ভারতের দম্ভ বিচূর্ণ

21

সমীকরণ প্রতিবেদন:
বিশ্বকাপের ইতিহাসে অবিশ্বাস্য এক প্রত্যবর্তনের জন্ম দিতে যাচ্ছিল মাহেন্দ্র সিং ধোনি আর রবীন্দ্র জাদেজা জুটি। ধ্বংসস্তুপ থেকে বেরিয়ে ভারত দেখছিল নাটকীয় এক জয়ে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন। কিন্তু বিরাট কোহলির দলের সেই স্বপ্ন চূর্ণ করে টানা দ্বিতীয় বারের মত বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে নিউজিল্যান্ড। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে বিজয়ী দল। রিজার্ভ ডে’তে গড়ানো আসরের প্রথম সেমিফাইনালে গতকাল ভারতকে ১৮ রানে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। ২৪০ রানের লক্ষ্যে ৩ বল বাকি থাকতে ২২১ রানে গুটিয়ে যায় দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। গ্রুপ পর্বে একক আধিপত্যে সেরা দল হিসেবে তারা শেষ চারে পা রেখেছিল। কিন্তু ২০১১ সালে দেশের মাটিতে শিরোপা জয়ের পর টানা দ্বিতীয়বার সেমি-ফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হলো টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট দলটিকে। ম্যানচেস্টারের মেঘাচ্ছন্ন আকাশের নীচে ওল্ড ট্রাফোর্ড ক্রিকেট গ্রাউন্ডের মন্থর উইকেট, কিউই বোলারদের জন্য এক আদর্শ পরিবেশ যাকে বলে। এর পূর্ণ সুবিধা নিয়ে বল হাতে আগুন ঝরালেন ম্যাট হেনরি-ট্রেন্ট বোল্টরা। তাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে ভেঙে পড়ে ভারতের শক্তিশালী টপ অর্ডার। দলীয় ৫ রানে শীর্ষ তিন উইকেট হারানো ভারত ১০০ রানের আগেই ৬ উইকেট হারিয়ে ম্যাচে থেকে ছিটকে পড়ে।
এরপরই ধোনি-জাদেজার অবিশ্বাস্য ১১৬ রানের জুটি ম্যাচ করে তোলে রোমাঞ্চকর। শেষ ৩ ওভারে দরকার ছিল ৩৭ রান। ধীরে চলা নীতিতে ক্রিজে থাকা ধোনি সঙ্গ দিচ্ছিলেন রূদ্রমূর্তিতে থাকা জাদেজাকে। বোল্টের করা ওভারের পঞ্চম লেন্থ বল টাইমিং গড়বড়ে লং অফে ক্যাচ তুলে দেন জাদেজা। সেটাকে তালুবন্দি করতে ভুল করেননি দলপতি উইলিয়ামসন। এরপরও ভারতের আশা টিকে ছিল ক্রিজে ধোনি ধাকায়। ১২ বলে ৩১ রানের হিসাবের সামনে দাঁড়িয়ে লুকি ফার্গুসনের প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকান অভিজ্ঞ এই মিডল অর্ডার। এক বল বাদে দ্রুত দুই রান নিতে গিয়ে মার্টিন গাপটিলের দুর্দান্ত থ্রো ধোনির উইকেট ভেঙে দিলে ভারতের আশার সলতে নিভে যায়। মাত্র ৫ রানে দলের শীর্ষ তিন ব্যাটসম্যান রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি ও লোকেশ রাহুলকে হারিয়ে শুরুতেই ধাক্কা খায় ভারত। ১০ ওভারের প্রথম পাওয়ার প্লের মধ্যে দিনেশ কার্তিকও ফিরে গেলে স্কোরবোর্ড দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ২৪। ঋষব পন্ত আর হার্দিক পান্ডিয়ার প্রচেষ্টা থেমে যায় ব্যক্তিগত ৩২ রানে। এরপরই শুরু হয় ধোনি-জাদেজার লড়াই। আটে নেমে ওয়ানডে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ইনিংস খেলে আউট হওয়ার আগে জাদেজা করেন ৫৯ বলে চারটি করে ছক্কা-চারে ৭৭ রান। ধোনির ব্যাট থেকে আসে ৭২ বলে ৫০। এটিই হয়ত ভারতীয় সাবেক অধিনায়কের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।
কিউইদের হয়ে শুরুটা করেছিলেন ম্যাট হেনরি, রোহিতকে উইকেটে পিছনে ক্যাচ বানিয়ে। পরের ওভারে বোল্টের বলে লেগ বিফোর হয়ে যান দলের আরেক আস্থান নাম কোহলি। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি ভারত অধিনায়ক। পরের ওভারে আবারও হেনরির আঘাত। এবার উইকেটের পিছনে ক্যাচ রাহুলকে ক্যাচ বানান। দশম ওভারে কার্তিককেও ফেরান হেনরি। ম্যাচ থেকে তখনই মূলত ছিটকে যায় ভারত। চাপ থেকে বেরুনোর পথ রচনা করতে গিয়ে শট খেলে মিচেল স্যান্টনারের বলে আউট হন পন্ত (৩২) ও পান্ডিয়া (৩২)। এর আগে সকালটা শুরু করেছিলেন রস টেইলর ও টম লাথাম। আগের দিন বৃষ্টির কারণে যখন খেলা বন্ধ হয়ে যায় তখন তাদের সংগ্রহ ছিল ৫ উইকেটে ২১১। বাকি ৩.৫ ওভারে এদিন তারা তিন উইকেট হারিয়ে যোগ করে ২৮ রান। জাসপ্রিত বুমরাহ ও ভুবনেশ্বরের করা সেই প্রায় চার ওভার থেকে বাউন্ডারি এসেছে মাত্র একটি। আগের দিনও এই জুটি ভুগিয়েছিল কিউই ব্যাটসম্যানদের। শান্ত মেজাজে পরিস্তিতি সামাল দিয়ে দলকে একটা পর্যায়ে নিয়ে যান দুই আস্থাশীল ব্যাটসম্যান টেইলর ও উইলিয়ামসন। আগের দিনই ৬৭ রান করে থামেন উইলিয়ামসন। ৬৭ রানে রিজার্ভ ডে শুরু করা টেইলর থামেন ব্যক্তিগত ৭৪ রানে। ততক্ষণে লড়াইয়ের মত যথেষ্ট পুঁজি জমে গেছে স্কোরবোর্ডে। বাকিটা তো কিউই বোলারদের রূপকথার গল্প।