ভারতের সুপ্রিম কোর্টে ফেলানী হত্যা মামলার শুনানি শুরু

14

সমীকরণ প্রতিবেদন
ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে নৃশংসভাবে খুন হওয়া বাংলাদেশের কিশোরী ফেলানী হত্যা মামলা আপিল শুনানির আবেদন অবশেষে আজ শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে উঠেছে। প্রাথমিক শুনানির পর সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচুড় এবং বিচারপতি কে এম যোশেফের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এই আপিলের শুনানি গ্রহণ করে আগামী ১৮ মার্চ পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন। গত ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে কলকাতার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ বা মাসুম’এর সম্পাদক কীরিটি রায় এবং ফেলানীর বাবা মো. নূর ইসলাম ফেলানী হত্যা মামলার রায় পুনর্বিবেচনার জন্য ভারতের সুপ্রিম কোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। রিট আবেদনে বিবাদী করা হয় ভারত সরকারের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের মুখ্য সচিব, বিএসএফের মহাপরিচালক এবং সিবিআইর পরিচালককে। আজ শুক্রবার বিকেলে কীরিটি রায় প্রথম আলোকে জানান, ওই রিটটি দীর্ঘদিন তালিকায় থাকলেও তা শুনানির জন্য এত দিন উপস্থাপিত হয়নি। তবে সুপ্রিম কোর্ট থেকে এর আগে মামলার বিবাদী পক্ষকে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) যে জওয়ানের গুলিতে ১৫ বছরের ফেলানীর মৃত্যু হয়েছিল, সেই অমিয় ঘোষ নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। বিএসএফের বিশেষ আদালত তাঁকে বেকসুর খালাস দেন। এ নিয়ে হইচই হলে বিএসএফের রায় পুনর্বিচার করার সিদ্ধান্ত হয়। পুনর্বিচারেও অমিয় ঘোষকে দোষী সাব্যস্ত করা যায়নি। এরপর ভারতের সুপ্রিম কোর্টে ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হয়।
২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভোরে ভারতীয় দালালদের সহায়তায় কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর অনন্তপুর সীমান্ত দিয়ে বাবা নুরুল ইসলামের সঙ্গে বাড়ি ফিরছিল ফেলানী। মই দিয়ে কাঁটাতারের বেড়া পার হওয়ার সময় বিএসএফের সদস্য অমিয় ঘোষের গুলিতে ফেলানী মারা যায়। এরপর তার দেহ অন্তত পাঁচ ঘণ্টা কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলে থাকে। কাঁটাতারে ঝুলে থাকা কিশোরী ফেলানীর লাশ আলোড়ন তুলেছিল দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকারকর্মীদের সমালোচনার মুখে ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কোচবিহার জেলার বিএসএফের বিশেষ আদালতে ফেলানী হত্যার বিচারকাজ শুরু হয়। অথচ এক মাস না পেরোতেই ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত অমিয় ঘোষকে বেকসুর খালাস দেন বিএসএফের বিশেষ আদালত। এরপর থেকে আইনি লড়াই চলছে।