাখিভ্যান, মোট আনুমানিক ২ লাখ টাকা পাওয়ার পর তাঁদের মারধর করে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় আক্তারের শরীরের বিভিন্ন স্থান হাঁসুয়ার কোপে রক্তাক্ত জখম ও কাশেম গুরতর আহত হন।
এ অপহরণ ঘটনায় জড়িত স্বপন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আক্তারের কাছে মাদক কেনাবেচার ৩ লাখ টাকা পান ভারতের সুজিত দাস। এ টাকা আদায়ে আক্তার ও কাশেমকে দর্শনা বাসস্ট্যান্ড থেকে ধরে আনা হয়। এরপর তাঁদের ভারত সীমান্তে সোহেলের বাড়িতে নেওয়া হয়। পরে সোহেলের বাড়ি থেকে সীমান্তের ভারত অংশে নিয়ে তাঁদেরকে মারধর করা হয়। এ সময় রাত দেড়টার দিকে আক্তার ও কাশেম পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করে। তবে তাঁরা ব্যর্থ হলে আবার সোহলের বাড়িতে জিম্মি থাকে।