ভাইকে বাঁচাতে যেয়ে বোনও অসুস্থ!

77

আলমডাঙ্গার বলেশ্বরপুরে পুকুরে ডুবে শিশুর করুণ মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিবেদক:
আলমডাঙ্গার বলেশ্বরপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে তাফসির হোসেন (৭) নামের এক শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। এ সময় তাফসিরকে পানি থেকে টেনে তুলতে যেয়ে পুকুরের মধ্যে পড়ে গুরুতর অসুস্থ হয়েছে ছোট বোন রিমা আক্তার (৫)। গতকাল রোববার বেলা তিনটার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলার আইলহাঁস ইউনিয়নের বলেশ্বরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে রিমার মা ও স্থানীয় লোকজন দুজনকে পুকুরের পানি থেকে তুলে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়। এ সময় জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক রিমাকে চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি রাখেন এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাফসিরকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত তাফসির হোসেন বলেশ্বরপুর গ্রামের উত্তরপাড়ার মাসেম আলীর ছোট ছেলে ও বলেশ্বরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র এবং রিমা আক্তার মাসেম আলীর ভাই রহমান আলীর মেয়ে। দুজনের কেউই সাঁতার জানত না।
জানা যায়, গতকাল রোববার দুপুরে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে তাফসির ও রিমা দুই ভাই-বোন বাড়ির সামনের রাস্তার ওপারে খেলা খেলতে যায়। খেলার ছলে উজির মিয়ার পুকুর পাড়ে গেলে তাফসির পুকুরের মধ্যে পড়ে যায়। সাঁতার না জানায় পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছিল সে। এ সময় রিমা তাফসিরের হাত ধরে টেনে তুলতে গেলে সেও পানিতে পড়ে যায়। এ ঘটনা দেখতে পেয়ে একই এলাকার রহিমা (১০) নামের এক শিশু দৌঁড়ে যেয়ে রিমার মাকে খবর দেয়। রিমার মা দ্রুত এসে রিমাকে পানিতে হাবুডুবু খেতে দেখে পানি থেকে টেনে তোলে। দুই-এক মিনিট পর রিমা চেতনা ফিরে পেয়ে তাফসির ডুবে গেছে বললে স্থানীয় ব্যক্তিরা পানিতে নেমে তাফসিরকে হাতরিয়ে খুঁজে উপরে তোলেন। পরে দুজনকেই চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাজিদ হাসান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাফসিরকে মৃত ঘোষণা করেন ও গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শিশু রিমাকে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রাখেন।
সদর হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রিমা জানাই, ‘আমি আর তাফসির ভাইয়া খেলতে গিয়েছিলাম। পুকুরের ধারে গেলে তাফসির পানির মধ্যে পড়ে ডুবে যেতে থাকে। হাত বাড়িয়ে ওকে টেনে তুলতে যেয়ে আমিও পুকুরের মধ্যে পড়ে ডুবে যায়। তারপরে আর কিছু আমার মনে নেই।’
এ বিষয়ে ডা. সাজিদ হাসান বলেন, বিকেল চারটার দিকে পরিবারের সদস্যরা দুটি শিশুকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। দুজনের মধ্যে হাসপাতালে নেওয়ার পূর্বেই তাফসির নামের শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। রিমা নামের অপর শিশুটিও অনেকটা পানি খেয়ে ফেলে, তাকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রাখা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শামীম কবির বলেন, পুকুরের পানিতে ডুবে তাফসির নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় আরও এক শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্ষার সময় বসতবাড়ির আশপাশের ছোট গর্ত বা পুকুরে অনেক পানি জমে যায়। এ সময় অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। বাড়ির পাশে পুকুর বা জলাশয় থাকলে সেখানে বেড়া দেওয়া উচিত। পানি থেকে উদ্ধারের পর শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাসের জায়গাগুলো পরিস্কার করে স্বতঃস্ফূর্ত রাখা উচিত। আর শিশুদের অবশ্যই সাঁতার শেখানো উচিত।
এদিকে, গতকাল মাগরিবের নামাজের পর জানাজা শেষে বলেশ্বরপুর গ্রামের পুরাতনপাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে নিহত শিশু তাফসিরের দাফনকার্য সম্পন্ন হয়।